28 C
Dhaka
সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২

সময়ের পাতায় ‘২৫ মার্চ’

বিশেষ সংবাদ

Juboraj Faishal
Juboraj Faishalhttps://www.nagorik.com
Juboraj Faishal is a News Room Editor of Nagorik TV.
- Advertisement -

ইতিহাসের পাতায় ২৫ মার্চ শুধুই কি একটি দিন? অন্য সব দিনের মতো এই দিনটিও সূর্য অস্ত গিয়েছিল পশ্চিম আকশে। সবার অপেক্ষা ছিল নতুন সকালের। কিন্তু মধ্যরাতে ঘুমন্ত নিরপরাধ জাতির ঘুম কেড়ে নিলো মেশিনগান আর কামানের শব্দ। মুহূর্তে আকাশে বাতাসে শোনা গেল স্বজন হারানোর আর্তনাদ আর চিৎকার।

কিছুই বুঝে ওঠার আগে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরীহ বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পৈশাচিক হত্যার উল্লাসে। পাকিস্তানি দানবরা মেতে ওঠে নির্বিচারে স্বাধীনতাকামী বাঙালি নিধনযজ্ঞে। যার নাম ‘অপারেশন সার্চলাইট’ ।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের এই বর্বর গণহত্যা ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়। মধ্যরাতের পর ঢাকা মহানগরী প্রকম্পিত হতে থাকে বোমা আর গুলির বর্ষণে। বারুদের তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।

এর আগে ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়লাভ করা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের কাছে পাকিস্তানিরা ক্ষমতা হস্তান্তর না করার ফলে একধরনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়।  এই অচলাবস্থা নিরসনের প্রক্রিয়া যখন চলছিল ঠিক তখনই পাকিস্তানি সেনারা কুখ্যাত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নাম দিয়ে নিরীহ বাঙালি বেসামরিক লোকজনের ওপর গণহত্যা শুরু করে।

তৎকালীন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল টিক্কা খান বর্বর সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে নির্মমভাবে গণবিদ্রোহ দমনে সচেষ্ট হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ হেড কোয়ার্টার, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের প্রধান কার্যালয় পিলখানা সেনা-অভিযানে বিধ্বস্ত হয়।

‘অপারেশন সার্চলাইট’ সম্পর্কে পাকিস্তানি পরিকল্পনার কথা জানা যায় ১৯৭১ সালে পাকিস্তানে ইস্টার্ন কমান্ডের জনসংযোগ কর্মকর্তা মেজর সিদ্দিক সালিক লিখিত ‘উইটনেস টু সারেন্ডার’ গ্রন্থ থেকে। সিদ্দিক সালিক লিখেছেন, মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা ২৫ মার্চ রাজনৈতিক আলোচনার ফলাফল জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে ছিলেন।

সকাল প্রায় ১১টার সময় তার সবুজ টেলিফোন বেজে উঠল। লে. জেনারেল টিক্কা খান লাইনে ছিলেন। তিনি বললেন, খাদিম এটা আজ রাতে। এ খবর খাদিমের মনে কোনো উন্মাদনার সৃষ্টি করল না, তিনি হাতুড়ির আঘাত পড়ার অপেক্ষায় ছিলেন। খাদিম তার অধীনস্থ মহলে আদেশটি বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশ দিলেন।

 

শুধু নিষ্ঠুর ও বীভৎস হত্যাকান্ডই নয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে থাকা গণমাধ্যমও সেদিন রেহাই পায়নি জল্লাদ ইয়াহিয়ার পরিকল্পনা থেকে। পাক হানাদাররা সেই রাতে অগ্নিসংযোগ, মর্টার সেল ছুঁড়ে একে একে দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক সংবাদ, জাতীয় প্রেসক্লাব ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে। এ হামলায় জীবন দিতে হয় বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকেও।

গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশের হত্যাযজ্ঞকে বিশ শতকের পাঁচটি ভয়ঙ্কর গণহত্যার অন্যতম বলে উল্লেখ করে। ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘নিরাপত্তা বিষয়ক আর্কাইভ’ তাদের অবমুক্তকৃত দলিল প্রকাশ করে। সেখানে বাংলাদেশের নারকীয় হত্যালীলাকে ‘জেনোসাইড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

 

১৯৮১ সালে জাতিসংঘ সংস্থার এক রিপোর্টে বলা হয় “Among the genocides of human history, the highest number of people killed in lower span of time is in Bangladesh in 1971. An average of 6000 (six thousand) to 12 000 (twelve thousand) people were killed every single day…This is the highest daily average in the history of genocide’s.”

 

কী দ্রুতগতিতে পার হয়ে গেল মুক্তিযুদ্ধের পর ৪৭ বছর।  ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পৃথিবীর ইতিহাসে এক নৃশংসতম গণহত্যার নজির স্থাপন করেছিল হানাদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। বাঙালির ইতিহাসে এ রাত চিহ্নিত হয়ে আছে বর্বর গণহত্যার স্মারক ‘কালরাত’ হিসেবে।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী
- Advertisement -
- Advertisement -

আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বাধিক পঠিত