আলোচিত, প্রযুক্তি

বর্জ্য নিয়ে বিপদে যুক্তরাষ্ট্র

বর্জ্য পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করে তোলা (রিসাইকেলিং) শুনতে দারুণ। কিন্তু বর্জ্য যদি তৈরি হতেই থাকে বা এর পরিমাণ যদি বাড়তেই থাকে, তবে বিপদ ঠেকানো মুশকিল। এরই মধ্যে বিপদ টের পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে প্রতিবছর যে পরিমাণ আবর্জনা জমছে, তা ফেলার জায়গা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

 

এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্জ্য পুনর্ব্যবহার সংক্রান্ত দায়-দায়িত্ব ছিল চীনের ওপর। বছরের পর বছর ধরে প্রতিদিন ৪ হাজার শিপিং কন্টেইনার ভর্তি করে যুক্তরাষ্ট্রের পুনরায় ব্যবহারের যোগ্য বর্জ্য আমদানি করে আসছিলো চীন। ১৯৯২ সাল থেকে চীন ও হংকং পৃথিবীর মোট উৎপাদিত প্লাস্টিক বর্জ্যের ৭২ শতাংশই আমদানি করেছে। পৃথিবীর আর কোনো দেশই এত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা রাখে না।

 

কিন্তু চীন আর রিসাইকেলিং নিয়ে আগ্রহী নয়। ২০২০ সালের মধ্যে দেশটি বাইরে থেকে বর্জ্য নিয়ে রিসাইকেলিং করা বন্ধ করবে। সম্প্রতি দেশটি নতুন এক নীতিমালা প্রণয়ন করেছে, যার মাধ্যমে সেখানে ২৪ ধরণের কঠিন আবর্জনা আমদানি এ বছর থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এগুলোর বেশিরভাগই কাগুজে ও প্লাস্টিক বর্জ্য। তারপর থেকেই বর্জ্য নিয়ে চোখে সর্ষে ফুল দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।

 

এখানেই শেষ নয়। গত এপ্রিলে চীন জানিয়েছে, তারা ৩২ ধরণের স্ক্র্যাপ মেটাল বর্জ্য আমদানিও নিষিদ্ধ করবে। এই সব নিষেধাজ্ঞা আগামী বছরের মধ্যে আধাআধি এবং ২০২০ সালের মধ্যে পুরোপুরি কার্যকর হবে।

 

বর্জ্য পুনর্ব্যবহার নিয়ে চীনের এমন বেঁকে বসার কারণ হল, পৃথিবীতে এত বিপুল পরিমাণ বর্জ্য রিসাইকেল করার মতো স্থান আর খালি নেই। শুধু যুক্তরাষ্ট্রই বিপদে পড়েনি। কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন আর ইউরোপের কিছু অংশেও চীনের নতুন নীতিমালার প্রভাবে পড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিই চূড়ান্ত হলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১১১ মিলিয়ন মেট্রিক টন আবর্জনার পাহাড় তৈরি হবে, যা রাখার বা ব্যবস্থাপনার জায়গা থাকবে না।

 

প্রকৃতিতে মিশে যেতে প্লাস্টিকের সময় লাগে ৪৫০ বছর। ১৯৫০ সাল থেকে আমরা প্লাস্টিক উৎপাদন করে আসছি। এর উৎপাদন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয় গ্রিনহাউজ গ্যাস, যা ঘটাচ্ছে গ্লোবাল ওয়ার্মিং। উৎপাদিত প্লাস্টিকের ৬০ শতাংশই এখনো পৃথিবীতে টিকে আছে। কারণ রিসাইকেল বিনে বর্জ্য ফেললেই তো তা রিসাইকেলড হয়ে যায় না। বরং সেগুলো রিসাইকেলিং প্লান্টে নিয়ে প্রক্রিয়া করতে হয় এবং সেখান থেকে নতুন কোনো পণ্য উৎপাদন করে বাজারে আনতে হয়। এরপর সেটা যদি কেউ আবার কেনে তাহলেই তা হয় পুনর্ব্যবহার। সেক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ বর্জ্যই রিসাইকেল করা হয় না বলে জানা গেছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি এতই বিশৃঙ্খল যে, প্লাস্টিক আর কাগজ আলাদা না করেই সেগুলো মাটি ভরাটের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে ঘটছে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ। এখন বর্জ্য উৎপাদনকারী জনসাধারণ যদি ঘরবাড়িতেই তাদের বর্জ্যগুলো পুনর্ব্যবহার শুরু না করে তাহলে এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি নেই। রিসাইকেলিং নাকি রিডিউসিং (বর্জ্য উৎপাদন হ্রাস করা), তা নিয়েও সিদ্ধান্তে আসতে হবে সবাইকে।

মাহা/শাই/মাও
LIVE
Play
সেন্ট মার্টিন’স-এ পর্যটক নিয়ন্ত্রণ কেন জরুরি
একনজরে মুহাম্মাদ সা.
আমি এখনো আপনার গান শুনছি
ঢাকার ইতিহাস: জীবনদায়ী মিটফোর্ড হাসপাতাল