28 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১১, ২০২২

শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রহত্যা

বিশেষ সংবাদ

- Advertisement -

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে জেগে উঠেছে ছাত্রসমাজ।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষের ভেতর পিটিয়ে হত্যা করা হয় তাকে।

শিক্ষাঙ্গনে হত্যার এই ধারা চলছে অনেক দিন ধরেই।

মুহসীন হলের সেভেন মার্ডার

১৯৭৪ সালে মুহসীন হলের সেভেন মার্ডারের মতো নৃশংস হত্যাযজ্ঞ দিয়ে শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রহত্যার শুরু। ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হয় ৭ জন ছাত্রকে। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে এই হত্যাযজ্ঞে শফিউল আলম প্রধান সরাসরি জড়িত। বঙ্গবন্ধুর আমলেই বিচারে তার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ’৭৫-এর পর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। বরং জিয়া সরকার আমলে তাকে বিএনপিতে যোগদানের শর্তে ক্ষমা ঘোষণা করে মুক্তি দেওয়া হয়।

সাবেকুন নাহার সনি

২০০২ সালের ৮ জুন টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সন্ত্রাসীদের গোলাগুলিতে বুয়েটের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সনি নিহত হয়।

দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ২০০৬ সালের ১০ মার্চ হাইকোর্ট মুকিত, টগর ও সাগরের মৃত্যুদন্ডাদেশ বাতিল করে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন। এ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত এসএম মাসুম বিল্লাহ ও মাসুমকে খালাস দেন হাইকোর্ট।

যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত আসামি মুকিত পালিয়ে যান অস্ট্রেলিয়ায়। পলাতক রয়েছেন নুরুল ইসলাম সাগর ওরফে শুটার নুরু; জেলে রয়েছেন টগর।

আরিফ রায়হান দ্বীপ

২০১৩ সালে এক হেফাজতকর্মী এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে বুয়েটের শিক্ষার্থী আরিফ রায়হান দ্বীপকে। দ্বীপ বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষে পড়তেন। তিনি বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়কও ছিলেন। বুয়েটের নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন।

দ্বীপের ওপর হামলার ঘটনায় চকবাজার থানায় তার ভাই বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। পুলিশ এ ঘটনায় বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মেজবাহকে আটক করে। গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

আবু বকর

আবু বকর সিদ্দিক পড়তেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে। থাকতেন স্যার এফ রহমান হলে। ২০১০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে মারা যান তিনি।

ঘটনার পর একই হলের আবাসিক ছাত্র ওমর ফারুক বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত শেষে এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি সাইদুজ্জামান ফারুকসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় শাহবাগ থানার পুলিশ।

পরে বাদীর নারাজি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে সিআইডি মামলাটির অধিকতর তদন্ত করে এবং ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বর অভিযোগপত্র দেয়। তাতে আগের আটজনসহ আরও দুজনকে অভিযুক্ত করা হয়। আসামিদের সবাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

কিন্তু এই হত্যা মামলার রায়ে ছাত্রলীগের সাবেক ১০ নেতাকর্মীর সবাই বেকসুর খালাস পান। রায় হওয়ার আট মাস পর গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ পায়।

হাফিজুর রহমান মোল্লা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী হাফিজুর মোল্লা ছাত্রলীগের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গিয়ে নিউমোনিয়া ও টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মারা যান। জানা গেছে, হাফিজুর থাকতেন সলিমুল্লাহ মুসলিম (এস এম) হলের বারান্দায়, গভীর রাতেও তাকে যেতে হতো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে খুন!

গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো এক করে দেখা যায়, গত ১০ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে লাশ হয়েছেন ২৪ জন শিক্ষার্থী।

এই ২৪ জনের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ জন, রাজশাহীতে ৫ জন, ময়মনসিংহ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ জন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ জন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ জন, দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন।

এছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও ৩ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব হত্যাকাণ্ডের ১৭টি ঘটেছে ছাত্রলীগের আভ্যন্তরীন কোন্দলের কারণে!

- Advertisement -
- Advertisement -

আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বাধিক পঠিত