বাংলাদেশ

কলাবাগান মাঠে পূজা মণ্ডবের বিষয়ে ডিএসসিসির ব্যাখ্যা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠ আসন্ন দুর্গাপূজা উদযাপনে জন্য ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি।

শুক্রবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ধানমন্ডি সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটি।

সংবাদ সম্মেলনে পূজা উদযাপন কমিটি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করেছে বলে অভিযোগ করেছে ডিএসসিসি। শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ অভিযোগ করা হয়।

এতে বলা হয়, সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের মাধ্যমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপপ্রয়াস সুস্পষ্ট। সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক বৈষম্য সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারাবিশ্বে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল ও অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের এ ধরনের বক্তব্য স্বার্থান্বেষী মহলের ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য সাধন ও চাঁদাবাজির ইচ্ছা পূরণের নামান্তর বলেও ডিএসসিসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমতিপত্র থাকার পরও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অসহযোগিতার কারণে পূজা উদযাপন করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করা হয়।

ডিএসসিসি বলেছে, মন্ত্রণালয় হতে পূজা উদযাপন কমিটির পূজা উদযাপনকালে কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠ ও মাঠের স্থাপনাসমূহের কোনোপ্রকার ক্ষয়ক্ষতি না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে—এমন শর্তসাপেক্ষে পূজা আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এটা উল্লেখ করেননি। এর ফলে আংশিক তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সার্বিক অবস্থানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।


এছাড়া মন্ত্রণালয় অনুমতির শর্তে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাছে যে চিঠি পাঠিয়েছে, সেই শর্ত পূরণে অর্থাৎ পূজা উদযাপনের সময় কোনও ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলে তার যথার্থ ক্ষতিপূরণ/জরিমানা দেওয়া হবে—এমন নিশ্চয়তা দিয়ে কমিটির পক্ষ হতে এখন পর্যন্ত দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাছে কোনও আবেদনও করা হয়নি।

ডিএসসিসি বলছে, কলাবাগান মাঠ ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় ২০১৮ সাল থেকে একটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় কলাবাগান মাঠের উন্নয়ন, মাঠ হতে ধানমন্ডি-৩২ ও ধানমন্ডি হ্রদের পানসি রেস্তোরাঁ পর্যন্ত পথচারীদের হাঁটার পথ (ফুটপাত), মাঠের চারপাশে নর্দমা (ড্রেনেজ) ব্যবস্থা ও হ্রদের পাড়ে হাঁটার পথ (ওয়াক ওয়ে) নির্মাণ, মাঠে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার জন্য সুবিধা সংবলিত অনুষঙ্গ সৃষ্টি এবং অনুশীলনের জন্য জাল (নেট) স্থাপন ইত্যাদি বহুবিধ কর্মযজ্ঞ চলমান।

ডিএসসিসি আরও জানায়, ২০১৮ সালে প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার পর ২০১৯ সালে কলাবাগান মাঠে ক্ষয়ক্ষতি না করা এবং ক্ষয়ক্ষতি হলে তার যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার শর্তে দুর্গাপূজা আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু মাঠের যে অংশে দুর্গাপূজা আয়োজন করা হয়, সেই অংশের ঘাস সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যায়।

পূজা আয়োজনে খোঁড়াখুঁড়ির ফলে মাঠ ভরাটে ব্যবহৃত বালি সরিয়ে ফেলায় মাটির নিচের খোয়া বেরিয়ে আসে। মাটির নিচে স্থাপিত বিশেষ পাইপ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুরো মাঠ জুড়ে ময়লা-আবর্জনায় ভরে ওঠে। সামগ্রিকভাবে সে সময় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৫ লাখ টাকা। এর ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে মর্মে মুচলেকা দেওয়া হলেও কমিটি কোনও ধরনের ক্ষতিপূরণ দেয়নি।


বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০১৯ সালের পূজা আয়োজন এবং আয়োজনজনিত কলাবাগান মাঠের ক্ষয়ক্ষতি সাধনের পরও কোনও ধরনের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। রগরগে অভিজ্ঞতা ও কমিটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রশ্নবিদ্ধ দায়িত্বশীলতার কারণে তাদের লিখিত কিংবা মৌখিক মুচলেকা কিংবা অঙ্গীকারনামায় ভরসা রাখা যায় ন।

এতে আরও বলা হয়, করোনাকালীন পূজা আয়োজনে গত ৫ অক্টোবর ধর্ম মন্ত্রণালয় হতে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়, তাতে মন্দিরগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত বিষয়াবলি উল্লেখ করা হয়। ফলে উন্মুক্ত স্থানে পূজা আয়োজনের বিষয়ে সরকারের তরফ হতে এখন পর্যন্ত শৈথিল্য দেখানো হয়নি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সংবাদ সম্মেলনে ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, কলাবাগান, হাজারীবাগ, মোহাম্মদপুর এলাকায় কোনও মন্দির নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের বক্তব্য পুরোপুরি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।

কারণ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য থাকাকালীন ধানমন্ডি ও হাজারীবাগ এলাকায় ৮টি মন্দিরের উন্নয়ন ও সংস্কার সম্পন্ন করেছেন। সুতরাং সংবাদ সম্মেলনে এ ধরনের তথ্য দেওয়া অশুভ উদ্দেশ্য সাধনের ইঙ্গিত বহন করে।

প্রকল্প চলাকালীন কলাবাগান মাঠে দেশের সংখ্যাগুরু মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঈদ জামাত আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলেও জানায় ডিএসসিসি। বাস্তবতা বিবেচনায় এবং মাঠ রক্ষায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরাও ওই মাঠে ধর্মীয় আয়োজন হতে বিরত থেকেছেন, যা অত্যন্ত সাধুবাদ যোগ্য বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

ডিএসসিসি বলছে, সব ধর্মের প্রতি সমব্যবহার নিশ্চিত করা এবং কোনও বিশেষ ধর্মের প্রতি পক্ষপাতিত্ব না দেখানোর মাধ্যমে যখন সাংবিধানে নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হচ্ছে, তখন এ ধরনের উসকানির পেছনে নানাবিধ রহস্য খেলা করছে বলে প্রতীয়মান হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চলমান এই উন্নয়ন প্রকল্প এ বছরের ডিসেম্বরে সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে এবং সেই মোতাবেক কার্যক্রম চলছে। এই প্রকল্পের আওতায় কলাবাগান মাঠ সংলগ্ন শিশুদের ‘কিডস জোন’ এর উন্নয়ন করা হচ্ছে।

সেখানে ২৯টি রাইড স্থাপন করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে কলাবাগান মাঠের পাশাপাশি ‘কিডস জোন’টিকে শহীদ শেখ রাসেল শিশু পার্ক নামে উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে ডিএসসিসির।

ফই//

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LIVE

অন্ধদের দৃষ্টি ফেরাবে বায়োনিক চোখ
আপনার ফোনে আড়ি পাতলে কিভাবে বুঝবেন?
দিলীপের পরকীয়ার যাতনা আমৃত্যু সয়েছেন সায়রা
গাঁজা সেবনকারীর মন ও মস্তিষ্কে কি ঘটায়?