22 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৪
বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৪

সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ ৮ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে

বিশেষ সংবাদ

- Advertisement -

অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের নেওয়া পুঞ্জীভূত ঋণ ৮ লাখ কোটি টাকা (৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) ছাড়িয়েছে। গত এক বছরে দেশীয় উৎস থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের পরিমাণ ১ লাখ কোটি টাকা বেড়েছে। ২০২২ সালের অক্টোবরে সরকারের অভ্যন্তরীণ উৎসের পুঞ্জীভূত ঋণের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৫ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা, যা ২০২৩ সালের একই মাস পর্যন্ত সময়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৯ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা। 

সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ নিয়ে বৃহস্পতিবার, ৪ জানুয়ারি, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এই প্রতিবেদনে ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। উল্লেখিত সময় পর্যন্ত ব্যাংক থেকে নেওয়া সরকারের পুঞ্জীভূত ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ লাখ ৮২ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা। আর ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে নেওয়া পুঞ্জীভূত ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ লাখ ২৭ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা। 

সরকার সঞ্চয়পত্র, বিল ও বন্ড বিক্রি করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে ব্যাংকবহির্ভূত ঋণ নেয়। সরকারের খরচ চালানোর বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে ট্রেজারি বিল ও বন্ড। কারণ, রাজস্ব আদায় কাঙ্ক্ষিত হারে হচ্ছে না। তা ছাড়া সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিবর্তে এখন ভাঙানোই হচ্ছে বেশি। আবার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ছাপিয়ে ঋণ নেওয়াও বন্ধ করেছে সরকার। এ জন্য ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে টাকা ধার করছে সরকার, যা দিন দিন বাড়ছে। এতে ট্রেজারি বিলের সুদহার বাড়ছে। ৪ জানুয়ারি সাড়ে ১১ শতাংশ পর্যন্ত সুদে টাকা ধার করেছে সরকার, যা বিদায়ী বছরের জুনে ৮ শতাংশের নিচে ছিল। বৃহস্পতিবার নিলামের মাধ্যমে সরকার একদিনেই ধার করেছে ৬ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা।

মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় গত জুলাই থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারকে ঋণ দেওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। এ কারণে ২০২৩ সালের শেষের দুই মাসে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে সরকারের ধারের পরিমাণ বেড়েছে।

গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ কমে যাওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, ব্যাংকে তারল্য–সংকট ছিল, তাই সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ধার করা কমিয়েছে। দ্বিতীয়ত, উচ্চ মূল্যস্ফীতি থাকায় সরকারকে ঋণ দেওয়া কমিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। আবার অর্থবছরের শুরুতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নেও ছিল ধীর গতি। 

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা এবং ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে ২৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার কথা। ব্যাংকবহির্ভূত খাতের মধ্যে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে ১৮ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। 

সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এ সময়ে সঞ্চয়পত্রের প্রকৃত বিক্রি কমেছে। ফলে সার্বিকভাবে সরকারের ঋণও কমেছে। 

বিশ্লেষকেরা বলছেন, নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হয় সীমিত আয়ের মানুষকে। ফলে মানুষের মধ্যে সঞ্চয়ের প্রবণতা কমেছে। আবার অনেকে সঞ্চয় ভাঙিয়ে জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় নির্বাহ করেছেন। 

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির তুলনায় সরকারের ঋণ এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে ঋণের ক্ষেত্রে সরকারের সতর্ক থাকা উচিত।

- Advertisement -
- Advertisement -

আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত