27 C
Dhaka
শনিবার, আগস্ট ২০, ২০২২

রমজানে সৌদি ও কাতারে নিত্যপণ্যে ছাড়ের হিড়িক

বিশেষ সংবাদ

- Advertisement -

রমজান মুসলমানদের ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির মাস। প্রতিবছর রমজান মাস এলেই বাংলাদেশে মার্কেটগুলোতে প্রতিটি পণ্যের দাম বৃদ্ধি যেন একটি রীতিতে পরিনত হয়েছে। কিন্তু একেবারে বিপরীত চিত্রের দেখা মেলে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলোতে।

 

যেমন রমজান উপলক্ষ্যে সৌদি আরবের বড় বড় চেইনশপ থেকে শুরু করে ছোট দোকানে চলছে ছাড়ের হিড়িক। ক্রেতাদের কে কত বেশি মূল্য ছাড় দিতে পারে সে নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছে।

 

আর এই প্রতিযোগিতায় ছাড়ের মাত্রা কখন কখন ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত গিয়ে দাঁড়ায়। রোজাদারদের অর্থ কষ্ট লাঘবের পাশাপাশি অধিক সোয়াবের আশায় নিত্য-প্রয়োজনীয় জিনিসে এই ছাড় দিয়ে থাকেন বিক্রেতারা।

 

 

সৌদি আরবের লুলু হাইপার মার্কেট, পান্ডা, ওথাইম, নেস্টু, আল মদীনা, সেন্টার পয়েন্ট, তামিমি, ক্যারিফোরসহ অনেক শপিংমল ও সুপার মার্কেট শুধু ছাড় ঘোষণা করেই বসে নেই। এছাড়া তাদের এই ডিসকাউন্টের খবর ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতে পত্রিকা ও সোস্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন, কোন পণ্যে কত ছাড় এটা লিখে বুকলেট ছাপিয়ে বাসার দরজায় পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। রমজানকে সামনে রেখে মূল্য ছাড়ের ঘোষণায় খুশি ক্রেতারাও।

 

শুধু সৌদি আরব নয় কাতারেও রমজান মাস সর্বোচ্চ মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হয় এবং ক্রয়ক্ষমতা সাধারণ মানুষের নাগালে রাখতে এবছর ৫ শতাধিক নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানো হয়েছে। এছাড়া সেগুলোর মূল্য তালিকা দোকানের সামনে ঝুলিয়ে দিয়েছে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

 

রোজার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মুত্তাকির গুণাবলী অর্জন করা। আর মুত্তাকির সার কথা হচ্ছে সব অবস্থায় আল্লাহর ভয় অন্তরে জাগ্রত রাখা। এই বিষয়টি কঠোরভাবে মেনে চলা হয় মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠের দেশ কাতারে।

 

রমজানের এক সপ্তাহ আগে থেকেই দেশটির ছোট বড় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানের সামনে পাঁচ শতাধিক পণ্যের মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এসব পণ্যের মধ্যে চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস, ছোলা, মুড়ি, মসলা সবই রয়েছে।

 

কাতারের আবু হামুরে সাফারি মলে কর্মরত বাংলাদেশি ক্যাশিয়ার ইমরান হাসান জানান, সারা বছর আমরা যে দামেই বিক্রি করি না কেন রমজান মাসে প্রায় প্রত্যেকটা ভোগপণ্যে আমরা বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করে থাকি। যেমন বাসমতি চালের ৫ কেজির প্যাকেট রমজানের আগে আমরা ৩৬ রিয়েলে বিক্রি করলেও রমজানে সেটা ২৬ রিয়েলে বিক্রি করছি। এ ধরনের আরও অনেক পণ্য আছে যেগুলি বছরের অন্য সময়ের চেয়েও অনেক কম দামে আমরা গ্রাহকের হাতে তুলে দেই।

 

অন্যদিকে, রমজানে শুধু পণ্যের মূল্য ছাড়ই নয় সৌদি সরকার এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও দেয়া হয় বিশেষ সুবিধা। রাতে কাজ এবং অন্যান্য সময়ের তুলনায় কর্মঘণ্টা কম হলেও বেতন-বোনাসে কোনো হেরফের হয় না।

 

উল্লেখ্য, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রায় ১৬০ কোটি মুসলমানের জন্য পবিত্র মাহে রমজান বয়ে আনে রহমত, বরকত ও মাগফেরাতের বার্তা। এছাড়া নিজেদের আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় এই একমাস ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

ফাই//মাও
- Advertisement -
- Advertisement -

আরও পড়ুন

- Advertisement -

সর্বাধিক পঠিত