বাংলাদেশ, স্মরণ

রাজিয়া নাসের কে ছিলেন, কেমন ছিলেন?

সবাই শেখ রাজিয়া নাসেরকে চেনে প্রধনমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচী হিসেবে। বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ শেখ আবু নাসেরের স্ত্রী তিনি।

সোমবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রাজিয়া নাসের। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। শেখ রাজিয়া নাসের চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বনানী কবরস্থানে। সেখানেই শায়িত তার স্বামীসহ ১৫ আগস্টের অন্য শহিদরা।

শেখ রাজিয়া নাসের ছিলেন অত্যন্ত প্রগতিশীল ও সংস্কৃতিমনা। তিনি সেই সময় খুলনায় সঙ্গীত প্রতিযোগীতায় প্রথম হতেন। ১৯৫৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই শেখ আবু নাসেরের বিয়ে হয় তার।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে যান শেখ নাসের। ছেলে শেখ হেলাল ও ভাতিজা শেখ জামালও তার সাথে মুক্তিযুদ্ধে মেজর জলিলের ৯নং সেক্টরে ছিলেন। শেখ হেলাল ও শেখ জামাল ছোট থাকায় তারা গোলাবারুদ সরবরাহ করতেন। মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য দিতেন এবং তাদের অস্ত্রের গুলি লোড করে দিতে সাহায্য করতেন। যুদ্ধের এক পর্যায়ে শেখ নাসের ভারতে চলে যান। সেখানে ট্রেনিং নিয়ে ফিরে এসে সুন্দরবন এলাকায় সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নেন।

শেখ রুবেল

১৯৭১ সালেই পাকিস্তানি সেনারা শেখ নাসেরের টুঙ্গিপাড়ার বাড়ীটি পুড়িয়ে দেয়। সন্তানদের নিয়ে ঢেকিঘরে আশ্রয় নেন শেখ রাজিয়া নাসের। রাজাকাররা জানতে পেরে সেটিও পুড়ে দেয়। শেখ রাজিয়া নাসের তার সন্তান শেখ রুবেলকে ফিডারে দুধ খাওয়াচ্ছিলেন। ফিডারটি কেড়ে নিয়ে রাজাকাররা ভেঙ্গে ফেলে, ঘরটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। কোনো রকম সন্তানদেরকে নিয়ে জীবন বাঁচান তিনি।

১৫ আগস্ট স্বামীর মৃত্যুর সময় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন রাজিয়া নাসের। টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতাকে দাফন করা হচ্ছে শেখ রাজিয়া নাসের সন্তানদের নিয়ে নিজেদের লঞ্চে করে খুলনা থেকে টুঙ্গিপাড়ায় আসেন। কিন্তু খুনিচক্র সেই লঞ্চ ভিড়তে দেয়নি। তিনি খুলনায় ফিরে দেখেন খুনি সরকার তার বাড়ী সীলগালা করে রেখেছে। নিজের বাড়ীতেও শতচেষ্টা করে ঢুকতে পারেননি। সন্তানদের নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন তিনি।

শাহাবুদ্দিনের চিত্রকর্মে বঙ্গবন্ধু হত্যা

সিদ্ধান্ত নিলেন বাবার বাড়ি যাবেন। সেখানেও খুনিরা তাকে থাকতে দেয়নি। তার বাবার উপর চাপ দিতে থাকে বঙ্গবন্ধুর খুনিরা। সেখানে টিকতে না পেরে চলে যান পাবনায় দাদার বাড়ি। কিন্তু সেখানেও হয়রানির শিকার হন । ছেলেমেয়েদের স্কুলে ভর্তি নেয়া হয় না। সামাজিক ভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে হয়।

বড় ছেলে শেখ হেলাল সেসময় ক্যাডেট কলেজে পড়তেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ক্যাডেট কলেজে হানা দেয় শেখ হেলালকে তুলে আনার জন্য। কিন্তু শিক্ষক ও ছাত্রদের বিশেষ করে ক্যাডেট কলেজের সেই সময়কার প্রিন্সিপালের বাধার মুখে শেখ হেলাল রক্ষা পান।

শেখ হেলাল

বেগতিক শেখ রাজিয়া নাসের সন্তানদের নিয়ে আবার খুলনায় ফিরে আসেন। বড় মেয়ে মিনা ও ছেলে শেখ জুয়েলকে খুলনা সরকারি স্কুলে ভর্তি করান। কিন্তু জিয়া সরকারের নির্দেশে স্কুল থেকে তাদের নাম কাটা পরে। সন্তানদের লেখাপড়া, পারিবারিক ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে সাত সন্তান নিয়ে নিদারুণ অর্থ কষ্টে পড়েন শেখ রাজিয়া নাসের।

শেখ রেহানা

১৯৭৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা লন্ডন থেকে বেবিসিটারের কাজ করে জমানো টাকা দিয়ে তার চাচী ও ভাই- বোনদের জন্য শীতের কাপড়সহ প্রথম সহায়তা পাঠান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন ভারতের দিল্লীতে ছিলেন। এরপর তিনি সেখান থেকে তার চাচীসহ ভাই-বোনদের জন্য সহায়তা পাঠিয়েছিলেন।

অবশেষে ১৯৮১ সালে তার বাড়ীর সিলগালা খুলে দেওয়া হয়। পরে তিনি সন্তানদের নিয়ে সেখানে উঠেন। ইতোমধ্যে ছেলে শেখ হেলাল ক্যাডেট কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন। ১৯৮১ সালেই আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচিত হয়ে শেখ হাসিনা দেশে ফেরেন। চাচী রাজিয়া নাসের তাকে মাতৃস্নেহে আগলে রাখেন। তিনি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অভিভাবক।

রাজিয়া নাসেরের বড় ছেলে বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন। খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, নাতি বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LIVE

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশ

আক্রান্ত
২৫৭৬০০
সুস্থ
১৪৮৩৭০
মৃত্যু
৩৩৯৯
সূত্র:আইইডিসিআর

বিশ্ব

আক্রান্ত
১৯৮২৪০৩৯
সুস্থ
১২৭৩২৫৪৬
মৃত্যু
৭২৯৯১০
সূত্র: ওয়ার্ল্ড মিটার
একজন জহির রায়হান
বৈরুত বিস্ফোরণের অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট কী পদার্থ?
এন্ড্রু কিশোরের সেরা ৫ গান
চোখে মুখে মৌমাছি নিয়ে চার ঘণ্টা!