
রাজধানীতে এবার অবৈধ ভবনের বৈধতা দেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। উচ্চ জরিমানা দিয়ে অনুমোদনহীন অবৈধ ভবন বৈধ করার সুপারিশ এসেছে নতুন বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বা ড্যাপের বিধিমালায়। এজন্য নীতিমালা প্রণয়নে ১২ সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এর ফলে নতুন করে আর অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণের সুযোগ থাকবে না বলে মনে করছে রাজউক।
কয়েক বছর আগে বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ আগুন লাগে। মারা যান ২৬ জন, আহত হন কয়েকশ। জানা যায়, সুউচ্চ টাওয়ারটি গড়তে ভবন নির্মাণের নীতিমালা মানা হয়নি। ছিল না অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থাও। এমনকি দুর্ঘটনার সময় বেরিয়ে আসার পথও ছিল না পর্যাপ্ত।
শুধু এফআর টাওয়ার নয়, রাজধানীর অনেক ভবনই রাজউকের আইন মেনে নির্মাণ করা হয়নি। তবে এসব ভবন এবার বৈধ করার উপায় খোঁজা হচ্ছে। এজন্য নতুন বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বা ড্যাপের বিধিমালাতে উচ্চ হারে জরিমানার বিধান রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
এজন্য ড্যাপের আওতায় বিধিমালা প্রণয়নে ১২ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটিই বের করবে অবৈধ ভবন বৈধ করার পদ্ধতি।
জরিমানা দিয়ে ইমারত ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ড্যাপের সুপারিশে বলা হয়েছে, অনুমোদনহীন ইমারতের বিদ্যমান ব্যবহার, উচ্চতাসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই পূর্বক ইমারত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নীতিমালা জরুরি। এক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তিদের কাছ থেকে কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ নিয়ে ক্ষেত্রবিশেষে ইমারতের কাঠামোগত সংশোধন বা অপসারণও করতে পারবে।
এবিষয়ে রাজউক বলছে, প্রতিবছর ১০ হাজারের মতো ভবনের অনুমোদন দেয়া হয়। এছাড়াও অনেক ভবন অনুমোদন ছাড়াও গড়ে উঠছে। এসব ভবনের বৈধতা দেয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা চলছে।
বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনার তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০০৬ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত স্থাপনার সংখ্যা বেড়েছে ৯ লাখ ৪৯ হাজার ৩৩০টি। অর্থাৎ গড়ে প্রতিবছর প্রায় ৯৫ হাজার নতুন স্থাপনা নির্মিত হয়েছে।
