বাংলাদেশ

শফী হত্যা মামলায় হাটহাজারীতে পিবিআই

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রয়াত আমির শাহ আহমদ শফীকে হত্যার অভিযোগে আদালতে দায়ের করা মামলার তদন্তকাজ শুরু করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) সকালে হাটহাজারী মাদ্রাসা ও ফটিকছড়ি বাবুনগর মাদ্রাসা পরিদর্শন করে পিবিআই টিম।

তদন্ত টিম প্রথমে হাটহাজারী মাদ্রাসার অভ্যন্তরে আল্লামা শফির ব্যবহৃত কক্ষসহ চারপাশ সরেজমিন পরিদর্শন করেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত টিম মাদ্রাসার শিক্ষা পরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমীর জুনায়েদ বাবুনগরীর কক্ষে তিনিসহ সিনিয়র শিক্ষক দিদার কাসেমী, মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সদস্য শেখ আহমদ, মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা ওমর ও সিনিয়র শিক্ষক আশরাফ আলী নিজামপুরীর নিকট মামলার বিষয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ করে। তাদের সকলেই ছাত্র আন্দোলনের সময় আল্লামা শফী ও তার আশেপাশের কক্ষ ভাংচুরের ঘটনা স্বীকার করলেও অর্থ লুটপাটের ঘটনা অস্বীকার করেছেন।

পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর শাহ আহমদ শফী মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর তিন মাস পর গত ১৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ আদালতে তাকে মানসিক নির্যাতন করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগ এনে মামলা করেন আল্লামা আহমদ শফীর শ্যালক মাইনুদ্দিন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের দায়িত্ব দেন। পাশাপাশি এক মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

মামলায় হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুল হকসহ ৩৬ জনকে নাম উল্লেখপূর্বক আসামি করা হয়। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৮০-৯০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সাক্ষ্য গ্রহণের সময় তদন্তকারী দলের কাছে জুনায়েদ বাবুনগরী ও আশরাফ আলী নিজামপুরী তাদের বক্তব্যে বলেন, “মামলার এজাহারে বর্ণিত আসামীদের পরিচয় আমরা জানি না এবং আসামীরা হাটহাজারী মাদ্রাসার কোন ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারী নন”। সাক্ষ্যদাতাগণ আরো বলেন, “ছাত্র আন্দোলনের সময় আল্লামা শফীর উপর কোন নির্যাতন করা হয়নি এবং মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট”।

আল্লামা শফী হত্যার ঘটনাটি শফী অনুসারী ও সাধারণ মানুষের মনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে এবং নিরপেক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শী আলেম, শিক্ষক, ছাত্রগণ আল্লামা শফীর মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবী করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সিনিয়র শিক্ষক দুঃখ করে বলেন যে, ”আমার চোখের সামনে মাদ্রাসার ছাত্ররা আল্লামা শফীর কক্ষ ভাংচুর করেছে। অথচ সাক্ষ্য প্রদানকারী ব্যক্তিগণ কেন বিষয়টিকে অস্বীকার করছে তা আমার বোধগম্য নয়”। এ সময় অনেকেই মন্তব্য করেন, আল্লামা শফীর মতো বুজুর্গ ব্যাক্তি হত্যার যদি সুষ্টু বিচার না হয় তাহলে এ দেশে এরকম ঘটনার পূনরাবৃত্তি ঘটবে।

মামুনুল হক ছাড়াও মামলায় অন্য অভিযুক্তরা হলেন নাছির উদ্দিন মুনির, আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মীর ইদ্রিস, হাবিব উল্লাহ, আহসান উল্লাহ, জাকারিয়া নোমান ফয়েজী, নুরুজ্জামান নোমানী, আব্দুল মতিন, মো. শহীদুল্লাহ, মো. রিজওয়ান আরমান, মো. নজরুল ইসলাম, হাসানুজ্জামান, এনামুল হাসান ফারুকী, মীর সাজেদ, জাফর আহমদ, মীর জিয়াউদ্দিন, আহমদ, মাহমুদ, আসাদউল্লাহ, জোবায়ের মাহমুদ, এইচ এম জুনায়েদ, আনোয়ার শাহ, আহমদ কামাল, নাছির উদ্দিন, কামরুল ইসলাম কাসেমী, মোহাম্মদ হাসান, ওবায়দুল্লাহ ওবাইদ, জুবায়ের, মোহাম্মদ, আমিনুল হক, রফিক সোহেল, মোবিনুল হক, নাঈম, হাফেজ সায়েম উল্লাহ ও হাসান জামিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LIVE

দ্রুত চুল লম্বা ও ঘন করার সহজ উপায়
পৌষসংক্রান্তি থেকে ‘সাকরাইন’
অ্যালোভেরার যত গুণ
দেশের প্রথম ‘নৌকা জাদুঘর’