সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ২৮৮ জন। ♦♦ নতুন ২৯ জনের মৃত্যুর ফলে দেশে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ৯৯৭ জনে। নতুন ৩ হাজার ২৮৮ জনসহ মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৫৯ হাজার ৬৭৯ জন। ♦♦ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৬৭৩ জন। আর মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৭০ হাজার ৭২১ জন। ♦♦ করোনা উপসর্গ দেখা দিলে অথবা করোনা বিষয়ক জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পেতে ৩৩৩ অথবা ১৬২৬৩ নম্বরে কল করুন এবং তথ্য পেতে www.corona.gov.bd ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।। এ ছাড়া আইইডিসিআরের ইমেইল বা ১৬২৬৩ নম্বরে ফোন করা যাবে। ♦♦ www.livecoronatest.com এ আপনি ঘরে বসেই কোভিড-১৯ বা নভেল করোনা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কি'না, তা নিজেই মূল্যায়ন করতে পারবেন। এমনকি আপনার ঝুঁকির মাত্রা ও করনীয় সম্পর্কেও জানতে পারবেন।

ফিচার

করোনার জিনোম সিকোয়েন্স

রাশেদুল ইসলাম

SARS-CoV-2 এর জেনেটিক উপাদান হচ্ছে RNA বা Ribonucleic Acid। যার মধ্যে ভাইরাসের প্রয়োজনীয় সব জিন থাকে। মানুষের শরীরে প্রবেশের পর এই জিনগুলো থেকে প্রোটিন তৈরি হয়। যা পরবর্তিতে নতুন ভাইরাসের শারীরিক কাঠামো তৈরিতে কাজ করে। ভাইরাসের সম্পূর্ণ RNA কে একসাথে ভাইরাসের জিনোম বলে। আর জিনোমের জেনেটিক উপাদান তৈরির একক হচ্ছে নাট্রজেন বেইস। সংক্ষেপে যাদের A,T,G,C অক্ষর দিয়ে প্রকাশ করা হয়। জেনেটিক উপাদানের নাট্রজেন বেইসগুলো কিভাবে সজ্জিত তা জানার জন্য সিকোয়েন্সিং করা হয়।

গত ডিসেম্বরে চীনা বিজ্ঞানীরা উহানে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের দেহ থেকে ভাইরাস নিয়ে জিনোম সিকোয়েন্স করে। যার মাধ্যমে জানতে পারে নতুন ভাইরাসটির জিনোম অন্যান্য জানা করোনাভাইরাসের সাথে প্রায় ৮০% মিল রয়েছে। তারাই সর্বপ্রথম এই ভাইরাসের জিনোম সিকোয়ন্স করে। পরবর্তিতে অন্যান্যরা এই সিকোয়েন্সটিকে আদর্শ ধরে বাকি জিনোমগুলোর তথ্য বের করে। মহামারির পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৫ হাজারের বেশি SARS-CoV-2 এর জিনোম সিকোয়েন্স জমা পড়েছে বিভিন্ন ডেটাবেইসে।

গত ১২ মে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং উন্মোচন করে। এ কাজে নেতৃত্ব দেন প্রতিষ্ঠানটির অণুজীববিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা। যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তাঁর বাবা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা শিশু হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক সমীর সাহা। গত ২১ মে বাংলাদেশে সংক্রমিত করোনাভাইরাসের সাতটি নমুনার পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিং করার কথা জানায় বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং চট্টগ্রামের ভেটেরনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়।

ভাইরাস দ্রুত বংশবিস্তার করে তাই এর জিনোম সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হতে থাকে। জিনোম সিকোয়েন্স থেকে ভাইরাসের আদি উৎস সম্পর্কে জানা যায়। তাছাড়া, দেশভেদে ভাইরাসের মধ্যে কতটুকু মিল আছে এবং কত সময়ে কি পরিমাণ বিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধরণ করবে ইত্যাদি। এক্ষেত্রে ভাইরাস যদি দ্রুত জেনেটিক উপাদান পরিবর্তন করে তাহলে অনেক ঔষধ কিংবা টিকা কার্যকর নাও হতে পারে। তাই কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে স্থায়ী এবং কার্যকর ভ্যাকসিন তৈরি এখন মূল চ্যালেঞ্জ। ভবিষ্যতে কোন অঞ্চলে ভাইরাসটির প্রতিষেধক কাজ না করলে জিনোম থেকে এর কারণ বোঝার একটা সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভাইরাসের সব জিনের তথ্য জিনোমেই থাকে। তাই জিনোম জানার মাধ্যমে ভবিষ্যতে নতুন অনেক গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে।  

লেখক: পিএইচডি ছাত্র, ব্রিটিশ কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, কানাডা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LIVE

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশ

আক্রান্ত
১৫৯৬৭৯
সুস্থ
৭০৭২১
মৃত্যু
১৯৯৭
সূত্র:আইইডিসিআর

বিশ্ব

আক্রান্ত
১১২০৯০৩৩
সুস্থ
৬৩৫৬১৮১
মৃত্যু
৫২৯৪৭৫
সূত্র: ওয়ার্ল্ড মিটার
চোখে মুখে মৌমাছি নিয়ে চার ঘণ্টা!
বলিউড, মানসিক চাপ, আত্নহনন
দ্রুত ভ্যাকসিন পৌঁছে দিতে চায় বিল গেটস ফাউন্ডেশন
ভিডিয়ো কনফারেন্স অ্যাপ মিট এখন জিমেলের সাথে যুক্ত