ফিচার, ফিচার ও

আপনি কি অসুখী? বুঝবেন কিভাবে!

মানুষের কখন তার জীবনে সন্তুষ্ট বা সুখী থাকে তা বলা কঠিন। বেশিরভাগ সময়ে আমরা কারও মুখে হাসি দেখেই মনে করি সে সুখী। আবার কাউকে একা দেখলে আমরা ধরে নিই যে সে সুখী নয়। কিন্তু সেটি নাও হতে পারে। কখনও কখনও যারা নিজেকে অসুখী ভাবেন তারা নিজেরাই জানেন না কেন তারা অসুখী। এটি আসলে নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করা খুবই কঠিন।

যে সুখের পিছনে আমাদের এত দৌড়ঝাঁপ তার বেশিরভাগটাই নির্ভর করে আমাদের নিজস্ব ব্যক্তিত্ব, অনুভূতি, আবেগ এবং মনস্তাত্ত্বিক সত্ত্বার উপর। কিছু লক্ষণ দেখে বুঝে নিতে পারেন যে আপনি অসুখী। জেনে নিন সেসব লক্ষণ সম্পর্কে-

আপনি নিশ্চই অতীতে বসবাস করেনঃ

আমাদের অতীত আমাদের জীবনে এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যা আমাদের বর্তমানকে সম্ভব করে তোলে। ঠিক একইভাবে যদি আপনি নিজের অতীতের কোনো নেতিবাচক স্মৃতি বা ঘটনা নিয়ে পড়ে থাকেন তবে সেটি আপনার বর্তমানকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করে যা পরবর্তীতে আপনার ভবিষ্যতকেও চরমভাবে প্রভাবিত করে। এবং এই পুরো ব্যাপারটিই আপনাকে সময়ের সাথেসাথে ভীষণ অসুখী করে তোলে।

একটি বিষাক্ত শৈশব, একটি তিক্ত পৈশাচিক সম্পর্ক, একটি অপূরণীয় আর্থিক ক্ষতি, সবই এমন একটি পর্ব যা আপনার জীবনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত তো করবেই, সাথে মানসিকভাবেও আপনাকে দিনকেদিন পঙ্গু করে দিবে ক্রমান্বয়ে।

তাহলে ভাবুন, এই বাজে ঘটনাগুলো কি আপনার বর্তমান জীবনে টানা উচিত? একদম না। আপনি যা হারিয়েছেন তা কোনদিনই পরিবর্তন করতে পারবেন না সেটা যেমন খুব ভালোভাবে জানেন, ঠিক তেমনি আপনার অতীতের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আপনি চাইলেই আরও সুন্দর ভবিষ্যত গড়তে পারেন।

বিরক্তি পুষে রাখেনঃ

সময়ের সামগ্রীকতার সমন্বয়েই জীবন। সে জীবনে অনুশোচনা আর বিরক্তি থাকবেনা তা কি করে হয়! কিন্তু আপনি কি সবসময় বিরক্ত হতেই থাকবেন? সবকিছু থেকে আনন্দ, স্বাভাবিকতা মুছে ফেলবেন? তা কি করে হয়? এটাও ভীষণ বিরক্তিকর ব্যাপার। তাই বিরক্ত শব্দটাকেই মানসিকভাবে এড়িয়ে চলুন।

যারা আপনার সাথে দুর্ব্যবহার করেছে তাদের প্রতিশোধ নেওয়ার উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে থাকলে সেক্ষেত্রে কেবল আপনার সময়টাই শুধু নষ্ট হবে। সেকেন্ডের কাঁটার সাথে সাথে আপনার বিরক্তিটাই কেবল বাড়বে এবং এটি আপনাকে এমনভাবে গিলে খাবে যে আপনি নিজেই নিজেকে একজন বিরক্তিকর মানুষ হিসেবে পরিচিত করে তুলবেন। এই প্রতিশোধ প্রবণতার বৃথা চেষ্টা আপনার মানসিকতাকে এতোটা বিষিয়ে তুলবে এবং ঘৃণায় পূর্ণ করবে, যে কেউ আপনাকে আর উদ্ধার করার উপায়টুকুও পাবে না।

তাই এ ধরনের প্রতিশোধ প্রবণতার মানসিকতা ছেড়ে দিতে শিখুন। নিজের জীবনকে অগ্রাধিকার দিন, পরিকল্পনা করুন এবং আপনার স্বপ্ন অর্জনের লক্ষ্য রাখুন। আপনার অতীত যতই হতাশাজনক হোক না কেন, আপনি কীভাবে পৃথিবীতে পরিবর্তন আনতে পারেন সে সম্পর্কে চিন্তা করুন।

