20 C
Dhaka
শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৪
শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৪

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন: ‘ভোটের অনেক আগেই আমার স্বামীকে মেরে ফেলা হয়েছে’

বিশেষ সংবাদ

- Advertisement -

ব্রিটেনের গণমাধ্যম ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন বিবিসির দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিনিধি সারিমা হোসেন। বাংলাদেশের নির্বাচনের একদিন আগে ৬ জানুয়ারি বিবিসিতে বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের একটি বিএনপির নেতাকর্মীদের বর্তমান পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেছেন। এক নারীর সাক্ষাৎকার তিনি সামনে এনেছেন। সারিমার ভাষায়, ‘ তিনি একজন নারী, একজন মা এবং একজন বিধবা। সে আমাকে বলেছে তার নাম না বলতে। তার আমাকে বলার মতো কিছু কথা আছে। নিরিবিলি একটা জায়গা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছিলাম অনেকক্ষণ। কারণ, জনসমুখে কথা বলতে সে ভয় পাচ্ছিলো। রেল লাইনের পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সামনে আগালাম। জনাকীর্ণ বাজার পেরিয়ে পরিত্যক্ত একটা বাড়ির ৩ তলার ওপরে গিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। সে তার স্বামীর সম্পর্কে আমাকে বলছিলো। ‘‘তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল বিএনপির একজন পরিচিতমুখ কর্মী ছিলেন। তিনি গান গাইতে ভালোবাসতেন। বিশেষত আবেগের গান। একজন বড় হৃদয়ের মানুষ ছিলেন। সারাক্ষণ স্বামী আর সন্তানদের সঙ্গে আনন্দে মেতে থাকতেন তিনি। গত বছর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের ২৬ দিন পর ছেলের কাছে একটা ফোন কল আসে। বলা হয়; তার বাবা জেলে মারা গেছেন।” তিনি আরও জানান, ‘‘কয়েকদিন আগেই আমার ছেলে তার বাবাকে সুস্থ দেখেছে। তাই সে তাদের জিজ্ঞাসা করে; কিভাবে তার পিতার মৃত্যু হয়েছে। তাদের উত্তর ছিলো; তারা কিছু জানে না। মর্গে গিয়ে লাশ নিয়ে আসতে হবে।’’

বাড়িতে যখন মরদেহ নিয়ে আসা হয়, তখন তার স্বামীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিলো বলে জানালেন ওই নারী। ‘‘আঘাতের চিহ্ন ছিলো শরীরে, হাতে এবং মুখে।’’ কর্তৃপক্ষ তাকে বলেছে; ‘‘এমনিতেই তার মৃত্যু হয়েছে।’’ তবে তার বিশ্বাস তাকে নির্যাতন করে মারা হয়েছে।

‘‘এখন আমার সন্তান তার বাবা হারিয়েছে। বাবার ভালোবাসা আমি দিতে পারবো না। বাবার ভালোবাসা কেইবা দিতে পারে। আমি আমার স্বামীর মৃত্যুর বিচার চাই।’’

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, রাজনৈতিক উদ্দেশপ্রণোদিত গ্রেফতার, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অহরহই ঘটছে ২০০৮ সাল থেকে ক্ষমতাসীন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন বলছে, নির্বাচনের আগ মুহূর্তে কর্তৃত্ববাদি আচরণের মাধ্যমে বিরোধীদের দমন করা হচ্ছে। ‘‘এখানে ভিন্নমতের, সমালোচনার কোন জায়গা নেই। অথচ গণতন্ত্রের জন্য এগুলো সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ।’’ হিউম্যান রাইটসের এশিয়া বিভাগের উপ-পরিচালক মিনাকশি গাঙ্গুলী এ কথা বলেন। এমন পরিস্থিতিতে রবিবার, ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি। একারণে শেখ হাসিনা এবং তার রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের কোনো সত্যিকার প্রতিদ্বন্দ্বি নেই। অনেকটা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসছেন শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন; বিরোধী দমনের মতো কোনো ঘটনা বাংলাদেশে ঘটছে না। এখানে নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে সরকার বদ্ধ পরিকর। ‘‘সরাসরি একটা কলা বলি; আমরা কাউকে দমিয়ে রাখছি না। সবার কথা বলার অধিকার আছে এবং আমরা সবাইকে এ ব্যাপারে স্বাগত জানাই।’’ বলেন আনিসুল।

এ ব্যাপারে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘‘কথা মুক্তভাবে বলা যায়, তবে এর যে পরিণতি হয় তার দায়দায়িত্ব কেউ নেয় না। এর আগে যারাই কথা বলেছে, তাদের অনেককেই গ্রেফতার এবং নির্যাতন করা হয়েছে। এমনকি জেলের মধ্যে কাউকে হত্যাও করা হয়েছে। রাতে অনেকেই বাসায় ঘুমায় না। এই ভয়ে; কখন এসে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।”

স্বামীহারা ওই নারী বলেছেন, স্বামীর রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে এখন পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে তারা আতঙ্কে আছেন। ‘‘এলাকায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অনেক লোক আছে। ‘তারা আমাকে এবং আমার ছেলেকে হয়রানি করতে পারে।’’ ওই নারীর বিশ্বাস, তার স্বামী যা করেছেন তা দেশের জন্য ঠিক করেছেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের বৈধতা নেই বলেও মনে করে সে। তার ভাষায়, ‘‘এখানে অতিরিক্ত শক্তি দেখাচ্ছে আওয়ামী লীগ। আমার স্বামীর প্রতি সম্মান রেখে আমি ভোট দেবো না।’’

হিউম্যান রাইটসের তথ্য বলছে; বর্তমানে বিএনপির ১০ হাজারের বেশি নেতাকর্মী জেলে আছেন।  

সংবাদ উৎস-বিবিসি ওয়ার্ল্ড

- Advertisement -
- Advertisement -

আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত