সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ২৮৮ জন। ♦♦ নতুন ২৯ জনের মৃত্যুর ফলে দেশে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ৯৯৭ জনে। নতুন ৩ হাজার ২৮৮ জনসহ মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৫৯ হাজার ৬৭৯ জন। ♦♦ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৬৭৩ জন। আর মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৭০ হাজার ৭২১ জন। ♦♦ করোনা উপসর্গ দেখা দিলে অথবা করোনা বিষয়ক জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পেতে ৩৩৩ অথবা ১৬২৬৩ নম্বরে কল করুন এবং তথ্য পেতে www.corona.gov.bd ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।। এ ছাড়া আইইডিসিআরের ইমেইল বা ১৬২৬৩ নম্বরে ফোন করা যাবে। ♦♦ www.livecoronatest.com এ আপনি ঘরে বসেই কোভিড-১৯ বা নভেল করোনা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কি'না, তা নিজেই মূল্যায়ন করতে পারবেন। এমনকি আপনার ঝুঁকির মাত্রা ও করনীয় সম্পর্কেও জানতে পারবেন।

World Cup, আলোচিত, খেলা, বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ , , , , ,

কিশোর তবুও পরিণত এমবাপ্পের আখ্যান

গত সপ্তাহেই ৬০ বছরের পুরোনো একটা বিশ্বকাপ রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন ফরাসি ফুটবলের ‘কিশোর-তারকা’ কিলিয়েন এমবাপ্পে। ১৯৫৮ সালে সুইডেনের বিরুদ্ধে একটি ম্যাচে ২টি গোল দিয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সী পেলে। তারপর আর কোনো কিশোরই (অনূর্ধ্ব-১৯) বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে একাধিক গোল দিতে পারেননি। তবে সেটা গত ৩০শে জুনের আগ পর্যন্ত। আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে ষাট বছর পর এমবাপ্পে বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে একাধিক গোল দেয়া দ্বিতীয় কিশোর হয়ে ওঠেন। তার পারফর্ম্যান্সের উপর ভর করেই আর্জেন্টিনাকে ৪-৩ গোলে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে ফ্রান্স।

 

তবে এইরকম ভাবার কোনো কারণ নেই যে, এই রেকর্ডের কথা আপনি খুব আগ্রহ নিয়ে এমবাপ্পেকে জানিয়ে আসলে তিনি খুব আবেগাপ্লুত হয়ে যাবেন।  ‘এত কম বয়সেই এত ভালো খেলেন এমবাপ্পে’ জাতীয় আলোচনা একেবারেই পছন্দ নয় তার। কার্যত, বয়স সংক্রান্ত আলাপ নিয়েই রীতিমত বিরক্ত কিলিয়েন!

 

গত ২১শে জুন এক টুইটার বার্তায় এমবাপ্পে বলেন, “বয়স বিষয়ক আলোচনা আমার কখনোই ভালো লাগেনি। আপনি যদি ভালো খেলতে পারেন তাহলে আপনি দলে খেলবেন, যদি ভালো না খেলেন তবে দলে খেলবেন না। আপনি যদি মানসম্পন্ন খেলোয়াড় হন তাহলে আপনি নিজেই মাঠে দায়িত্ব বুঝে নেবেন। আপনি যদি ভালো খেলোয়াড় না হন তবে আপনার কাজ হবে চুপ করে থাকা এবং অন্যদের দেখে শেখার চেষ্টা করা। আমার সঙ্গে বয়স প্রসঙ্গে আলোচনা করতে  আসবেন না, পারলে মান নিয়ে আলাপ করুন।’’

 

কিলিয়েন এমবাপ্পের চিন্তা-কাঠামো কেমন এই টুইট থেকে সে বিষয়ে বেশ সম্যক একটা ধারণা পাওয়া যায়। তার বয়স কম, তাই দলে তার দায়িত্ব কম- এই ধরনের চিন্তাভাবনাকে তিনি মাথায় ঠাঁই-ই দেন না। নিজের দক্ষতার উপর তার পূর্ণ আস্থা আছে। এবং এই দক্ষতা দিয়ে দলকে সাহায্য করার ব্যাপারে তিনি বদ্ধপরিকর। পিএসজির হয়েও এই মৌসুমে যথেষ্ট ভালো খেলেছেন এমবাপ্পে। তবে ফ্রান্সের হয়ে এই বিশ্বকাপে যেন নিজেকে আরেক ধাপ উপরে নিয়ে যাচ্ছেন এই ‘পরিণত’ কিশোর। এমবাপ্পের অনন্যতা এখানেই যে, তার বয়সী অন্য খেলোয়াড়েরা যেখানে বিশ্বকাপটাকে একটা চাপ হিসেবে দেখেন সেখানে এমবাপ্পে টুর্নামেন্টটিকে দেখছেন নিজেকে দুনিয়ার সামনে মেলে ধরার একটা সুযোগ হিসেবে।

