বাংলাদেশ

একনজরে মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস ১৭ এপ্রিল। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর কিছুদিন পর এই দিনে মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা (বর্তমান উপজেলা মুজিবনগর) গ্রামের আমবাগানে বাংলাদেশ সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বিপ্লবী সরকার) শপথ গ্রহণ করেছিলো।

 

এরই পথপরিক্রমায় ১৭ এপ্রিল সকালে মুজিবনগরে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথগ্রহণের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠা লাভ করে।বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক সূচনা বা আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হিসেবে এই দিনটির তাৎপর্য ছিল বিশাল।

 

দেশ স্বাধীন হলে বঙ্গবন্ধু জায়গাটি সঠিকভাবে সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনার পর মুজিবনগর সরকারকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ১৯৭৪ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবসের দিন মুজিবনগর স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

 

মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ নির্মাণের মূল কাজ শুরু হয় ১৯৮৭ সালে। ২৩ স্তরের মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ। স্মৃতিসৌধের নকশা স্থপতি তানভীর করিম। এরপর ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা মুজিবনগর কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজে হাত দেন।

 

প্রায় ৮০ একর জায়গার উপর দাঁড়িয়ে আছে মুজিবনগর কমপ্লেক্স। এখানে আম গাছ রয়েছে ১৩০০। তিনটি ধাপে ছয় স্তর বিশিষ্ট দুটি গোলাপ বাগান। বাগান দুটিতে গোলাপগাছ আছে ২২০০। এখানে আছে বঙ্গবন্ধু তোরণ, অডিটোরিয়াম, শেখ হাসিনা মঞ্চ, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকেন্দ্র, মসজিদ, হেলিপ্যাড, ২৩টি কংক্রিটের ত্রিকোণ দেয়ালের সমন্বয়ে উদিয়মান সূর্যের প্রতিকৃতিকে প্রতীক করে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ, প্রশাসনিক ভবন, টেনিস মাঠ, পর্যটন মোটেল, স্বাধীনতা মাঠ, স্বাধীনতা পাঠাগার, বিশ্রামাগার, পোষ্ট অফিস, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, শিশুপল্লী, ডরমেটরি ও মুক্তিযুদ্ধের সেক্টরভিত্তিক বাংলাদেশের মানচিত্র। মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরকে ভাগ করে দেখানো হয়েছে মানচিত্রে। মানচিত্রের ডিজাইন করেছে বুয়েট আর্কিটেক্টদের সংগঠন বিআরটিসি।

 

কমপ্লেক্সের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় ভাস্কর্য। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ, ঐতিহাসিক তেলিয়া পাড়া সম্মেলন, মুজিবনগর সরকারের শপথ অনুষ্ঠান, পাকবাহিনীর আত্নসমর্পণ, রাজাকার আল বদর, আল সামস এর সহযোগিতায় বাঙ্গালী নারী পুরুষের ওপর পাক হানাদার বাহিনীর নির্যাতনসহ খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

 

এটি বাংলাদেশের অন্যতম স্থাপত্য নিদর্শন। স্মৃতিসৌধ স্থাপনার মূল বৈশিষ্ট্য ১৬০ ফুট ব্যাসের গোলাকার স্তম্ভের উপর মূল বেদীকে কেন্দ্র করে ২০ ইঞ্চির ২৩টি দেয়াল। দেয়ালগুলো উদিয়মান সূর্যের প্রতীক। ৩০ লক্ষ শহীদের স্মৃতি স্মরণীয় করে রাখার জন্য স্মৃতিসৌধের মেঝেতে ৩০ লাখ পাথর বসানো হয়েছে। স্মৃতিসৌধের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে লাল মঞ্চ, ২৩টি স্তম্ভ, বুদ্ধিজীবীর খুলি, ৩০ লক্ষ শহীদ, রক্তের সাগর এবং ঐক্যবদ্ধ সাড়ে সাত কোটি জনতা।

জাআ//মাও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LIVE

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশ

আক্রান্ত
২৫৭৬০০
সুস্থ
১৪৮৩৭০
মৃত্যু
৩৩৯৯
সূত্র:আইইডিসিআর

বিশ্ব

আক্রান্ত
১৯৮২৪০৩৯
সুস্থ
১২৭৩২৫৪৬
মৃত্যু
৭২৯৯১০
সূত্র: ওয়ার্ল্ড মিটার
একজন জহির রায়হান
বৈরুত বিস্ফোরণের অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট কী পদার্থ?
এন্ড্রু কিশোরের সেরা ৫ গান
চোখে মুখে মৌমাছি নিয়ে চার ঘণ্টা!