বাংলাদেশ

চিকিৎসকে বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ

রাজধানীর পপুলার ডায়াগনস্টিকের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে রোগীদের জিম্মি করে অর্থ উপার্জনের অভিযোগে ওঠেছে।

গত বুধবার (২১ অক্টোবর) এমন অভিযোগ করেন শহীদ বুদ্ধিজীবী জহির রায়হান ও শহীদুল্লাহ কায়সারের বোন শাহেনশাহ বেগম।

যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী শিক্ষক ও সমাজকর্মী শাহেনশাহ বেগম অশ্রুবিজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘শিক্ষিত মানুষের সাথেই যখন নির্বিবাদে এ জাতীয় আচরণ করা হচ্ছে, তখন না জানি কি ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে প্রতিনিয়ত যেতে হচ্ছে এ দেশের শিক্ষাবঞ্চিত অসহায় মানুষগুলোকে।’

তিনি আরও জানান, ‘রাজধানীর শীর্ষ চিকিৎসা ব্যবসায়ী পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক ডা. আমিনুল হকের কাছে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ডাক্তার শাহেনশাহ বেগমকে এন্ডোস্কোপি করার নির্দেশ দেন। সে মতে ওইদিন বুধবার সকালে তিনি শান্তিনগরে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান।’

এর পর সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার ও অ্যাটেন্ড্যান্টদের চরম দুর্ব্যবহারের মুখে পড়েন বলে জানান তিনি।

শাহেনশাহ বেগম বলেন, চিকিৎসার নিয়ম অনুযায়ী বয়ষ্ক মানুষের ক্ষেত্রে যারা অতি সংবেদনশীল তাদের হাল্কা তন্দ্রাচ্ছন্ন করে ও আলগা দাঁত খুলে এই পরীক্ষাটি করানোর কথা। পাশাপাশি, চিকিৎসকের দায়িত্ব পরীক্ষাটি করানোর আগে রোগীকে গোটা প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে অবহিত করা ও তার সম্মতি নেয়া।

‘অথচ সেবা বিধির তোয়াক্কা না করে, রোগীর পূর্বাপর ইতিহাস না জেনে, তার অনুমতি না নিয়েই ক্লিনিকের কর্মীরা হৃদযন্ত্র ও চোয়ালের জটিলতায় ভুগতে থাকা বয়োবৃদ্ধ এই রোগীকে টানাহেঁচড়া করে এন্ডোস্কোপির টেবিলে শুইয়ে দেন। নেননি কোনো লিখিত সম্মতিপত্র বলে’ জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘এমনকি চিকিৎসা বিধিমালায় নারী রোগীদের ক্ষেত্রে একজন স্বজনের সেখানে উপস্থিত রাখার বিধান থাকলেও সেখানে দায়িত্বে থাকা ডা. ফয়েজ আহমেদ খন্দকার ও তার সহযোগী ওই কর্মীরা উল্টো রোগীর স্বজনকে ধমক দিয়ে রুম থেকে বের করে দেন।’

শাহেনশাহ বেগম জানান, ‘এরপর কোনো ধরনের অ্যানেস্থেশিয়া ছাড়াই জোরপূর্বক তাকে দুই হাত ও দুই পা শক্তভাবে চেপে ধরে মুখের মধ্যে এন্ডোস্কোপির নল ঢুকিয়ে দেয়া হয় এবং খাদ্যনালীর মধ্যে প্রবেশ করানো হয়।’

‘এ সময় মুখগহ্বরে আলগা দাঁত ও দেহের অভ্যন্তরে নাজুক অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মধ্য দিয়ে বেপরোয়া নল চালনার কারণে তীব্র যন্ত্রণায় রোগী আর্তনাদ করতে থাকলেও বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করেনি কিংবা তাকে ছাড় দেয়নি ‘অর্থলিপ্সু’ এসব ‘নামধারী’ স্বাস্থ্যকর্মী।’

এ বিষয়ে পরবর্তীতে শাহেনশাহ বেগম তার চিকিৎসক পপুলার সেন্টারে ডা. আমিনুল হকের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে তিনি প্রতিকারের বদলে উল্টো তাকে বলেন, এশিয়া সাবকন্টিনেন্টেই কোথাও জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়া দিয়ে এন্ডোস্কপি করা হয় না। এই ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেই এন্ডোস্কোপি করা হয়ে থাকে। এখানে এটাই নিয়ম।

এন্ডোস্কপি জাতীয় পরীক্ষা করানোর ক্ষেত্রে রোগীর সম্মতি প্রদানের অধিকারের কথা জানতে চাইলে দীর্ঘদিনের পেশাগত চর্চায় অভিজ্ঞ এ চিকিৎসক বিস্ময়করভাবে জানান, এ ধরনের কোনো বিধির কথা জানা নেই তার।

এ বিষয়ে প্রশাসনিক ম্যানেজারের কাছে অভিযোগ জানাতে বলার পর তার কক্ষের সামনে দীর্ঘসময় অপেক্ষায় থাকার পরও কাউকে পাওয়া যায়নি।

এর পর পারিবারিক চিকিৎসক ডা. রুবাইয়াত রহমান এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ভাষায় জানান, এসব বিষয়ে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাসহ সরকার ও অন্যান্য তদারকি সংস্থার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। একজন চিকিৎসক তার পেশাগত দায়িত্ব পালন শুরুর আগেই এসব বিষয়ে তাকে যথাযথ প্রশিক্ষিত করে তোলা হয় ও তা পালনের অঙ্গীকার করানো হয়।

ফই//

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LIVE

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশ

আক্রান্ত
২৫৭৬০০
সুস্থ
১৪৮৩৭০
মৃত্যু
৩৩৯৯
সূত্র:আইইডিসিআর

বিশ্ব

আক্রান্ত
১৯৮২৪০৩৯
সুস্থ
১২৭৩২৫৪৬
মৃত্যু
৭২৯৯১০
সূত্র: ওয়ার্ল্ড মিটার
একজন জহির রায়হান
বৈরুত বিস্ফোরণের অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট কী পদার্থ?
এন্ড্রু কিশোরের সেরা ৫ গান
চোখে মুখে মৌমাছি নিয়ে চার ঘণ্টা!