30 C
Dhaka
মঙ্গলবার, আগস্ট ১৬, ২০২২

ক্রোয়েশিয়ার সাফল্যের রহস্য

বিশেষ সংবাদ

- Advertisement -

বিংশ শতাব্দীর প্রায় পুরোটা জুড়েই যুগোস্লাভিয়ার অন্তর্গত একটি রিপাবলিক ছিল ক্রোয়েশিয়া। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার সেরা সাফল্যটা আসে ১৯৯৮ সালে। ৯৮-এর ফ্রান্স বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান লাভ করে দেশটি। এরপরে আরও তিনটি বিশ্বকাপে ( ২০০২, ২০০৬ ও ২০১০) খেলার সুযোগ পেলেও আর কখনোই নকআউট পর্বের মুখ দেখেনি ক্রোয়েশিয়া।

 

কিন্তু এবারের বিশ্বকাপ যেন দেখতে পেল এক নতুন ক্রোয়েশিয়াকে। আর্জেন্টিনা, নাইজেরিয়া ও আইসল্যান্ডের সঙ্গে যখন একই গ্রুপে ( গ্রুপ ডি) জায়গা পেল মড্রিচরা তখন অনেকেই এই গ্রুপটিকে ‘গ্রুপ অফ ডেথ’ বলছিল। সেই গ্রুপ থেকেই যে ৩ ম্যাচে ৩ জয় নিয়ে অনায়াসে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ান হয়ে দ্বিতীয় পর্বে যাবে ক্রোয়েশিয়া, ৭ গোল দেওয়ার বিপরীতে গোল খাবে মাত্র ১টি, তা বোধহয় ঘোরতর কোনো ক্রোয়েশিয়া সমর্থকও ভাবেননি।

 

কীভাবে বদলে গেল ক্রোয়েশিয়ার চেহারা ?

প্রাথমিক উত্তরটা সহজ। বর্তমান দলটিকে ক্রোয়েশিয়ার স্বর্ণালী প্রজন্ম বলা হয়। একই প্রজন্মে একঝাঁক বিশ্বমানের ফুটবলার পেয়েছে দেশটি। ইউরোপের বিভিন্ন বড় ক্লাবে খেলার সুবাদে এদের অনেকেরই রয়েছে বিশ্বমঞ্চে নিয়মিত খেলার অভিজ্ঞতা। সেন্টারব্যাক লভরেন যেমন খেলেন বিখ্যাত ইংলিশ ক্লাব লিভারপুলে। রিয়াল মাদ্রিদের কোভাচিচ ও মড্রিচ আর বার্সেলোনার র‍্যাকিটিচ শোভিত করেন ক্রোয়েশিয়ার মধ্যমাঠ। ইন্টার মিলানের উইঙ্গার পেরেসিচ আর জুভেন্তাসের স্ট্রাইকার মারিও মানজুকিচ আছেন আক্রমণভাগে।

 

কিন্তু ভালো স্কোয়াড থাকলেই তা সব সময় সাফল্যে রূপান্তরিত হয় না। ভালো খেলোয়াড়দেরকে এক দলে খেলিয়ে তাদের থেকে সেরাটা বের করে নেওয়ার জন্য প্রয়োজন হয় বুদ্ধিদীপ্ত কৌশলের।

 

আর সেই ট্যাকটিকাল নৈপুণ্যই ক্রোয়েশিয়াকে এই টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণীয় দলে পরিণত করেছে। নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার খেলা যারা দেখেছেন তাদের লক্ষ্য করার কথা প্রথম অর্ধে ক্রোয়েশিয়া কতটা নিষ্প্রভ ছিল। আত্মঘাতী গোলের সুবাদে তারা ১-০ এ এগিয়ে গিয়েছিল বটে, কিন্তু নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে দলটির প্রথম অর্ধের খেলা দেখে কোনোভাবেই অনুমান করা সম্ভব ছিল না যে এই দলটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ান হতে যাচ্ছে।

 

কী এমন পরিবর্তন আসল দ্বিতীয় অর্ধে? কোন জাদুমন্ত্রবলে বদলে গেল ক্রোয়েশিয়ার পারফর্ম্যান্স?

ক্রোয়েশিয়া ঐ খেলাটা শুরু করেছিল ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে। মড্রিচ ও র‍্যাকিটিচের ‘ডাবল পিভোট’এর সামনে খেলছিলেন আন্দ্রেজ ক্রেমারিচ। সাধারণত ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলে থাকে ক্রেমারিচের কাজ ছিল একটু নিচে থেকে মূল স্ট্রাইকার মারিও মানজুকিচকে সহায়তা করা। এই ফর্মেশনে খেলার ফলে মড্রিচ ও র‍্যাকিটিচকে খেলতে হচ্ছিল প্রতিপক্ষের ফরোয়ার্ড লাইন ও মিডফিল্ড লাইনের মাঝখানে। ফলে নিজ দলের ফরোয়ার্ডদের সঙ্গে পাস আদান-প্রদান করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। খেলার দুই-তৃতীয়াংশ যেতে না যেতেই ব্যাপারটা ধরে ফেলেন ক্রোয়েশিয়ার কোচ। ক্রেমারিচকে উঠিয়ে তিনি মাঠে নামান রক্ষণমুখী মিডফিল্ডার মার্সেলো ব্রোজোভিচকে। ৪-২-৩-১ থেকে ফর্মেশন বদলে তা করে ফেলেন ৪-১-৪-১। এতে করে রক্ষণের দায়িত্ব থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পায় মড্রিচ ও র‍্যাকিটিচ। এই স্বাধীনতাটাই দরকার ছিল তাদের। রিয়াল মাদ্রিদে মড্রিচ যখন খেলেন তখন তার সঙ্গে দলে থাকেন রক্ষণমুখী মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো। ঠিক একইভাবে বার্সেলোনায় র‍্যাকিটিচকে রক্ষণের দায়িত্ব থেকে মুক্ত রাখেন সার্জিও বুস্কেটস। রক্ষণের দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে নিজেদের সৃজনশীলতার সম্পূর্ণটা মেলে ধরতে শুরু করেন এই দুই মিডফিল্ডার। ক্রোয়েশিয়াও ম্যাচটি যেতে ২-০ গোলে।

 

এই ৪-১-৪-১ ফর্মেশন নিয়েই আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে মাঠে নামে ক্রোয়েশিয়া। ঐ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়া আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলে পরাজিত করল। এর মধ্যে একটি গোল মড্রিচের, আরেকটা র‍্যাকিটিচের।

 

কোন ফর্মেশনে খেললে নিজেদের সেরা দুই তারকার কাছ থেকে সর্বোচ্চটা পাওয়া যাবে তা ঠিকঠাকভাবে ধরে ফেলেছে ক্রোয়েশিয়ার কোচ ড্যালিচ। মড্রিচ-র‍্যাকিটিচে সওয়ার হয়ে ক্রোয়েশিয়া বিশ্বকাপে কতদূর যেতে পারে সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

মেব//মাও
- Advertisement -
- Advertisement -

আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বাধিক পঠিত