প্রযুক্তি ,

ইভ্যালি: স্বপ্ন ও স্বপ্নপূরণের গল্প

গল্পগুলো সমাজের কিছু মানুষের স্বপ্নপূরণের গল্প। একজন মানুষ যেহেতু একটি সমাজের একক তাই এভাবেই সমাজের একেকজন মানুষের স্বপ্নপূরণের পাশাপাশি সমাজের বৃহত্তর পরিবর্তনে ইভ্যালি ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে অনলাইন কেনাকাটার সাথে যারা পরিচিত তারা কমবেশি সবাই ইভ্যালির নাম শুনেছেন। ইভ্যালির স্লোগান হলো – Born To Lead অর্থাৎ নেতৃত্ব দিতেই জন্ম। ২০১৮ সালের ১৬’ই ডিসেম্বর ইভ্যালি যাত্রা শুরু করে।

গত ১৬’ই ডিসেম্বর ২০১৯ ইভ্যালি তাদের প্রথমর্ষ পূর্তি উদযাপন করে। এক বছরে ইভ্যালি তার ব্যাতিক্রমধর্মী কাজ দিয়ে গ্রাহকদের মাঝে সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে অনলাইন কেনাকাটায় আগ্রহী তরুণ প্রজন্ম ইভ্যালিকে সাদরে গ্রহণ করে নিয়েছে। ইভ্যালিও বিভিন্ন রকম অফারের মাধ্যমে তাদের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে এসেছে। এই ভাবেই অনেকের কাছেই ইভ্যালি হয়ে উঠেছে একটি ভালোবাসার নাম। ইভ্যালির মাধ্যমে স্বপ্নপূরন হয়েছে এমন কয়েকজন গ্রাহকের গল্প নিয়েই এই প্রতিবেদন।

গল্পগুলো সমাজের কিছু মানুষের স্বপ্ন পূরনের গল্প। একজন মানুষ যেহেতু একটি সমাজের একক তাই এভাবেই সমাজের একেকজন মানুষের স্বপ্ন পূরনের পাশাপাশি সমাজের বৃহত্তর পরিবর্তনে ইভ্যালি ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

আবু শাহরিয়ার সরকার
আমার বাবা। আমাদের জন্য অজস্র ত্যাগ স্বীকার করেছেন। কিন্তু কখনো বুঝতে দিতে চান নি। ২-৩ বছরেও একটা নতুন শার্ট বা জুতো কিনতেন না। মুখে হাসি মেখে বলতেন, “আমার লাগবে না, তোমরা কিনো।”

আমরা দুই ভাই কিশোর বয়স থেকেই বুঝতাম যে আমাদের চাহিদা পূরণের জন্য বাবা বছরের পর বছর নিজের শখ আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কিছু করার ছিল না।

৩৩ বছর ধরে বাবা একটি জীর্নশীর্ন সাইকেল মেরামত করে করে চালাচ্ছিলেন। আমার স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে বাবার জন্য কিছু করার। এমন কিছু যেন এত কষ্ট করে আমাদের মানুষ করার জন্য আমরা কতটা কৃতজ্ঞ সেটা বাবাকে বোঝাতে পারি।

ইভ্যালির ১৯:১৯ অফার যেন ঠিক এই স্বপ্নটাই সত্যি করার পথ দেখিয়ে দিল। ১৫০% ভাউচারে বাবার জন্য একটি বাইক অর্ডার করলাম।

দিনটা মনে আছে, কারণ ভুলবার মত নয়। নভেম্বরের ৩ তারিখ, বাবাকে যেদিন সারপ্রাইজটা দিলাম। বাইক পেয়ে বাবার চোখেমুখে যে স্বর্গীয় হাসি দেখেছি, এই হাসি ছাড়া ছেলে হিসেবে আমার আর কিছুই চাওয়ার নেই।

আমার বাবা সারাজীবন অনেক স্ট্রাগল করেছেন। ইভ্যালিকে ধন্যবাদ, আমাকে আমার বাবার মুখে এই অমূল্য হাসি ফুটিয়ে তোলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।

মোহাম্মদ রুম্মান ইসলাম
আমি মোহাম্মদ রুম্মান ইসলাম, একজন গার্মেন্টস কর্ম। বেতন যা পাই, খুব সুক্ষ্ম হিসেব নিকেশ করে চলতে হয়। কিঞ্চিৎ কিছু সঞ্চয় হয়, যেটা আবার ব্যবহার হয় যখন চাকুরী থাকে না তখন।

অনেক দিন ধরে একটা ল্যাপটপ কেনার কথা ভাবছিলাম। কারন যখন চাকরি থাকে না তখন সিভি পাঠাতে হয় বিভিন্ন জায়গায়। এতে টাকা ও লাগে আর যখন তখন পাঠানো যায় না। তাই একটা ল্যাপটপ দরকার।

গত মে মাসে ফেসবুকের বিজ্ঞাপন দেখে বসুন্ধরা সিটিতে গিয়েছিলাম পুরোনো একটা ল্যাপটপ কিনতে, কিন্তু টাকার স্বল্পতায় ভালো কনফিগারেশন পেলাম না। অবশেষে খালি হতে চলে এলাম। মাথা থেকে ল্যাপটপের চিন্তাও বাদ দিলাম। অবশেষে ফেসবুকেই এক ভাইয়ের পোস্ট এ প্রথম ইভালি সম্পরকে জানতে পারি। কেনো জানি রেজিষ্টেশন করে ফেললাম। ইভালী গ্রুপে এড হলাম।

