27 C
Dhaka
শনিবার, আগস্ট ২০, ২০২২

শ্রমিকদের আত্মদানের ‘মে দিবস’

বিশেষ সংবাদ

Juboraj Faishal
Juboraj Faishalhttps://www.nagorik.com
Juboraj Faishal is a News Room Editor of Nagorik TV.
- Advertisement -

 

“দেখিনু সেদিন রেলে,কুলি ব’লে এক বাবু সা’ব তারে ঠেলে দিলে নীচে ফেলে! চোখ ফেটে এল জল, এমনি ক’রে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল? যে দধীচিদের হাড় দিয়ে ঐ বাষ্প-শকট চলে, বাবু সা’ব এসে চড়িল তাহাতে, কুলিরা পড়িল তলে। বেতন দিয়াছ?-চুপ রও যত মিথ্যাবাদীর দল!”

নির্যাতিত লাঞ্ছিত শ্রমিক শ্রেনী যখন ধুকে ধুকে মরছিল তখন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘কুলিমজুর’ কবিতার এই অসামান্য লাইন দুটো জানান দেয় শ্রমিকের জীবন চিত্র।
সময়ের পাতায় বার বার ফিরে আসে “মহান মে দিবস”। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে এ দিনটি পালিত হয়, নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে।

বহু আত্মত্যাগের এই ইতিহাসের সুচনা হয়েছি ১৮৮৬ সালের মে মাসে। কিন্তু একটি প্রশ্ন রয়ে গেছে এখনও শ্রমিকরা নির্যাতিত হন, পান না তাঁদের ন্যায্য মজুরি। ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এ অবস্থা ছিল অত্যান্ত ভায়বহ। শ্রমিকরা তখন দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা কাজ করলেও তার বিনিময়ে সামান্য মজুরিও পেতেন না। উপরন্তু ছিল মালিকপক্ষের অনবরত অত্যাচার ও অকথ্য নির্যাতন।

 

১৮৬০ সালে শোষণের এই দেয়াল ভাঙতে শ্রমিকরা তাদের মজুরি না কমিয়ে সারা দিনে আট ঘণ্টা কাজের সময় নির্ধারণের জন্য দাবি জানান। এই দাবিকে বেগবান করতে আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবার নামে একটি সংগঠন তৈরি করেন তারা। এই সংগঠন শ্রমিকদের প্রাপ্য মজুরি ও অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে অবিরত আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকে।

১৮৮৪ সালে আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবার দিনে কাজের সময় ‘আট ঘণ্টা’ নির্ধারণের জন্য মালিকপক্ষের কাছে সময় বেঁধে দেয়। সময় দেওয়া হয় ১৮৮৬ সালের ১ মে পর্যন্ত।

কিন্তু বারবার মালিকপক্ষের কাছে দাবি জানানো হলেও একটুও সাড়া মেলেনি তাঁদের কাছ থেকে। এমন সময় একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এ বিষয়ে এক আলোড়ন তোলা আর্টিকেল। ব্যস, বিদ্রোহ ওঠে চরমে। আর শিকাগো হয়ে ওঠে প্রতিবাদ-বিদ্রোহের মূলমঞ্চ।

এদিকে পহেলা মে যতই এগিয়ে আসছিল, দুই পক্ষের সংঘর্ষ অবধারিত হয়ে উঠছিল। মালিকপক্ষ ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল। এরই মধ্যে পুলিশ আগে তাদের এপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছিল, আবারও চলল তেমনই প্রস্তুতি।

শ্রমিকদের এই আন্দোলনের ওপর গুলি চালাতে পুলিশদের বিশেষ অস্ত্র কিনে দেন ব্যবসায়ীরা। পহেলা মে-তে অধিকার আদায়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় তিন লাখ শ্রমিক কাজ ফেলে নেমে আসেন রাস্তায়। আন্দোলন তখন চরমে ওঠে।

১৮৮৬ সালে ৩ মে, সন্ধ্যায় শিকাগোর হে মার্কেট বাণিজ্যিক এলাকায় জড়ো হওয়া শ্রমিকদের দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন, কিছু পুলিশ সদস্য। এমন সময় হঠাৎ বোমা বিস্ফোরণে কিছু পুলিশ আহত হন, পরে মারা যান ছয়জন। এর পর পুলিশও শ্রমিকদের ওপর আক্রমণ চালালে নিহত হন ১১ জন শ্রমিক।

এছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের হত্যামামলায় অভিযুক্ত করে ছয়জন শ্রমিককে প্রহসনমূলকভাবে দোষী সাব্যস্ত করে প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হয়। কিন্তু এই মিথ্যা বিচারের অপরাধ শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে।
১৮৯৩’র ২৬ জুন ইলিনয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মিথ্যে ছিল ওই বিচার। পুলিশের কমান্ডারকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করা হয়।

 

শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের ন্যার্য অধিকার ‘দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ’-এর দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পায়। সেই থেকে পহেলা মে পালিত হয় শ্রমিকদের আত্মদান আর দাবি আদায়ের দিন “মহান মে দিবস”।

 

ফাই/জাআ//
- Advertisement -
- Advertisement -

আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বাধিক পঠিত