বাংলাদেশ, শীর্ষ খবর

লোনা পানি ব্যবহারে জরায়ু হারাচ্ছেন উপকূলের অনেক নারী

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে লবণাক্ততা বেড়েছে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে। আর মাত্রাতিরিক্ত লোনা পানি ব্যবহারে জরায়ু সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এসব এলাকার নারীরা। সেজন্য অল্প বয়সেই জরায়ু কেটে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক নারী।

জন্ম থেকেই লোনা পানির সাথে বসবাস। জলবায়ু পরিবর্তনে আগের তুলনায় যেন আরো বেড়েছে পানির লবণাক্ততা। তবে জীবন থেমে থাকবার নয়। তাই লোনা পানি ব্যবহার করেই চলে এসব এলাকার মানুষের দৈনন্দিন কাজ।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর সুন্দরবন উপকূলের লোনা পানিতে মিশে আছে এখানকার নারীদের জীবিকা। স্বামী মারা যাওয়ার পর নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন এই নারী। লবণাক্ত পানির কারণে ভুগছেন চর্মরোগসহ নানা অসুখে। প্রদাহের কারণে কেটে ফেলতে হয়েছে জরায়ু।

এই এলাকার নারীদের গোসলসহ সংসারের যাবতীয় কাজ করতে হয় লোনা পানিতে। যার প্রভাবেই একসময় ঘা হয়ে যায় জরায়ুতে। প্রথম সন্তান জন্মের পর থেকেই জরায়ুতে জ্বালা-পোড়া ও যন্ত্রণা হতো শাহানারা বেগমের। একে একে তিন সন্তান জন্মের পর ইনফেকশন হয় জরায়ুতে।

উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগরের প্রতিটি গ্রামেই জরায়ুর রোগে ভুগছেন এমন নারী রয়েছে।

শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মেডিকেল অফিসার ডা. শেখ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এই এলাকায় জরায়ু সমস্যার রোগী তুলনামূলক বেশি। দীর্ঘদিন এই সমস্যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। সঠিক গাইডলাইন না পাওয়ায়, অনেক নারী জরায়ু কেটে ফেলতে বাধ্য হন বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

গবেষণা বলছে, উপকূলীয় অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির লবণাক্ততাও সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি। এতে আরো বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন ওইসব অঞ্চলের নারীরা।

সাইফুল শাহীন/ফই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LIVE

‘কাঁচা বাদাম’ গান ও একজন ভুবন বাদ্যকার
মা ও স্ত্রীর মধ্যে ভারসাম্য রাখতে চান?
অন্ধদের দৃষ্টি ফেরাবে বায়োনিক চোখ
আপনার ফোনে আড়ি পাতলে কিভাবে বুঝবেন?