সবার পোস্ট দেখে ইচ্ছে হলো স্বপ্ন পূরণের, এসে গেলো ডার্ক নাইট ২। রাত জেগে বউ কে কিছু না জানিয়ে একটি ল্যাপটপ নিয়ে নিলাম। সকাল বেলা বউ এর সাথে আলাপ করে নিজের সমস্ত জমানো টাকা দিয়ে পেমেন্ট করে দিলাম। ২৬০০০ টাকা, আল্লাহ্ ভরসা। ৫ দিন পর পেলাম ক্যাশব্যাক ৯০০০টাকা , ফুল পেমেন্ট করে দিলাম।

এরপর অপেক্ষা আরো ৪ দিন পর অর্ডার পিক হলো। সাথে সাথে ফোন দিলাম গ্লোবাল ব্র্যান্ড শপে , রাজু ভাই জানালো আগামী বৃহস্পতিবার কুরিয়ার হবে, যেহেতু আমার প্রথম অর্ডার ইভালিতে আমি খুব উত্তেজনায় ছিলাম। বৃহস্পতিবারেই আবার কল দিলাম। কিন্তু আজও কুরিয়ার হয় নাই। আবার রবিবার ফোন দিলাম, শপ বন্ধ। মনের মধ্যে একটা ভয় দেখা দিল। বউ ও ভয় দেখায়। খুব চিন্তায় পরলাম। রাজু ভাই আবার জানালো বৃহস্পতিবারেই। কিন্তু হলো না।

শনিবার ফোন দিলাম জানালো, সোমবারে হবে। সোমবার ফোন দিলাম, রাজু ভাই আমার অবস্থা দেখে শপে ডেকে নিল। চলে এলাম শপে, রাজু ভাই অসম্ভব ভালো মানুষ। ১০ মিনিটের মধ্যে আমাকে আমার স্বপ্নের ল্যাপটপটা বুঝিয়ে দিল। সাথে একটা সারপ্রাইজ গিফট, আমার হাত পা কাঁপছিল। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। স্বপ্ন আমার হাতে, এক প্যাকেট বিরিয়ানি , বাচ্চার জন্য চিপসের প্যাকেট নিয়ে বউ কে সারপ্রাইজ দিলাম। স্বপ্ন হাতের মুঠোয়।

আমি মধ্যবিত্ত তাই এটাই হয়ত ছিল আমার কাছে অনেক বড়ো কিছু, দোয়া করি ইভালি যেনো আমার মত লাখ লাখ মানুষের স্বপ্ন পূরণ করে।

সোনিয়া আখতার
আমার ছোটবেলা থেকেই বাড়িতে একটি সোফাসেটের খুব শখ ছিল। বাবার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আর্থিক সমস্যার কারণে এতদিন কেনা হয়ে ওঠেনি। কিন্তু ইভ্যালি যখন ২০০%, ৩০০% পর্যন্ত ভাউচারের অফার দিচ্ছিল, তখন যে কত ভাল লেগেছে আপনাদেরকে বুঝাতে পারব না। সোফা তো সাধ্যের মধ্যে এসে পড়েই – এমনকি বাবা ও ভাইয়া মিলে একটি ডাইনিং টেবিলও কিনে আনে।

এখন আমাদের বাসার চেহারাই পাল্টে গেছে। শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইভ্যালি যতগুলো অফার দিয়েছে তার প্রায় সবই লুফে নিয়েছি – ১০০০ টাকার ফ্রি কেনাকাটা, ৫০০ টাকা পর্যন্ত ফ্রি বই – আরো অনেক কিছু।

একদিন আমার অতি প্রয়োজনীয় জিনিষ স্মার্টফোনটি চুরি হয়ে যায়। সেসময় আর্থিকভাবেও বিপদে আছি। কি করে যেন ঠিক তখনই ইভ্যালি স্মার্টফোনের উপর একটি আকর্ষণীয় অফার দিল। ইভ্যালির থান্ডারস্টর্ম অফারে আমি ও ভাইয়া, দু’জনে অল্প দামের ভেতরই দু’টি high-end স্মার্টফোন কিনি।

বর্তমানে ইভ্যালির প্রতি আমাদের এমন আস্থা তৈরী হয়েছে যে বাড়ির নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যগুলিও ইভ্যালি থেকে কেনা হয়। চাল-ডাল, মসলা থেকে শুরু করে সিলিং ফ্যান পর্যন্ত কোন কিছুই বাদ নেই।

ইভ্যালিকে নিয়ে বলে শেষ করা যাবে না। রাসেল ভাই এবং ইভ্যালির জন্য অনেক দোয়া রইল যেন ইভ্যালি সগর্বে বিশ্ব দরবারে এগিয়ে যেতে পারে।

ইভ্যালির পক্ষ থেকে লিখেছেন, আকাশ মামুন

LIVE


মোবাইল-টিভিতে চোখ, কতটা ক্ষতি হচ্ছে শিশুর!
কেন নেবেন কাউন্সেলিং সেবা?
টেইলর সুইফটের প্রতিদিনের রুটিন
আমাজন রেইন ফরেস্টের নিধন বেড়েছে ৮৫ শতাংশ