31 C
Dhaka
বুধবার, জুলাই ৬, ২০২২

ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত ও এর অর্থ

বিশেষ সংবাদ

- Advertisement -

বাংলাদেশে দুই ধরনের সংকেত ব্যবহার করা হয়- সমুদ্র বন্দরের জন্য ১১ টি সংকেত এবং নদী বন্দরের জন্য ৪টি। এই সংকেতগুলো সমুদ্রবন্দর ও নদীবন্দরের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন বার্তা বহন করে।

সমুদ্র বন্দরের জন্য ১১টি সংকেত:

সমুদ্র বন্দরের বিপদ সংকেত দেয়া হলে সেখানে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেয়া হয় এবং রেডিও-টেলিভিশনে বার বার প্রচার করা হয়।

১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত (একটি লাল পতাকা)

এর অর্থ বঙ্গোপসাগরের কোন একটা অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া বইছে, যেখানে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬১ কিলোমিটার। সে ঝড়ো হাওয়াটি সামুদিক ঝড়ে পরিণত হতে পারে।

২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত (একটি লাল পতাকা)

গভীর সমুদ্রে একটি ঝড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঝড়ে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিলোমিটার। তবে সমুদ্রবন্দর ও উপকুলীয় অঞ্চল এখনই ঝড়ে কবলিত হবে না।

৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত (একটি লাল পতাকা)

এর অর্থ বন্দর দমকা হাওয়ার সম্মুখীন ৷

৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত (দুইটি লাল পতাকা)

এর অর্থ বন্দর ঝড়ের সম্মুখীন হচ্ছে, তবে বিপদের আশন্কা এমন নয় যে চরম নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে৷

৫ নম্বর বিপদ সংকেত (দুইটি লাল পতাকা)

এর অর্থ হচ্ছে অল্প বা মাঝারী ধরনের ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বন্দরের আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ থাকবে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিলোমিটার। ঝড়টি বন্দরকে বাম দিক রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

৬ নম্বর বিপদ সংকেত (দুইটি লাল পতাকা)

এর অর্থ হচ্ছে অল্প বা মাঝারী ধরনের ঝড় হবে এবং আবহাওয়া দুযোগপূর্ণ থাকবে৷ । ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিলোমিটার।

৭ নং বিপদ সংকেত (দুইটি লাল পতাকা)

এর অর্থ অল্প অথবা মাঝারী ধরনের ঘূর্ণিঝড় হবে এবং এজন্য আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ থাকবে। ঘূর্ণিঝড়টি সমুদ্রবন্দরের খুব কাছ দিয়ে অথবা উপর দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিলোমিটার।

৮ নং মহাবিপদ সংকেত (তিনটি লাল পতাকা)

এর অর্থ প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড় হবে এবং বন্দরের আবহাওয়া খুবই দুর্যোগপূর্ণ থাকবে। ঝড়টি চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষিণ দিক দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে (মংলা বন্দরের বেলায় পূর্ব দিক দিয়ে)৷ ঝড়ো বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার বা তার চেয়েও বেশি হতে পারে।

ঌ নম্বর মহাবিপদ সংকেত (তিনটি লাল পতাকা)

এর অর্থ প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বন্দরের আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ থাকবে। ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম বন্দরের উত্তর দিক দিয়ে উপকূল অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে (মংলা বন্দরের বেলায় পশ্চিম দিক দিয়ে)৷ ঝড়ো বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিমি বা তার চেয়েও বেশি হতে পারে।

১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত (তিনটি লাল পতাকা)

এর অর্থ প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বন্দরের আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ থাকবে এবং ঘূর্ণিঝড়টির বন্দরের খুব কাছ দিয়ে অথবা উপর দিয়ে উপকূল অতিক্রম করবে। ঝড়ো বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিমি বা তার চেয়েও বেশি হতে পারে।

১১ নম্বর যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার সংকেত (তিনটি লাল পতাকা)

এর অর্থ ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সাথে সমস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে এবং চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নদী বন্দরের জন্য ৪টি সংকেত

১নং নৌ সতর্কতা সংকেত

বন্দর এলাকা ক্ষণস্থায়ী ঝড়ো আবহাওয়ার কবলে পড়তে পারে। বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার। কালবৈশাখীর ক্ষেত্রেও এই সংকেত দেখানো হয়।

২নং নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত:

বন্দর এলাকা নিম্নচাপের সমান তীব্রতার একটি ঝড়, যার গতিবেগ ঘণ্টায় ৬১ কিলোমিটার বেশি নয়। ৬৫ ফুটের কম দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট নৌযানকে দ্র্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে।

৩নং নৌ বিপদ সংকেত:

বন্দর এলাকা ঝড়ে কবলিত। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ একটানা ৬২-৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিবেগের একটি সামুদ্রিক ঝড় বন্দর এলাকায় আঘাত হানতে পারে। সব নৌযানকে খুব তাড়াতাড়ি নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে।

৪নং নৌ মহাবিপদ সংকেত:

বন্দর এলাকা একটি প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার সামুদ্রিক ঝড়ে কবলিত। এ ঝড় শীঘ্রই বন্দর এলাকায় আঘাত হানবে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার বা তার চাইতে বেশি। সব ধরণের নৌযানকে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে।

- Advertisement -
- Advertisement -

আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বাধিক পঠিত