আলোচিত, প্রযুক্তি

মঙ্গল খুঁড়ে দেখবে ইনসাইট

মঙ্গল গ্রহে সোমবার অবতরণ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মানুষবিহীন রোবট মহাকাশযান ‘ইনসাইট’। লালগ্রহের বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ থেকে শুরু করে মাটিতে অবতরণ পর্যন্ত যানটি ৭ মিনিট সময় নিয়েছে। নাসার ইতিহাসে মঙ্গলে অষ্টম সফল অবতরণের ঘটনা এটি। মঙ্গল পৃষ্ঠের গভীরে নিরীক্ষা চালাতে এটিকে পাঠানো হয়েছে।

 

 

২০১৮ সালের ৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের ভ্যান্ডেনবার্গ এএফবি থেকে ‘ইনসাইট’কে মঙ্গল গ্রহের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। অবতরণের ৬ মিনিট পর যানটি মঙ্গলের প্রথম ছবি পৃথিবীতে পাঠায়। ফিশ আই ভিউয়ে তোলা ছবিটি হাতে পেয়ে এবং সাত বছরের পরিশ্রম সফল হওয়ায় উচ্ছ্বসিত নাসার কর্মীবাহিনী। প্রতিষ্ঠানটির চিফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জেমস ব্রাইডেনস্টিন দিনটিকে অসাধারণ বলে অভিহিত করেছেন। এ সাফল্যের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোন করে নাসা টিমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। জেট প্রপালশন ল্যাবের পরিচালক মাইক ওয়াটকিনস তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন, “বিজ্ঞানচর্চায় আমাদেরকে সাহসী ও অনুসন্ধানী হতে হবে”।

 

 

এই মুহুর্তে ইনসাইট রয়েছে মঙ্গলের বিষুব রেখার কাছে ‘ইলিসিয়াম প্ল্যানিশিয়া’ নামের একটি জায়গায়, যাকে নাসা গ্রহটির ‘সবচেয়ে বড় পার্কিং স্পেস’ বলছে।

 

পৃথিবীর মতো লালগ্রহ মঙ্গলের ধুলোময় মাটিও ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে। এবার ইনসাইটের সাহায্যে এই কম্পনকে নিরীক্ষা করেই নাসার বিজ্ঞানীরা চাইছেন এখনো অচেনা আমাদের এ বিরান প্রতিবেশীর ভেতরের গঠন জানতে। মঙ্গলের ভূমিকম্প থেকে তৈরি হওয়া তরঙ্গ বিশ্লেষণ করে গ্রহটির পাথুরে মাটির গঠন উন্মোচন করা হবে। কাজটি করা হবে এতে পাঠানো দুটি ডিভাইস দিয়ে, যা থেকে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারবেন যে, এই লালগ্রহ পৃথিবী থেকে কতটা আলাদা।

 

 

ইনসাইটের লক্ষ্য, মঙ্গলের ভূমিকম্পের একটি বিচ্ছিন্ন বিন্দু শনাক্ত করা। একে নাসা একটি ফ্ল্যাশ বাল্ব বলে বর্ণনা করেছে। এটি পর্যবেক্ষণ করে গ্রহটির অভ্যন্তরের কাঠামো বুঝতে পারবেন বিজ্ঞানীরা। এ কাজে ব্যবহৃত ডিভাইসগুলোর একটি হলো সিসমোমিটার। মহাকাশযানটি অবতরণ করার পর এর রোবোটিক বাহু মঙ্গলের মাটিতে এটি বসাবে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, মিশন চলাকালে প্রায় এক শ’টি ভূমিকম্প হবে। অধিকাংশ ভূমিকম্পই রিখটার স্কেলে ৬ এর নিচে হবে। ভূমিকম্পে সৃষ্ট সিসমিক তরঙ্গ কিভাবে মঙ্গলের মধ্য দিয়ে যায় তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। ধারণা করা হয়, পৃথিবী ও মঙ্গল চার শ’ ৫০ কোটি বছর আগে একই প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়েছে। মঙ্গলের অভ্যন্তরীণ গঠন জানা গেলে তা পৃথিবীর গঠনের সঙ্গে তুলনা করবেন বিজ্ঞানীরা। বের করতে চেষ্টা করবেন গ্রহদুটির জন্মরহস্য।

 

দ্বিতীয় ডিভাইসটি নিজস্ব হ্যামারিং ব্যবহার করে মঙ্গলের পৃষ্ঠের তাপের প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করবে। এটি মঙ্গল গ্রহের ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৬ ফুট গভীর পর্যন্ত খুঁড়তে সক্ষম।

 

আর তৃতীয় ডিভাইস হল মারকো নামের দুটি ব্রিফকেস আকৃতির স্যাটেলাইট। এ দুটি ইনসাইটের পেছন পেছন যাবে এবং মঙ্গলের কক্ষপথে উড়তে থাকবে। পৃথিবী ও ইনসাইটের মাঝে যোগাযোগ রক্ষার কাজ করবে স্যাটেলাইট দুটো।

 

 

ইনসাইট নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৯৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এবারের এ মিশনকে ২০৩০ সালের দিকে মঙ্গল গ্রহে মানুষবাহী যান পাঠানোর প্রস্তুতি হিসেবেও দেখছে নাসা।

 

 

মাহা/হাজা/ফই

Comments are closed.

LIVE
Play
অ্যাডভেনচারের নেশায় | পর্ব ৩
অ্যাডভেনচারের নেশায় | পর্ব ২
অ্যাডভেনচারের নেশায় | পর্ব ১
দু’টি মসজিদের হারিয়ে যাওয়া