 

এমবাপ্পের আত্মবিশ্বাসের উৎস তার দক্ষতা। তার গতি, ফিনিশিং, ড্রিবলিং ও খেলাটাকে পড়তে পারার ক্ষমতা যে বিশ্বমানের তা তিনি নিজেও ভালো করে জানেন। অবশ্য বিশ্বমঞ্চে গতিশীল আক্রমণাত্মক তরুণ খেলোয়াড় অতীতে কম দেখা যায়নি। এদের সবাই যে পরবর্তীতে বিশ্বমানের খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন এমন নয়। অনেকেই কিছু ঝলক দিয়ে তারপর নিভে যান।

প্রতিভাবান খেলোয়াড় থেকে বিশ্বমানের খেলোয়াড়ে পরিণত হতে হলে যেটা লাগে সেটা হল তড়িৎ-গতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা। কখন বল পায়ে দৌঁড়াতে হবে আর কখন পাস দিয়ে সতীর্থকে খুঁজে নিতে হবে এই সিদ্ধান্ত যদি আপনি সঠিকভাবে না নিতে পারেন তাহলে হাজার দক্ষতা থাকলেও আপনি বিশ্বমানের খেলোয়াড় হবেন না।

 

 

সিদ্ধান্ত গ্রহণের এই ক্ষমতা অবশ্য অভিজ্ঞতা থেকে আসে। আশ্চর্যজনক বিষয় হল, এমবাপ্পের খেলা দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই যে সিনিয়র পর্যায়ে তার ক্লাব ক্যারিয়ার মাত্র দুই মৌসুমের। উদাহরণ হিসেবে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে তার ঐ ৭০ গজ বিস্তৃত দৌঁড়টির কথা ভাবুন। পুরো ম্যাচে ঐ একবারই এমবাপ্পে কাউকে পাস না দিয়ে গোটা মাঠ একা একা দৌঁড়োনার চেষ্টা করেছেন। তার কারণ তিনি দেখতে পেয়েছিলেন আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের কোনো খেলোয়াড় তাদের নির্ধারিত জায়গায় নেই। এমন সময় যদি তিনি দৌঁড়োতে শুরু করেন তাহলে আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগ ঘাবড়ে যাবে। আখেরে হলও তাই। মার্কোস রোহো একরকম ঘাবড়ে গিয়েই তো এমবাপ্পেকে ডি-বক্সের ভেতরে ফাউলটা করলেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ঐ দৌঁড়ের মধ্যে দিয়ে এমন একটা রেকর্ড করেছেন এমবাপ্পে যে রেকর্ডের কথা তাকে জানালে তিনি আপনার উপর খুশিই হবেন। ঐ দৌঁড়ের এক পর্যায়ে তার গতি হয়ে গিয়েছিল ৩৮ কিমি/ঘন্টা যা এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গতির এই রেকর্ডটি নিয়ে গর্ব অনুভব করার আরও একটি কারণ আছে এমবাপ্পের। আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে এমবাপ্পের দৌঁড়টির আগ পর্যন্ত এই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গতির রেকর্ডটি ছিল এমবাপ্পের ‘আদর্শ’ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর (স্পেনের বিরুদ্ধে, ৩৪ কিমি/ঘন্টা)।

এমবাপ্পে ছোটবেলা থেকেই রীতিমত অন্ধ রোনালদো-ভক্ত। এমবাপ্পের ঘর এখনো রোনালদোর পোস্টারে ভর্তি। নিজের ছোটবেলার সেই নায়কের একটা রেকর্ডই কি না ভেঙ্গে দিলেন এই ফরাসি কিশোর। এমবাপ্পের জীবনটা কি আদৌ জীবন, নাকি স্বপ্ন!

মেব//মাও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LIVE

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশ

আক্রান্ত
১৫৯৬৭৯
সুস্থ
৭০৭২১
মৃত্যু
১৯৯৭
সূত্র:আইইডিসিআর

বিশ্ব

আক্রান্ত
১১২০৯০৩৩
সুস্থ
৬৩৫৬১৮১
মৃত্যু
৫২৯৪৭৫
সূত্র: ওয়ার্ল্ড মিটার
চোখে মুখে মৌমাছি নিয়ে চার ঘণ্টা!
বলিউড, মানসিক চাপ, আত্নহনন
দ্রুত ভ্যাকসিন পৌঁছে দিতে চায় বিল গেটস ফাউন্ডেশন
ভিডিয়ো কনফারেন্স অ্যাপ মিট এখন জিমেলের সাথে যুক্ত