27 C
Dhaka
শুক্রবার, আগস্ট ১২, ২০২২

ছোট্ট দেশ, বিশাল স্বপ্ন

বিশেষ সংবাদ

- Advertisement -

ক্রোয়েশিয়া রাষ্ট্রটির বয়স মাত্র ২৭ বছর। যুগোস্লাভিয়ার অভ্যন্তরীণ এই রিপাবলিকটি স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ১৯৯১ সালে। মাত্র ৫৬,৫৯৪ বর্গ-কিলোমিটারের এই দেশটাতে মানুষ থাকে সর্বসাকুল্যে ৪৩ লক্ষ। বিশ্বফুটবলের বাঘা বাঘা সব শক্তিকে পরাস্ত করে সেই ছোট্ট দেশটাই কি না আজ খেলতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের ফাইনালে!

 

রাশিয়া বিশ্বকাপের শুরুতে কেউই ক্রোয়েশিয়াকে শিরোপার দাবিদার হিসেবে খুব একটা গণ্য করেনি।  অবশ্য ফুটবলের খোঁজ-খবর ঠিকঠাক মতো রাখেন এমন মানুষ মাত্রেই এই ব্যাপারে অবগত ছিলেন যে এই ক্রোয়েশিয়া দলটিতে প্রতিভাবান ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের কোনো অভাব নেই। মধ্যমাঠে র‍্যাকিটিচ, মড্রিচ ও ব্রোজোভিচের মতো খেলোয়াড় আছে ক্রোয়েশিয়ার। আক্রমণভাগে খেলা পেরেসিচ, মানজুকিচদেরকেও খুব একটা হেলাফেলা করার সুযোগ নেই। তাই বলে অবশ্য কেউই ভাবতে পারেনি এই ক্রোয়েশিয়া দলটি বিশ্বকাপের ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।

 

ক্রোয়েশিয়ার মানুষ ফুটবলকে অসম্ভব ভালোবাসে। বিশ্বকাপে তাদের দল ফাইনালে উঠে যাওয়াতে তারা আনন্দে উদ্বেল। কিন্তু, এইখানেই থামতে চাইবে ড্যালিচের শিষ্যরা? সোনালি ট্রফিটা হাতে তুলে নিয়ে একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ফুটবলীয় চমকটা দেখানোর থেকে যে মাত্র একটা ধাপ দূরে আছে মড্রিচরা!

 

আজকে কোনোমতে ফ্রান্সকে পরাস্ত করতে পারলেই ইতিহাসের পাতায় নিজেদের জায়গাটা পাকাপোক্ত করে ফেলবে এই ক্রোয়েশিয়া দলটি। তার চেয়েও বড় কথা হল, বিশ্বকাপ জেতার এমন সুবর্ণ সুযোগ আর পাবে না ক্রোয়েশিয়া। বর্তমান ক্রোয়েশিয়া দলটাকে ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলের সোনালী প্রজন্ম বলা হয়।  মুশকিলটা হল, এই দলটির প্রধান স্তম্ভদের অনেকেই আছেন ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায়। দলের অধিনায়ক ও মধ্যমাঠের মূল ভরসা লুকা মড্রিচের বয়স এখন ৩২ বছর। স্ট্রাইকার মারিও মানজুকিচও তার সমবয়সী। তাদের থেকে দুই বছরের ছোট ইভান র‍্যাকিটিচও ঢুকে পড়েছেন ত্রিশের কোটায়।

 

পরের বিশ্বকাপে যদি তারা খেলেনও তবুও শারীরিক দক্ষতায় বর্তমানের অবস্থায় থাকবেন না এই তারকারা। তাই ফ্রান্সকে পরাজিত করে এবারের বিশ্বকাপ অভিযানকে পরিপূর্ণতা দেওয়ার বাড়তি তাড়না কাজ করবে ক্রোয়েটদের মধ্যে।

খাতায় কলমে ফ্রান্সের দলটি ক্রোয়েশিয়ার থেকে খানিকটা এগিয়ে রয়েছে । অবশ্য তাই নিয়ে ক্রোয়েশিয়া খুব একটা চিন্তিত হবে বলে মনে হয় না। আর্জেন্টিনা এবং ইংল্যান্ডও ‘কাগজে-কলমে’ ক্রোয়েশিয়ার চেয়ে এগিয়ে ছিল। মাঠের খেলায় সেই সব হিসাব-নিকাশকে ভুল প্রমাণ করে ছেড়েছে র‍্যাকিটিচরা।

 

ক্রোয়েশিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিকূলতা হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে শারীরিক ধকল। ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে নক-আউট পর্বে প্রকৃত প্রস্তাবে চারটি ম্যাচ খেলতে হয়েছে ক্রোয়েশিয়াকে। নকআউট পর্বে যেখানে এখন পর্যন্ত ২৭০ মিনিট ফুটবল খেলেছে ফ্রান্স, সেখানে ক্রোয়েশিয়াকে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে খেলতে হয়েছে ৩৬০ মিনিট! অর্থাৎ পার্থক্যটা পাক্কা ৯০ মিনিটের।

 

ডেনমার্ক, রাশিয়া ও ইংল্যান্ড প্রত্যেকটি দলের বিরুদ্ধেই ১২০ মিনিট করে খেলতে হয়েছে ক্রোয়েশিয়াকে। অবশ্য এই ক্রোয়েশিয়া দলটির মনোবল ও দৃঢ়তা এতই বেশি যে আজকের খেলাও যদি ১২০ মিনিটে যায় তবুও হার মানবে না ক্রোয়েশিয়া। সেমিফাইনাল ম্যাচের পর মড্রিচ বলেছিলেন বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলার সময় নাকি শারীরিকভাবে ক্লান্ত হওয়া অসম্ভব। কারণ আপনি যখন জানবেন খেলাটার উপর কত কিছু নির্ভর করে তখন নাকি আপনা-আপনিই লড়ে যাওয়ার শারীরিক সক্ষমতা চলে আসে।

 

মনোবল, ইচ্ছাশক্তি আর ঐক্যের উপর ভর দিয়েই ফাইনাল পর্যন্ত এসেছে ক্রোয়েশিয়া। সেই একই শক্তিগুলোর উপর ভিত্তি করে যদি আর একটা ধাপ তারা পার হয়ে যেতে পারে তবে ক্রোয়েশিয়ার সোনালি প্রজন্মের হাতেই ধরা দেবে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটা।

মেব//মাও
- Advertisement -
- Advertisement -

আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বাধিক পঠিত