বাংলাদেশ, শীর্ষ খবর

সুন্দরবন: ১৪ টাকার পাস জেলেদের লাগে ৩৫০ টাকা!

১৩ টাকা ৮০ পয়সার পাস নিতে লাগে সাড়ে তিনশ টাকা। এরপরও ঘাটে ঘাটে চাঁদা না দিলে মেলে না মাছ কিংবা কাকড়া ধরার অনুমতি।

সুন্দরবনের সকল কার্যক্রমে বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় দালালদের দৌরাত্ম্য। কথা না শুনলে হয়রানির শিকার হতে হয় জেলেদের।

সুন্দরবনের ওপর নির্ভর করে জীবন-জীবিকা চলে হাজারো জেলে ও বনজীবীর। সুন্দরবন অঞ্চলে মাছ ধরায় যুক্ত প্রায় ৩০ হাজার জেলে পরিবার। একটা সময় যাদের কাছে আতঙ্ক ছিল জলদস্যুরা। এখন জলদস্যু না থাকলেও জেলেদের কাছে নতুন আতঙ্ক বনবিভাগ।

পশ্চিম সুন্দরবন উপকূল ঘেঁষা বুড়িগোয়ালিনী জেলে পল্লী। কথা হয় জেলে শহীদুলের সাথে। জানান, নির্ধারিত ফি’র বাইরে চাহিদা মতো টাকা না দেয়ায়, মামলা দিয়ে বন বিভাগ আটকে রেখেছে তার নৌকা।

জেলে পল্লীতে এমন ভুক্তভোগীর সংখ্যা কম নয়। তারা জানান, দালালের মাধ্যমে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ। ৪টি স্টেশন ও ১০টি টহল ফাঁড়ি নিয়ে বনবিভাগের কার্যক্রম। এখানকার স্টেশন অফিসগুলোতে দালালদের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো। খোদ রেঞ্জ অফিসে অবস্থিত বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন দাপিয়ে বেড়ায় দালাল শহিদুল মোল্লা, জালাল মোল্লা, হাসান সরদারসহ অন্তত ২০ জন।

নাগরিক টিমের উপস্থিতি টের পেয়ে সটকে পড়ে দালালরা। স্টেশন কর্মকর্তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হলেন না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি রেঞ্জ কর্মকর্তাকে। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেন তিনি বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ।

সুন্দরবনের সকল অফিস দালালমুক্ত করার পাশাপাশি জেলেরা যাতে নিজেরাই বন বিভাগ থেকে বিএলসি নবায়ন, অনুমতি গ্রহণ এবং পাস সারেন্ডার করতে পারেন, সেই দাবি তাদের।

সাইফুল শাহীন/ফই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LIVE

‘কাঁচা বাদাম’ গান ও একজন ভুবন বাদ্যকার
মা ও স্ত্রীর মধ্যে ভারসাম্য রাখতে চান?
অন্ধদের দৃষ্টি ফেরাবে বায়োনিক চোখ
আপনার ফোনে আড়ি পাতলে কিভাবে বুঝবেন?