29 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২

তীব্র শীত উপেক্ষা করে রানির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাতভর অপেক্ষা

বিশেষ সংবাদ

Juboraj Faishal
Juboraj Faishalhttps://www.nagorik.com
Juboraj Faishal is a News Room Editor of Nagorik TV.
- Advertisement -

লন্ডনে গত তিন দিন ধরে টেমসের পাশাপাপাশি বয়ে চলেছে আরেকটি নদী। সে নদীটি প্রয়াত রানি  দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্রতি শ্রদ্ধার ভালোবাসার।  প্রবল শীতের মধ্যেও ৫ মাইল লম্বা সারিতে মানুষ অপেক্ষা করছে প্রিয় রানিকে শেষবার শ্রদ্ধা জানাতে। 

লন্ডনের টাওয়ার ব্রিজের পাশ ধরে ল্যাম্বেথ ব্রিজ পার করে সেই নদী শেষ হয়েছে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাাবের হল ঘরে, যেখানে তিনি শুয়ে আছেন্ রাষ্টীয় মর্যাদায়। 

ব্রিটেনের প্রয়াত রানির কফিনে শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের সারি ধারণক্ষমতা ছাড়িয়েছে।  নতুন করে কাউকে আর সারিতে দাঁডানোর অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। কারণ এখন যারা দাঁড়াবেন তাদের অপেক্ষা করতে হবে ১৪ ঘণ্টা। আর রানির শেষকৃত্য আগামিকালই। সোমবার সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত মরদেহ রাখা হবে ওয়েস্টমিনস্টার হলে।

গত তিন দিনে প্রায় সাড়ে সাত লাখ ব্রিটন রানিকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। সংখ্যাটি ক্রমাগত বাড়ছেই।  প্রতিদিন গড়ে সারিতে থাকছেন ২ লাখের বেশি মানুষ।  কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মানব আচরণ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কেইথ স্টিল এই সারির সবকিছুর পরিকল্পনা করেছেন।

এত লম্বা সারি দেখভালের জন্য রয়েছে প্রায় ২০০০ সেচ্ছাসেবী।  ৫০০ টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।  আছে খাবার, পানিয় জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা। সারিতে দঁড়ানো প্রতিটি মানুষ্কে দেয়া হয়েছে কিউআর কোডসহ রিস্ট ব্যান্ড।  প্রবীন ও শারিরীকভাবে অক্ষমরা পাচ্ছেন আলাদা সুবিধা।  তবে সব কিছু ছাড়িয়ে সারিবদ্ধ মানুষই একে অপরের দেখভাল করছেন।  বিপদে পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

লন্ডনের সাউথ পার্ক থেকে শুরু হয়েছে এই দীর্ঘ সারি।  সেখান থেকে টাওয়ার ব্রিজ প্রায় দেড় মাইল।  তারপর গড়ে একমাইল পরপর লন্ডন ব্রিজ, ব্ল্যাকফ্রায়ার ব্রিজ ও ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজ।  প্রতিটা পয়েন্টেই সারিতে দাঁড়ানো মানুষের জন্য জরুরি সেবা দেয়া হচ্ছে। 

রানীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মাত্র ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন অনেকে। লাইনে দাঁড়িয়ে গত দুই দিনে অসুস্থ হয়ে পড়েন শত শত মানুষ।  এরপরেও মানুষের সংখ্যা আরও বাড়ছেই।  পরম ভালোবাসার রানীকে ‘গুডবাই বলতে এত কষ্টকেও সামান্য মনে হচ্ছে ব্রিটনদের।

এত দীর্ঘ সারিতে ধৈর্য ধরে সুশৃঙ্খল অপেক্ষা আবার মনে করিয়ে দেয় ব্রিটিশদের বৈশিষ্ট্যগুলোর কথা। রাজতন্ত্রের প্রতি তাদের আস্থা কমতে থাকলেও ভালোবাসা কমেনি খুব একটা। ৭০ বছর যে রানি তাদের আগলে রেখেছেন তাকে কৃতজ্ঞতা জানানোর সুযোগ জীবনে একবারই পাওয়া যায়।

দীপ আজাদ/ফই

- Advertisement -
- Advertisement -

আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বাধিক পঠিত