আলোচিত, প্রযুক্তি, বিচিত্র বিশ্ব

মুরগির পৃথিবী

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জঙ্গলের প্রাণী বনমোরগ। আজ থেকে ৮ হাজার বছর আগে পাখিটিকে পোষ মানানো হয়। ডিম ও মাংস খাওয়ার জন্য অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষ পাখিটিকে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেয়। এখনেই শেষ হয়নি কুক্কুট পক্ষীর ইতিহাস।

 

১৯৫০ সালে শুরু করা হয় ‘চিকেন অফ টুমরো প্রোগ্রাম’। বেশি মাংস আর বেশি ও বড় ডিম উৎপাদনের জন্য পাখিটিকে বড় করে তোলার চেষ্টা শুরু হয় তখন। তাই আজ আমরা পেয়েছি নানা জাতের বড় মোরগ-মুরগি। আমাদের প্রয়োজনে আমরা অনেক বদলে ফেলেছি প্রজাতিটিকে। লন্ডনের একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে পাওয়া মুরগির হাড়ের সঙ্গে তুলনা করে দেখা গেছে, আমাদের এখনকার পরিচিত মুরগি তার পূর্বসুরিদের থেকে অনেকাংশে বদলে গেছে।

 

 

প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তনে সময় লাগে মিলিয়ন মিলিয়ন বছর। কিন্তু মানুষের কৃত্রিম নির্বাচনের খপ্পরে পড়ে কয়েক দশকেই বদলে গেছে মোরগ-মুরগি। কিন্তু মানুষ শুধুমাত্র এর জেনেটিক গঠনই বদলে দেয়নি, আমাদের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে প্রাণীটির আর শুধুমাত্র প্রাকৃতিকভাবে জন্মালে চলছে না আমাদের। আমরা তাই মুরগির চাষ করি, উৎপাদন করি। পৃথিবীজুড়ে মোরগ-মুরগির সংখ্যা এখন ২৩ বিলিয়ন। অন্য যেকোনো পাখি প্রজাতির জীবিত সদস্যদের চেয়ে এ সংখ্যা অনেক অনেক বড়। অস্বাভাবিক সংখ্যায় প্রাণীটির উপস্থিতি পৃথিবীর পরিবেশও পাল্টে দিচ্ছে, বলেছেন বিজ্ঞানীরা। বলা যেতে পারে, আমরা মুরগির পৃথিবীতে বাস করছি।

 

২০১৪ সালে পৃথিবীজুড়ে ৬৫.৮ বিলিয়ন মোরগ-মুরগি হত্যা করা হয়েছে। ২৫ হাজার ৫০০ ফুডশপে জনপ্রিয় ফ্রাইড চিকেন ব্র্যান্ডের হয়ে মানুষের পেটে গেছে তারা। মাংস উৎপাদনকারী মোরগ-মুরগীর ৭০ শতাংশই ফার্মে উৎপাদিত, যাদের পৃথিবীর আলো দেখার অধিকার আমরা দিয়েছি ৫ থেকে ৭ সপ্তাহ।

 

 

প্রকৃতির ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ বাড়ছে। পৃথিবীর ভূমির গঠন, সাগর-মহাসাগর, বায়ুমণ্ডল সব পাল্টে ফেলতে পারি এখন আমরা। আজকের মুরগি হতে পারে প্রকৃতির ওপর আমাদের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতীক। দূরভবিষ্যতের কোনো প্রত্নতাত্বিক যখন আমাদের আজকের সময়কে খুঁজে ফিরবে, আমাদের নিদর্শন হিসেবে কোমল পানীয়র ক্যান, কাঁচের বোতল, সর্বগ্রাসী প্লাস্টিক ইত্যাদির পাশাপাশি মুরগির হাড্ডিও খুঁজে পাবে অবশ্যই।

 

মাহা/তুখ/মাও
LIVE
Play
অ্যাডভেনচারের নেশায় | পর্ব ৩
অ্যাডভেনচারের নেশায় | পর্ব ২
অ্যাডভেনচারের নেশায় | পর্ব ১
দু’টি মসজিদের হারিয়ে যাওয়া