মানুষ কী বলবে তা নিয়ে ভীষণ চিন্তিত থাকেনঃ

মানুষ পৃথিবীতে একটা কাজই খুব সহজে এবং নির্দ্বিধায় করতে পারে আর তা হলো, অন্যের পেছনে কথা বলা। আপনি চাইলেও মানুষের এই চামড়ার মুখটাকে কিছুতেই আটকাতে পারবেন না। কয়জনের মুখে আপনি কুলুপ আঁটবেন? জনে জনে গিয়ে? পারবেন? এটা কি আদৌ কারো পক্ষে সম্ভব? নিশ্চই না।

ধরে নিন এটি জীবনেরই একটি অংশ। হয়তো অনেক সময় আপনি নিজেও এর চর্চা করে থাকেন। মানুষ আপনার সম্পর্কে কী বলবে তার ভিত্তি যদি আপনার আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন তবে বুঝবেন, আপনি আর আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই। 

একটি সমাজে নিয়ম-কানুন মেনে চলা যতটা গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক ততোধিক গুরুত্বপূর্ণ আপনার মনের কথা শোনা এবং আপনি যা সঠিক মনে করেন ঠিক তাই করা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আশপাশের মানুষের ওপর আপনি কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন বা পারছেন তা নিয়ে ক্রমাগত উদ্বিগ্ন হওয়া, তারপর মানুষ কী বলবে সেই ভয় পুষে রাখা আপনাকে কেবল অসন্তুষ্টই করবে। মানুষের পছন্দমতো চলা হয়তো আপনাকে সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে কিন্তু আপনার ব্যক্তিত্ব কীসে সন্তুষ্ট, সে প্রশ্ন নিজেকে একবার করে দেখুন।

সবকিছু আপনার নিয়ন্ত্রণে রাখতে চানঃ

সবকিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। আর এটাই স্বাভাবিক। এটাই সিস্টেম। তাই সবকিছু নিয়ে ভাবতে যাবেন না। আপনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে পারেন নিজেকে নিরাপদ রাখার, নিজের জীবনটা গোছানোর।

এমনকিছু বিষয় থাকে যা আমাদের নাগালের বাইরে। ভবিষ্যতের কিছু বিষয়ে আপনি চাইলেও পরিবর্তন আনতে পারবেন না। তাই সে বিষয়গুলো সময়ের হাতে ছেড়ে দিন।

কী ঘটতে যাচ্ছে, কীভাবে বিষয়গুলো উদ্ঘাটিত হচ্ছে তা নিয়ে চিন্তা করতে থাকলে আপনি আরও মানসিক চাপে ভুগবেন। আপনি নিজের বর্তমানকে বাঁচাতে ব্যর্থ হবেন এবং এমন সব সুন্দর জিনিস বা মুহুর্ত মিস করবেন যা প্রকৃতপক্ষেই আপনার জীবনে সুখ আনতে পারতো।

নিজের সিদ্ধান্তে আস্থা নেই এবং সব সময় নেতিবাচক ভাবেনঃ

মানুষের অনেকগুলো স্বভাবের মধ্যে ভুল করা একটি অন্যতম স্বভাব। ত্রুটিপূর্ণ হওয়াটা দোষের কিছু নয়। আপনার পছন্দ এবং সিদ্ধান্তগুলো যেকোনো দিকে যেতে পারে- হতে পারে ভালো অথবা খারাপ।

কিন্তু নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস না রাখলে, নিজেকে একটি বিশেষ সিদ্ধান্তের জন্য ভুল বলে দোষারোপ করলে তা কেবল আপনারই মনের উপর দাগ ফেলবে। কখনোই সবচেয়ে খারাপটা ধরে নেবেন না। আপনার নিজের এবং আপনার সিদ্ধান্তের ওপর বিশ্বাস রাখাটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এটি আপনার মানবিক দায়বদ্ধতাও বটে।

ফাসা/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LIVE

অন্ধদের দৃষ্টি ফেরাবে বায়োনিক চোখ
আপনার ফোনে আড়ি পাতলে কিভাবে বুঝবেন?
দিলীপের পরকীয়ার যাতনা আমৃত্যু সয়েছেন সায়রা
গাঁজা সেবনকারীর মন ও মস্তিষ্কে কি ঘটায়?