22 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৪
বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৪

১৫ চিনিকলের ১৪টিই লোকসানে: মদ বেচে লোকসান ঠেকাচ্ছে দর্শনা কেরু এন্ড কোং

বিশেষ সংবাদ

- Advertisement -

দেশে মোট সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৫টি চিনিকল আছে। এর মধ্যে ১৪টিই গুনছে লোকসান । দেশের একমাত্র লাভজনক চিনি কল কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ডিস্টিলারি ইউনিট। ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ৪৩৯ কোটি টাকার মদ বিক্রি করেছে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের ডিষ্টিলারি ইউনিট। রাজস্ব ও লোকসান সমন্বয় করে এ বছর মুনাফা অর্জন করেছে ৮০ কোটি টাকার বেশি। যা গত অর্থ বছরের চেয়ে প্রায় ১৩ কোটি টাকা বেশি। একই সঙ্গে এবছর রেকর্ড ১৪৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব জমা দেয়া হয়েছে।

চিনিকল কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, ২০২৩-২৪ চলতি মৌসুমে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির নিজস্ব ১ হাজার ১৫৩ একর জমিতে আখ চাষ হচ্ছে। এর বাইরে সাধারণ চাষীরা আখ চাষ করছে ২ হাজার ৬৪৯ একর জমিতে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬৫ হাজার মেট্রিক টন আখ উৎপাদন করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে এ কোম্পানীর। যা থেকে ৪ হাজার মেট্রিকটন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

১৯৩৮ সালে চুয়াডাঙ্গায় প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের বৃহত্তম চিনিকল দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড। এই শিল্প কমপ্লেক্সটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগের চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দর্শনার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটিতে দেশী লাল চিনি, মদ, জৈব সার, চিটাগুড়,মণ্ড ইত্যাদি উৎপাদিত হয়।

প্রতিষ্ঠার সময় কেরু এন্ড কোং (বাংলাদেশ) লিঃ এর দৈনিক আখ মাড়াই ক্ষমতা ছিল ১০১৬ ( ১ মেট্রিক টন= ১ হাজার কেজি) মেট্রিক টন বা ১০ লাখ ১৬ হাজার কেজি। জাতীয়করণের পরে ১৯৭৮-৮৫ সালে অস্ট্রেলীয় কারিগরি সহযোগিতায় এর দৈনিক আখ মাড়াই ক্ষমতা বেড়ে দাঁড়ায় ১১৫০ মেট্রিক টন এবং চিনি উৎপাদন ক্ষমতা প্রতি অর্থবছরে ১১৫০ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়।

বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং চুয়াডাঙ্গায় তিনটি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে এ কোম্পানীর। কেরু এন্ড কোম্পানীর চিনি তৈরির কাচাঁমাল সংগ্রহ করা হয় অনেকটা নিজস্ব প্রক্রিয়ায়। চিনি উৎপাদনের মূল উপাদান আঁখ মাঠ থেকে সংগ্রহ শেষে ট্রাক্টরে করে চিনিকলে নেওয়া হয়। সেখানে চিনি তৈরির সরঞ্জাম কনভেয়ার বেল্টে ছাড়া হয় আস্ত আঁখ। কনভেয়ার বেল্ট থেকে আঁখ ক্রাশার মেশিনে পৌঁছায়। সেখানে আঁখ থেকে রস বের করা হয়। তারপর আরও কয়েকটি ধাপ পার হয়ে তৈরি হয় দেশী লাল চিনি।

কেরুর চিনি তৈরির প্রথম ধাপে কাজ করা শ্রমিকদের সর্দার মো.কামাল উদ্দিন বলেন, এখানে প্রধানত সাধারণ কৃষকের মাঠের আঁখ ও ফার্মের আঁখ আসে। তারপর আমরা লেবাররা ডুঙ্গা করি এরপর ক্রেণে তুলি। তারপর আঁখ মিল হাইজে যায়। তারপর রস,চিনি,গুড়  ইত্যাদি হয়।’

কারখানার চিনি তৈরির পরের ধাপে কর্মরত আরেক শ্রমিক বলেন, চিনি তৈরির পর আমরা সেগুলো বস্তায় ভরি। এরপর সেই চিনি গোডাউনে যায়। তারপর ওখান এগুলো এক কেজি, হাফ কেজি, এক পোয়া ইত্যাদি মাপে প্যাকেটজাত করা হয়।’

কেরু এ্যান্ড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড উৎপাদন ব্যবস্থাপক মিনাল কান্তি বিশ্বাস বলেন, আখের রসকে বিশুদ্ধকরণের জন্য প্রক্রিয়াজাত করি। এক্ষেত্রে আমরা কোন ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করি না। এখানে শুধুমাত্র দুইটি উপাদান ব্যবহার করা হয়: সালফার অক্সাইড গ্যাস এবং চুন। সেন্ট্রিফিউগাল মেশিনের সাহায্যে চিনি নিষ্কাশন করা হয়। সেই চিনিটা প্যাকেট জাত করে গুদামে সংরক্ষণ করা হয় এবং পরে বাজারজাত করা হয়।

তিনি আরো বলেন, আমাদের চিনি শিল্পের কাঁচামাল আখঁ থেকে কোন উপাদানই বাদ যায় না। আখ থেকে উৎপাদিত প্রত্যেকটি উপাদানই আমরা ব্যবহার করে থাকি।  আখ থেকে রস নিংড়ানোর পরে যেই ছোবলাটা থাকে, সেইটাও আমরা ব্যবহার করি। আখ থেকে অ্যালকোহল এবং সারও তৈরি করি আমরা।

- Advertisement -
- Advertisement -

আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত