20 C
Dhaka
শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৪
শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৪

মুসলমানরা সন্ত্রাসী-এমনভাবেই প্রস্তুত করা হচ্ছে বিশ্বকে: ডনের বিশ্লেষণ

বিশেষ সংবাদ

- Advertisement -

খালেদ বেদুইন, আইন বিষয়ের একজন অধ্যাপক। একসঙ্গে লেখক এবং বুদ্ধিজীবী। পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন-এ ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের আচরণ নিয়ে লেখা কলামে তিনি বলেছেন, আরবসহ কয়েকটি অঞ্চলের মুসলমানদের নিয়ে এমন ধারণা তৈরি করা হয়েছে যে; নির্দোষ প্রমাণ হওয়ার আগ পর্যন্ত এসব মুসলমানরা সন্ত্রাসী। আর নির্দোষ প্রমাণ হওয়ার নজিরও খুব একটা নেই। এসব মুসলমানদের মুল্যায়নের জন্য একটি বিশেষ লেন্স তৈরি করা হয়েছে। এই লেন্সে প্রথমেই মুসলিমদের সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। এসব মানুষকে হত্যা বৈধ করার চেষ্টা করা হয় হামাসের মতো গোষ্ঠীর নাম ব্যবহার করে। এখন থেকে ৪০ বছর আগেও মুসলমানদের নিয়ে ধ্যান-ধারণা অনেকটা এমনই ছিলো। ১০ ডিসেম্বর গাজার উত্তরাঞ্চলীয় বেইত লাহিয়া এলাকায় ইসরায়েলের সৈন্যদের ফিলিস্তিনিদের প্রতি আচরণের একটি চিত্র তুলে ধরেছেন খালেদ। ওই শহরের একটি স্কুলে কর্মরত ফিলিস্তিনিদের গ্রেফতার করে রাস্তায় নামিয়ে খালি গায়ে বসিয়ে রাখা হয়। সম্প্রতি এমন কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী থেকে বলা হয়েছে, স্কুল থেকে যাদের গ্রেফতার করা হয়; তারা হামাসের সদস্য। খালেদ বলছেন, তারা কোন পেশার? কোন গোত্রের? তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কি?, অপতৎপরতা সৃস্টিকারী কারো সাথে তারা সম্পৃক্ত কিনা? এসব প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষা না করেই ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাদের সন্ত্রাসী তকমা দেওয়া হচ্ছে। কারণ, এমন একটা লেন্স তৈরি হয়েছে মুসলমানদের বিরুদ্ধে, যেখানে মুসলিম বলতে অনেকে এখন সন্ত্রাসীই বোঝেন। আর এই তকমা প্রমাণের বাকি কাজটুকু করে থাকে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো। সবার সামনেই নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত করা হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের। আর, আত্মরক্ষার নাম দিয়ে ইসরায়েলের এই আগ্রাসী কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ মদদ দিয়ে যাচ্ছে আমেরিকার মত বৃহৎ শক্তিগুলো। ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ নামে যেন মানুষ হত্যার বৈশ্বিক লাইসেন্সই দিয়ে দেওয়া হয়েছে ইহুদি রাষ্ট্রটিকে। ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলায় ১২শ ইসরায়েলি নিহত হয়। এরপরই পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরায়েলের সশস্ত্র বাহিনী আইডিএফ। অভিযান শুরুর ৫ সপ্তাহ পরে এসে এ বিষয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রডোর-যুদ্ধ ধামানোর আহবানও প্রমাণ করে; ইসরায়েলের প্রতি কানাডার পরোক্ষ সমর্থন থাকার কথা। এমনকি তিনি তার বিবৃতিতে ফিলিস্তিনিদের নামও উল্লেখ করেননি। এর ৪ দিন আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরণ এক বিবৃতিতে, ফিলিস্তিনের শিশু, নারী এবং বৃদ্ধদের ওপর চালানো হত্যাযজ্ঞ বন্ধের আহবান জানান। তবে সেখানেও উপেক্ষিত থেকেছে ফিলিস্তিনি পুরুষরা ! পশ্চিমাদের দেওয়া বিবৃতিতে এমনভাবে বলা হচ্ছে যেন শক্তি-সামর্থ্য থাকা পুরুষদের হত্যায় কোন অন্যায় নেই। গণমাধ্যমে হাত-পা বেধে রাখা এসব ফিলিস্তিনিদের যে চিত্র সামনে আসতে তাতে মুসলমানদের নগন্য হিসেবে ‍তুলে ধরা হচ্ছে। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যরা ইরাক দখলের পর দেশটির আবু গারিব কারাগারে বন্দি মুসলিমদের সঙ্গেও একই আচরণ করেছিলো । মুসলিমদের এভাবে দেখতে হয়তো অভ্যস্ত করা হচ্ছে বিশ্বকে!

ডন থেকে অনূদিত

- Advertisement -
- Advertisement -

আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত