28 C
Dhaka
সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২

রোহিঙ্গা শিবিরে এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ কী?

বিশেষ সংবাদ

- Advertisement -

বেশকটি এনজিওকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সরকার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মরত কিছু দেশি-বিদেশি এনজিওর তালিকা করে তাদের নজরদারির আওতায় আনছিলো। শনিবার নানা অপকর্মে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ৪১টি এনজিওকে প্রত্যাহারের কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

 

দুই বছর পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও মিয়ানমারে ফিরে যায়নি। এই সময়ে দুইবার প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। দুই বছর আগে বাংলাদেশ মানবিক কারণে সীমান্ত খুলে দিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এখন রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। সরকারের অভিযোগ, রোহিঙ্গারা যাতে দেশে ফেরত না যায়, সে ব্যাপারে কিছু এনজিও ইন্ধন যোগাচ্ছে এবং সেখানে রাজনীতি করছে।

 

ভুল তথ্য ছড়ানো
ইন্টারসেক্টর কোঅর্ডিনেশন গ্রুপের (আইএসসিজি) কর্মকর্তারা প্রত্যাবাসন নিয়ে রোহিঙ্গাদের নেতিবাচক ধারণা দিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ আছে। তারা রোহিঙ্গাদের বলছে, ‘তোমরা মিয়ানমারে ফিরে গেলে আবার নির্যাতন করা হবে।’ এছাড়া বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে তাদের আতঙ্কিত করা হচ্ছে। অনেকে মনে করেন এনজিও কর্মকর্তারা রোহিঙ্গাদের এমন পরিস্থিতিকে নিজেদের পেশাগত একটি সুযোগ মনে করেন। নিজেদের লাখ টাকার চাকরি বাঁচাতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন হতে দিচ্ছেন না তারা।

 

রোহিঙ্গা মহাসমাবেশের আয়োজন
বাংলাদেশে আসার দুই বছরে ২৫ আগস্ট এই পাঁচ দফা দাবিতে মহাসমাবেশও করেছে রোহিঙ্গারা। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকটি এনজিও ওই মহাসমাবেশ আয়োজনে সহায়তা করেছে। ব্যানার-ফেস্টুনের ব্যবস্থাও করে দিয়েছে ওই এনজিওগুলো।

 

স্বেচ্ছাচার
রোহিঙ্গা ক্যাম্প অঞ্চলে স্বেচ্ছাচারী আচরণ করে অনেক এনজিও, এমন অভিযোগ অনেকের। এদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পায় না। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যানবাহন চলাচলের সীমাবদ্ধতা থাকলেও এসব আন্তর্জাতিক সংস্থার গাড়িগুলোর ক্ষেত্রে সেসব বিধিনিষেধ মানা হয় না। ক্যাম্পের মধ্যে এনজিওগুলোর কার্যক্রম মনিটরিংও কঠোর নয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

 

বাংলাদেশ সরকারকে অগ্রাহ্য
অনেকেই মনে করেন, বাংলাদেশ সরকার নয়, সহায়তা সংস্থাগুলোই রোহিঙ্গাদের থাকা-খাওয়ার সব ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। অনেক রোহিঙ্গার বিশ্বাস, বাংলাদেশ তাদের খাওয়াচ্ছে না। তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে ডব্লিউএফপি, ইউএনএইচসিআর, আইওএম আর এনজিওগুলো। তাই সরকারকে অগ্রাহ্য করে এসব এনজিও যা বলে তাই শোনে তারা।

 

রোহিঙ্গাদের অস্ত্র দেয়া
কক্সবাজারে ‘মুক্তি’ নামে একটি এনজিওর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ধারালো অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগও উঠেছে। এরই মধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন এক কামারের দোকান থেকে পুলিশ বেশকিছু ধারালো অস্ত্রও জব্দ করে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। মুক্তি এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও এনজিওটির ছয়টি প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ এনজিও ব্যুরো।

 

বনভূমি উজাড় ও পাহাড় কেটে নতুন ক্যাম্প
উখিয়ায় পাহাড় কেটে নতুন করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প তৈরি করছে ‘এনজিওগুলো’। এতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। অভিযোগ রয়েছে, উখিয়ার থাইংখালীতে নতুন করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প তৈরি করতে গিয়ে বিশাল বনভূমি উজাড় করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও থাইংখালী উপজেলার লন্ডাখালীর বনভূমির বিশাল এলাকাজুড়ে নতুন রোহিঙ্গা ক্যাম্প গড়ে তোলা হচ্ছে। অস্থায়ী ঘর নির্মাণের কারণে বিশাল আকৃতির বুলডোজার দিয়ে ওই এলাকার অনেক গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে।

 

সরকারের পাশাপাশি রোহিঙ্গা শিবিরে সুযোগ-সুবিধা ও সেবা দিতে কাজ করছে দেশি-বিদেশি প্রায় ১২৫টি এনজিও। এতে মূল ভূমিকায় রয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী ও ত্রাণ বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর, অভিবাসন সংস্থা আইওএম, খাদ্য কর্মসূচি ডব্লিউএফপি। এছাড়াও দেশি-বিদেশি অন্যান্য এনজিও তো রয়েছেই। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে মানবিক সহায়তার কাজে থাকা এনজিওগুলোকে ‘ব্যবসার মনোভাব’ ত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছেন সরকারদলীয় অনেক নেতা।

সম্পাদনা: শাই

- Advertisement -
- Advertisement -

আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বাধিক পঠিত