33 C
Dhaka
সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২

গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স: দোকান বিক্রিতে প্রতারণার অভিযোগ

বিশেষ সংবাদ

- Advertisement -

রাজধানীর গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সে দোকান বিক্রিতে প্রতারণার অভিযোগ করছেন অনেক ব্যবসায়ী। তারা বলছেন, সব নিয়ম মেনেই, এক যুগ আগে দোকান কিনেছিলেন তারা। ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ না করেই, লাপাত্তা হয়ে যায়। এখন ফিরে এসে বাকি কাজ করতে গিয়ে, একটি ফ্লোরের সব দোকান ভেঙে দিয়েছে। চলছে আবারো বিক্রির পাঁয়তারা।

এক যুগ আগে রাজধানীর গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সে, দেড় হাজার স্কয়ার ফুটের একটি দোকান কেনেন মো. মান্নান। ভেবেছিলেন, একটি কারখানার অফিস গড়বেন, যা হবে তার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। সেই দোকান ভেঙে দেয়া হয়েছে। নিঃস্ব মান্নান এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

মান্নানের নথিপত্র বলছে, ২০০৮ সালে প্রায় ২৩ লাখ টাকায় অফিসের জায়গাটি কেনেনে তিনি। যাতে সই রয়েছে ভেডেলপার প্রতিষ্ঠান দ্য ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ার্সের। চুক্তি অনুযায়ী, জমির মালিক মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্র্যাস্টকে, জমিদারি ভাড়াও দিয়ে আসছেন প্রতি মাসে।

নাগরিক টেলিভিশনের কাছে, এমন অভিযোগ জানিয়েছেন আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী। তাদের একজন আব্দুল হক। পথে বসেছেন তিনিও।

বিপণিবিতানটি হওয়ার কথা ছিলো ২০ তলা। হয়েছে ১০ তলা পর্যন্ত। দীর্ঘদিন পর এখন বাকি কাজ শেষে করতে গিয়ে, ১০ তলার দোকানগুলো ভেঙে দেয়া হয়েছে। তাতেই কপাল পুড়েছে অনেকের।

এদিকে, আবারো নির্মাণকাজ শুরু করায়, কমপ্লেক্সের নিচে দুই দিকে টিন দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায়, ক্ষতির মুখে কমপ্লেক্সের নিচতলার ব্যবসায়ীরাও।

জমিটির মালিক মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট। তাদের সঙ্গে ভবন নির্মাণের চুক্তি করে, দ্য ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ার্স। চুক্তিটিতে জমির ভাড়া ছাড়া, ট্রাস্টের ভাগে নেই কোনো দোকান বা ফ্লোর- কিছুই। ২০০১ সালে রীতিমতো বিজ্ঞাপন দিয়ে, দোকান, অফিস ও বাণিজ্যিক স্পেস বিক্রি করে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। কাজ বাকি রেখে, এক পর্যায়ে লাপাত্তা হয়ে যান প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান।

অনুসন্ধানে জানা যায়, লাপাত্তা হওয়ার আগেই, ৩৯৬টি দোকান বরাদ্দ দেন, ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ার্সের চেয়ারম্যান এস এম আলাউদ্দিন। এরপর কোম্পানির দুই পরিচালক এস এম জিয়াউল হক ও গোলাম মোস্তফা কামাল, প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আরও ১৫৮টি দোকান বরাদ্দ দেন।

কয়েক দফা ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ার্সের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে নাগরিক। তিনি কথা বলতে রাজি হননি। পরে মুঠোফোনে জানান, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্র্যাস্টের পক্ষ থেকে দোকান ভাঙা হয়েছে।

এ নিয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে নারাজ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ। এদিকে, গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক, দোকান ভাঙার বিষয়ে দায় চাপান নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের উপর।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বলছেন, একটি দুষ্ট চক্রের খপ্পরে পড়েছেন তারা। যারা একই দোকান, দ্বিতীয়বার বিক্রির পাঁয়তারা করছে।

- Advertisement -
- Advertisement -

আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বাধিক পঠিত