27 C
Dhaka
শুক্রবার, আগস্ট ১২, ২০২২

বিশ্বকাপ ফ্রান্সের

বিশেষ সংবাদ

Juboraj Faishal
Juboraj Faishalhttps://www.nagorik.com
Juboraj Faishal is a News Room Editor of Nagorik TV.
- Advertisement -

অভিনন্দন ফ্রান্স। অবশেষে জয় হলো তারুণ্যের। উদীয়মান শক্তি ছিনিয়ে নিলো রাশিয়া বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি। ফাইনালের জন্য অবিশ্বাস্য ফুটবল খেলা তুলে রেখেছিলো পগবা, এমবাপ্পে, গ্রিয়েজম্যান। পাল্টা গতির আক্রমণে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়েছে ক্রোয়েশিয়ান কিপার দানিয়েল সুবাসিচ। দুর্নিবার ফ্রান্সের কাছে ৪-২ গোলে হেরে শিরোপা স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেলো ক্রোয়েশিয়ার। আর ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জিতলো ফ্রান্স।

 

মস্কোর লুঝনিকি সেজেছিলো লাল-সাদা রঙ্গে। গ্যালারিতে ক্রোয়াট সমর্থকদের উচ্ছ্বাস-উন্মাদনা। গগণ বিদারী চিৎকারে কেঁপে উঠেছিলো রাশিয়ার রাজধানী মস্কো। মাঠেও ছিলো সেই ঝাঁঝ, বারুদে ম্যাচে দাপট দেখিয়েছে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচের শুরুর দিকে গোছানো ফুটবল খেলে ফরাসি ডিফেন্স কাঁপন ধরিয়েও গোল পায়নি মদরিচ, রাকিতিচ, প্যারিসিচ, মানজুকিচ।

 

ফ্রান্স এগিয়ে যায় আত্মঘাতী গোলে। গ্রিয়েজম্যান ফ্রি-কিকে মানজুকিচের মাথায় লেগে বল জড়ায় জালে। রাশিয়া বিশ্বকাপের এটি ১২তম আত্মঘাতী গোল। এরপর এক পাল্টা আক্রমণে ফ্রি-কিক পায় ক্রোয়েশিয়া। লুকা মদরিচের পরিকল্পনায় সমতা আনে ক্রোয়াট দল। অসাধারণ এক গোল করেন মিডফিল্ডার ইভাব প্যারিসিচ। প্রথমার্ধের শেষদিকে পেনাল্টি থেকে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। প্যারিসিচের হাতে লাগে বল, স্পট কিক থেকে গোল করেন আতোয়ান গ্রিয়েজম্যান।

 

দ্বিতীয়ার্ধে ৬ মিনিটের মধ্যে পরপর দুই গোল পেয়ে যায় ফ্রান্স। অতর্কিত গোল করে বসেন পল পগবা ও পরের গোলস্কোরার গতিমানব কিলিয়ান এমবাপ্পে। রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজের চতুর্থ গোল পেলেন এমবাপ্পে। দুই গোলে ভূমিকা আছে ক্রোয়েশিয়ান গোলরক্ষক প্যারিসিচের। কোনরকম প্রতিরোধ-ই গড়তে পারেননি মোনাকোর এই কিপার।

 

পিছিয়ে পড়ে আরও দুর্বার হয়ে ওঠে ক্রোয়েশিয়া। পুরাই ডিফেন্সিভ খেলা ফ্রান্সের রক্ষণে জোরালো সব আক্রমণ প্রতিহত হয় সহজেই। রাকিতিচ, মানজুকিচরা শুধু চেষ্টাই করে গেছেন। প্রাণপণ লড়েও আর গোল পায়নি মদরিচের দল। হতাশার অন্ধকার নিয়েই শেষ হয় ক্রোয়েশিয়ার বিশ্বকাপ মিশন। তবে রানার-আপ হওয়াটাও যে সম্মানের।

 

রাশিয়া বিশ্বকাপে বিভিন্ন কারণে আলোচিত দেশ ক্রোয়েশিয়া। টুর্নামেন্টের হট ফেভারিট দলগুলোর ভিড়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় যোগ্যতম দল হিসেবে। কিন্তু বাঁধা কাটলো না ক্রোয়াট দলের। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের হন্তারক ফ্রান্সের কাছেই আরেকবার ধরাশয়ী হলো ক্রোয়েশিয়া। আর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের বুনো উন্মাদে মেতে ওঠে দিদিয়ের দেশমের দল। খেলোয়াড় ও কোচ দুই ভূমিকাতেই ইতিহাসের তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে জিতলেন বিশ্বকাপ।

 

সাঙ্গ হলো রাশিয়া বিশ্বকাপ। কিন্তু শেষ হয়েও যেন হইলো না শেষ! সত্যি বিশ্বকাপ যেন রবীন্দ্রনাথের সংজ্ঞায় আদর্শ এক ছোট গল্প।

- Advertisement -
- Advertisement -

আরও পড়ুন

- Advertisement -

সর্বাধিক পঠিত