বাংলাদেশ

হলি আর্টিজান হামলায় যাদের হারিয়েছি

গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলায় নিহত হন, তিন বাংলাদেশি, এক ভারতীয়, নয় ইতালীয় এবং সাত জাপানি নাগরিক। জাপানি নাগরিকদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া না গেলেও বাংলাদেশি, ভারতীয় এবং ইতালীয় নাগরিকদের আংশিক পরিচয় জানা যায়।

২০১৬ সালের ১ জুলাই বুলেটের গর্জনে কেঁপে উঠে রাজধানী ঢাকার গুলশান। রাত বাড়ে, বাড়ে জঙ্গিদের নৃশংসতার মাত্রা। ওই হামলার ঘটনা স্তম্ভিত করে পুরো বাংলাদেশকে। প্রকাশ পায় জঙ্গিবাদের ভয়াবহতা।

ওই ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ নিহত হন ২২জন। ঘটনা কি তা বুঝে ওঠার আগেই নিহত হন- ডিএমপি উত্তরের গোয়েন্দা পুলিশের অ্যাডিশনাল কমিশনার রবিউল করিম আর বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন খান।

অবিন্তা কবির, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। জর্জিয়ার ইমোরি অক্সফোর্ড কলেজে পড়াশোনা করতেন। পরিবার ও বন্ধুদের সাথে বেড়াতে ঢাকায় আসা। সেদিন সেদিন সন্ধ্যায় ইফতারের পর বন্ধুদের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নিতে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে যান। অবিন্তার ফেরা হয়নি আর।

‪হামলার আরেক শিকার ফারাজ আয়াজ হোসেইন। অক্সফোর্ড কলেজ অফ ইমোরি ইউনিভার্সিটি থেকে ওই বছর স্নাতক অর্জন করেছিলেন। গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে ঢাকায় এসে দুই বন্ধুর সাথে হলি আর্টিজানে নৈশভোজে অংশ নেওয়ার পর জঙ্গিদের হামলায় নিহত হন তিনি।

শিল্প ব্যক্তিত্ব ইশরাত আকন্দও নিহত হয়েছে গুলশানের ওই হামলায়। বেসরকারী কোম্পানিতে কাজ করা ইশরাত ইতালীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সে রাতে নৈশভোজে অংশ নিয়েছিলেন।

জঙ্গীদের থাবা থেকে রেহাই পায়নি তারুশি জেইন নামের এক ভারতীয় নাগরিক। ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার ছাত্রী তারুশি জঙ্গি হামলার এক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশে এসেছিলেন ইস্টার্ন ব্যাংকে ইন্টার্নশীপ করতে।

ওই হামলায় নিহত হন, নয়জন ইতালীয়ান নাগরিক। যাদের প্রায় সবাই বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সাথে জড়িত ছিল।

ক্লাউদিয়া মারিয়া ডি এন্তোনা তিনি ছিলেন ফেডো ট্রেডিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। স্বামী সংসার নিয়ে ২০ বছরে ধরে বসবাস করেছিলেন বাংলাদেশে। ওই হামলায় এন্তোনা নিহত হলেও সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন স্বামী গিয়ান গালিয়াজ্জো বোসছেত্তিই।

সিমোনা মন্টি ছিলেন সাত মাসের অন্তস্বত্ত্বা। জঙ্গি হামলার ঘটনার ওই সপ্তাহে ইতালিতে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তার। তাই বন্ধুদের বিদায় জানানোর জন্য তিনি হলি আর্টিজানে গিয়েছিলেন।

মারকো তোন্দাত, এক বছর আগে তিনি কাজের সন্ধানে ঢাকায় এসেছিলেন। স্টুডিও টেক্স লিমিটেডে সুপারভাইজার পদে কর্মরত ছিলেন। ৪ জুলাই তার ইতালিতে ফিরে যাওয়ার কথার ছিল। কিন্তু ফেরা হয়নি তার।

ইতালীয় নাগরিক নাদিয়া বেনেদেত্তি, বাংলাদেশে কর্মরত ছিলেন। তিনি স্টুডিওটেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। ২০ বছর ধরে তিনি বাংলাদেশে বসবাস করছিলেন।

আদেলে পুগলিসি, আদেলে আর্টসানায় একটি টেক্সটাইল গ্রুপের মাননিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন। শনিবারে নিজে দেশে যাওয়ার কথা ছিল। তার আগেই শুক্রবারের হামলায় নিহত হন তিনি।

‪ক্রিসটিয়ান রোজি, ইতালির ফেলেত্তো আমবারতো প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ছিলেন। তিনি বাংলাদেশে থেকে পণ্য নিয়ে ইতালিতে বিক্রি করতেন।

‪ক্লাউডিও কাপেল্লি তিনি পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে নিজের একটি টেক্সটাইল কোম্পানী চালাচ্ছিলেন।

ভিনসেনজো দাল্লেসত্রো, তিনি টেক্সটাইলের কাজে তিনি ঢাকা এসেছিলেন বলে জানা যায়।‪

‪মারিয়া রিবোলি, যিনি ব্যবসায়িক কাজে কয়েক মাস আগে বাংলাদেশে এসেছিলেন।

ভয়াল সে রাতে হত্যাযজ্ঞে শিকার হন দুই নারীসহ সাতজন জাপানী নাগরিক। এরা হলেন, তানাকা হিরোশি, ওগাসাওয়ারা, শাকাই ইউকু, কুরুসাকি নুবুহিরি, ওকামুরা মাকাতো, শিমুধুইরা রুই ও হাশিমাতো হিদেইকো। এদের মধ্যে ছয়জনই মেট্রোরেল প্রকল্পের সমীক্ষা কাজে নিয়োজিত ছিলেন।  তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

আব্দুল্লাহ শাফী/ফই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LIVE

অন্ধদের দৃষ্টি ফেরাবে বায়োনিক চোখ
আপনার ফোনে আড়ি পাতলে কিভাবে বুঝবেন?
দিলীপের পরকীয়ার যাতনা আমৃত্যু সয়েছেন সায়রা
গাঁজা সেবনকারীর মন ও মস্তিষ্কে কি ঘটায়?