21 C
Dhaka
শুক্রবার, জানুয়ারি ২৭, ২০২৩

‘ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর’ ক্ষমতাটা আছে খুব কম মানুষেরই: আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ

বিশেষ সংবাদ

Rabi Shankar Das
Rabi Shankar Dashttp://www.nagorik.com
Rabi Shankar Das is a Social Media Expert, Writer & Digital Journalist. He is working in Bangladesh's Entertainment & News Media industry since 2018. Currently, he is the "In-Charge Of Online" at Nagorik Television.
- Advertisement -

আদিম সমাজের বিপদসঙ্কুল ও অনিশ্চিত পরিবেশে অক্ষম বা দুর্বল মানুষ টিকে থাকত না। কিন্তু আজকে উন্নত প্রযুক্তির যুগে তারা বেঁচে থাকার সুযোগ পাচ্ছে। তবু মনে রাখতে হবে সংগঠন দুর্বল মানুষের জিনিস নয়। সংগঠন হল জীবনের ওপর মানুষের বিজয় প্রতিষ্ঠা। তার উচ্চতর জীবন ও সমৃদ্ধির সন্ধান। কাজেই সংগঠনের সবাই শক্তিশালী না হলেও বেশ কিছু মানুষকে অন্তত শক্তিশালী হতে হবেই। অন্তত সবলদের সমর্থন জোগাবার মতো ক্ষমতা তাদের অধিকাংশেরই থাকতে হয়। মানুষের অস্তিত্বের দিক দুটো। প্রথমত, সে চাকরি-বাকরি ব্যবসা-বাণিজ্য বা অন্যান্য বৈষয়িক কাজকর্ম করে। এসব দিয়ে সে তার জৈবিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে। এতে তার শক্তির পুঁজির অনেকখানি অংশই খরচ হয়ে যায়, কিন্তু তবু সবটা শেষ হয় না। কিছুটা তখনও মজুদ থাকে। এই বাড়তি শক্তি দিয়ে সে গড়ে তোলে তার সমাজ, তার সংগঠন, তার রাষ্ট্র। এটা সে করে তার উচ্চতর জীবন-সমৃদ্ধির জন্যে। আমাদের মূল দুর্বলতা এই জায়গাটাতে। অস্তিত্বকে কোনোমতে টিকিয়ে রাখার মতো শক্তি হয়তো আমাদের অনেকেরই আছে। কিন্তু ঐবাড়তি শক্তিটা, মানে ‘ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর’ ক্ষমতাটা আছে খুব কম মানুষেরই।

ইয়োরোপে প্রতি তিনজন মানুষের মধ্যে একজন থাকে শক্ত-সমর্থ, বাকি দুজন থাকে মাঝারি শক্তির। ফলে প্রতি বিশজন মানুষের মধ্যে যোগ্য বা সমর্থ মানুষ পাওয়া যায় ছ-সাত জন, বাকিদের কিছু হয় মাঝারি মাপের, অন্যেরা সাধারণ মাপের। ফলে প্রতি বিশজন মানুষ কোনো উদ্দেশ্যে একসঙ্গে হলে অতি সহজেই একটা শক্তপোক্ত সংগঠন গড়ে তুলতে পারে। কিন্তু আগেই বলেছি, আমাদের দেশে প্রতি বিশজন মানুষের মধ্যে শক্তিমান মানুষ কিছুতেই এক, খুব জোর দুজনের বেশি নয় এবং মাঝারি সামর্থ্যওয়ালা মানুষের সংখ্যা চার থেকে পাঁচ। বাকিরা একেবারেই অসহায় পর্যায়ের। এই সংখ্যা দিয়ে বিশজনের একটি সংগঠন গড়া ও তাদের টিকিয়ে রাখা কঠিন। টেকাতে পারলেও তাদের তার ভেতর অন্তর্গত দুর্বলতা থেকে যায়। এ থাকে দুটো কারণে। এক, এখানে বিশজনের মধ্যে ওই চৌদ্দ-পনেরোজন কেবল অসহায় বা অক্ষম নয়; রীতিমতো নিস্পৃহ এবং অসার। তারা সংগঠনের আদর্শ উদ্দেশ্য সবই বোঝে, ঘন ঘন শিরশ্চালন করে সব প্রস্তাবই সমর্থন করে কিন্তু সক্রিয়ভাবে উৎসাহ ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসে না। কাজেই ওই বাকি পাঁচ-ছয়জন (যাদের মধ্যে এক বা দেড় জন সমর্থ আর চার-পাঁচজন আধা-সমর্থ) নিজেদের ভার বহনের পর বাকি পনেরোজনের ভার বহন করতে পারে না। প্রথম কিছুদিন হয়তো তারা উদ্দীপনার তাগিদে এই বিরাট ওজন টানার কাজটা কোনোমতে চালিয়ে নেয় কিন্তু একসময় তাদের শক্তি ফুরিয়ে আসে। হয়তো তারা তখনো মাঠে টিকে থাকে কিন্তু তার অবস্থা হয়ে আসে সব-ক’টি ছেলে হারানো হারাধনের দশম ছেলেটার মতো:

হারাধনের একটি ছেলে

কাঁদে ভেউ ভেউ,

মনের দুঃখের বনে গেল

রইল না আর কেউ।

ছেলেটির মতো তারাও মনের দুঃখে বনে চলে যায়। আর এভাবে আমাদের সংগঠনগুলোর একসময় বিলুপ্তি ঘটে। আমাদের সংগঠনগুলোর শুরু হয় উতসাহের উদ্দীপনার সঙ্গেই, কিন্তু তারা টেকে না। রবীন্দ্রনাথ- যে বলেছিলেন, আমরা আরম্ভ করি, শেষ করি না, তার কারণ এ-ই। প্রথম মানুষটি কোনোমতে সংগঠনটি দাঁড় করাতে পারলেও ওই দস্যিত্বে তার যোগ্য উত্তরাধিকারী মেলে না। পরের মালিকএরা উত্তরাধিকার-সূত্রে পাওয়া সংগঠনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ইটকাঠগুলো এক এক করে বিক্রি করে, খেয়ে, সংগঠনের পুরোপুরি অবসান ঘটিয়ে দেয়। এবভাবে ধীরেধীরে শেষ হয়ে যায় আমাদের দেশের সংগঠন।

- Advertisement -
- Advertisement -

আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বাধিক পঠিত