27 C
Dhaka
শুক্রবার, আগস্ট ১২, ২০২২

নান্দনিক তারা মসজিদ

বিশেষ সংবাদ

Juboraj Faishal
Juboraj Faishalhttps://www.nagorik.com
Juboraj Faishal is a News Room Editor of Nagorik TV.
- Advertisement -

‘আমার বাড়ীর ঈশান কোণে ছোট্ট মসজিদ ঘর,
সেই ঘর থেকে ভেসে আসে আল্লাহু আকবার।’

 

বজলুর রশীদ চৌধুরীর মতো অনেক কবি সাহিত্যিক মসজিদকে নিয়ে রচনা করেছেন নানা কবিতা ও গল্প। আবার এই মসজিদের পেছনেও লুকানো থাকে কত শত গল্প। এর মাঝে অনেক গল্পই হারিয়ে যায় কালের বিবর্তনে। মসজিদগুলো কিন্তু দাঁড়িয়ে থাকে তাদের আপন বৈশিষ্ট্য নিয়ে। এমনি একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদ পুরানো ঢাকার আরমানিটোলার নান্দনিক তারা মসজিদ। ঢাকা শহরের বিখ্যাত মসজিদগুলোর মধ্যে ‘তারা মসজিদ’ অন্যতম। কারুকার্যময় এই মসজিদের দেয়ালে ও ছাদে শোভা পেয়েছে নানা রঙের ফুল, পাতা ও চাঁদ-তারা নকশা। এর গম্বুজগুলো তারকা খচিত নকশা দ্বারা অলংকৃত। সে জন্যই এটিকে তারা মসজিদ নামে ডাকা হয়।

 

 

তারা মসজিদ ঠিক কবে নির্মাণ হয়েছে, তা কিন্তু জানা যায়নি। ধারণা করা হয়, এটি তৈরী হয় আঠারো শতকের প্রথম দিকে। সে সময় আর্মানিটোলার নাম ছিল ‘মহল্লা আলে আবু সাঈয়ীদ’। এই আবু সাঈয়ীদ ছিলেন পুরান ঢাকার ধনাঢ্য ব্যক্তি। তারই নাতি জমিদার মির্জা গোলাম পীর ওরফে মির্জা আহমেদ জান নামের এক ব্যবসায়ী এটির নির্মাতা। মির্জা গোলাম পীর মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন বলে, ‘তারা মসজিদ’ এর আরও কিছু প্রচলিত নাম আছে। একে মির্জা গোলাম পীরের মসজিদ বা সিতারা মসজিদও বলা হয়।

 


প্রথম থেকেই মসজিদটি ছিল আয়তাকার আকৃতির। আদি মসজিদটির পরিমাপ ছিল দৈর্ঘ্যে ৩৩ ফুট এবং প্রস্থে ১২ ফুট, গম্বুজ ছিল তিনটি। এর ভিতরে মাঝের গম্বুজটি ছিল অনেক বড়। সাদা মার্বেল পাথরের গম্বুজের উপর নীলরঙা তারার নকশা যুক্ত ছিল। এর পূর্ব দিকে মসজিদে প্রবেশের জন্য তিনটি এবং উত্তর দিকে ১টি এবং দক্ষিণ দিকে ১টি দরজা ছিল।

 

 

১৮৬০ সালে মারা যান মির্জা গোলাম পীর। পরে ১৯২৬ সালে, ঢাকার তৎকালীন স্থানীয় ব্যবসায়ী, আলী জান বেপারী মসজিদটির সংস্কার করেন। এই সময় মসজিদটির আকার বৃদ্ধি করে, পূর্বদিকে একটি বারান্দা যুক্ত করা হয়। চিনামাটির প্লেট, পেয়ালা ও ছোট-বড় নানা রঙের কাচের টুকরার সমন্বয়ে এক বিশেষ পদ্ধতিতে মসজিদটি অলংকৃত করা হয়। এ পদ্ধতিকে চিনি দানার কাজ বা চিনিডিক্রি বলা হয়; যা মোঘল স্থাপত্য শৈলীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ঢাকার কসাইটুলীর মসজিদেও এ ধরনের বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়।

 

সুক্ষ কারুকাজে ভরা এই মসজিদের দেয়ালে ও ছাদে আজও শোভা ছড়ায় নানা রঙের ফুল, পাতা ও চাঁদ-তারার নকশা। ঝকঝকে সাদা মার্বেলের উপরে নীল তারাগুলো মসজিদটিকে অন্য যেকোনো মসজিদ থেকে পৃথক করেছে।

 

 

১৯৮৭ সালে এই মসজিদটি পুনরায় সম্প্রসারণ ও সংস্কার করা হয়। সরকারি অর্থায়নে মসজিদটির গম্বুজ তিনটি থেকে পাঁচটিতে উন্নীত করা হয়। এই সময় পুরনো একটি মেহরাব ভেঙে দুটো গম্বুজ আর তিনটি নতুন মেহরাব বানানো হয়। সব মিলিয়ে বর্তমানে এর গম্বুজ সংখ্যা পাঁচটিতে দাঁড়িয়েছে। মসজিদের বতর্মান দৈর্ঘ্য ৭০ ফুট, প্রস্থ ২৬ ফুট। এছাড়া মসজিদের দেয়াল ফুল, চাঁদ, তারা, আরবি ক্যালিগ্রাফিক লেখনি দিয়ে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

 

১৯৮৭ সালের ৪ঠা ডিসেম্বর, এই মসজিদটি রাষ্ট্রীয়করণ করা হয়। বাংলাদেশের কাগজের মুদ্রা টাকার গায়েও ফুটে আছে তারা মসজিদের বিখ্যাত স্থাপত্য। তারা মসজিদ আজও দাঁড়িয়ে আছে স্বমহিমায়। প্রতিদিন অনেক দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদটি পরিদর্শন করতে আসে।

 

জার/ফই

- Advertisement -
- Advertisement -

আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বাধিক পঠিত