30 C
Dhaka
মঙ্গলবার, আগস্ট ১৬, ২০২২

ফুটবল পাগল হ্যাজার্ড পরিবারের গল্প

বিশেষ সংবাদ

- Advertisement -

ক্যারিন হ্যাজার্ড নিশ্চয়ই ফুটবলটা আরও কিছুদিন খেলতে চেয়েছিলেন। ঐ খেলাটাকেই যে সারাজীবন প্রাণ দিয়ে ভালোবেসে এসেছেন এই বেলজিয়ান ভদ্রমহিলা। জীবনসঙ্গী থিয়েরি হ্যাজার্ডকেও খুঁজে পেয়েছিলেন এই খেলার সূত্র ধরেই। এমনকি,এই যুগলের প্রথম দেখাই হয়েছিল একটা ফুটবল স্টেডিয়ামে।

 

১৯৯০ সালের কথা। ক্যারিন ও থিয়েরি তখন বিবাহিত দম্পতি। স্বামী থিয়েরি হ্যাজার্ড খেলছেন বেলজিয়ামের দ্বিতীয় ডিভিশনে। থিয়েরি মাঝমাঠের রক্ষণাত্মক খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন। স্ত্রী ক্যারিনও তখন পেশাগতভাবে ফুটবল খেলছেন। বেলজিয়ামের মেয়েদের ফুটবলের প্রথম ডিভিশনে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলতেন ক্যারিন। এইরকমই একটা সময়ে খেলতে গিয়ে হঠাৎ শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করতে শুরু করলেন ক্যারিন। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে গিয়ে যে খবরটা পেলেন তা মোটেই আতংকের নয়, রীতিমত আনন্দের। ক্যারিন মা হতে চলেছেন!

 

কে জানে সেদিন কেমন অনুভব করেছিলেন ক্যারিন হ্যাজার্ড! প্রথমবার মা হওয়ার আনন্দের অনুভূতির নিচেও কি কোথাও ফুটবলটা ছেড়ে দেয়ার কষ্টের চোরা স্রোত বয়ে যাচ্ছিল ক্যারিনের হৃদয়ে?

 

নাকি রত্নগর্ভা ক্যারিন হ্যাজার্ড সেদিনই মনে মনে পণ করে ফেলেছিলেন ফুটবল মাঠে আর কোনোদিন পা না রেখেও চার চারজন ফুটবলার গড়ে তুলবেন তিনি!

 

দশ মাসে পরে ক্যারিন জন্ম দিলেন তার প্রথম পুত্রের। ছেলের নাম রাখা হলো ইডেন হ্যাজার্ড। পরের গল্পটুকু আর বলে দেওয়ার দরকার পড়ে না। যদি শুনতেই হয় তবে সেটা ইডেনের জবানেই শোনা ভালো।

 

“আমি পেটে থাকা অবস্থায়ও মা ফুটবল খেলেছেন। খেলাটা যখন ছেড়েছেন তিনি তখন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আমি খেলোয়াড় হিসেবে অনেকটা তার মতই হয়েছি। বাবা তো খেলতেন রক্ষণভাগে। খুব অনায়াসে বল সামলাতে পারতেন, ঠাণ্ডা মাথার খেলোয়াড় ছিলেন। কিন্তু আমার মা ছিলেন স্ট্রাইকার। আমার মনে হয়, খেলোয়াড় হিসেবে দুইজনের একটা সেরা মিশ্রণেই আমি তৈরি হয়েছি।’’

 

ক্যারিন ও থিয়েরির কাছে বেলজিয়ান ফুটবলের অনেক ঋণ

 

ক্যারিন ও থিয়েরির কাছে বেলজিয়ান ফুটবলের অনেক ঋণ। এই পরিবারটা যে ইতিমধ্যে দেশটিকে তিন তিনজন অসাধারণ খেলোয়াড়ের যোগান দিয়েছেন। কয়েক বছরের মধ্যে যদি এই সংখ্যাটা চারেও চলে যায় তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

 

এইবারের বিশ্বকাপে বেলজিয়াম দলে খেলছেন দুই জন হ্যাজার্ড। বড় ভাই ইডেনের সঙ্গে এবারের স্কোয়াডে আছেন তার দুই বছরের ছোট ভাই থরগান হ্যাজার্ডও। বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের প্রথম ম্যাচে পানামার বিরুদ্ধে বদলি হিসেবে নেমেওছিলেন বুরুসিয়া মুনসেনগ্ল্যাডব্যাকের এই আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার। এই মৌসুমে বুন্দেসলিগায় গ্ল্যাডব্যাকের হয়ে ১০টি গোল ও ৭টি এসিস্ট করা থরগান ইউরোপের বহু পরাশক্তির আগ্রহের বস্তুতে পরিণত হয়েছেন। অসম্ভব প্রতিভাবান থরগানকে পরের মৌসুমে আরও বড় কোনো ক্লাবে দেখা গেলে অবাক হওয়ার কোনো কারণ থাকবে না।

 

একই জাতীয় দলে দুই ভাইয়ের একসঙ্গে খেলার দৃষ্টান্ত বিরল হলেও অবর্তমান নয়। কিন্তু একই বাড়ির তিন ছেলেকে কবে শেষ একই সময় কোনো জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি গায়ে দিতে দেখা গেছে তা জানার জন্য রীতিমত গবেষণা করতে হবে। তবে বেলজিয়ান জাতীয় দলে খুব তাড়াতাড়িই এমনটা ঘটতে যাচ্ছে। বড় দুই ভাইয়ের (ইডেন ও থরগান) পাশাপাশি কিলিয়েনকেও জাতীয় দলে দেখাটা স্রেফ সময়ের ব্যাপার। এই বছরই ২৩ বছর বয়সী ‘সেজো’ হ্যাজার্ডকে দলে ফিরিয়েছে ইংলিশ পরাশক্তি চেলসি। আপাতত চেলসি অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে খেলবেন তিনি। তিন ভাইকেই কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করা অনেকেই নাকি এমন দাবি করেন হ্যাজার্ড ভাইদের মধ্যে সহজাত দক্ষতায় সবচেয়ে এগিয়ে কিলিয়েন!

 

সবচেয়ে ছোট ভাই ইথান হ্যাজার্ডও বয়সভিত্তিক ফুটবলে নজর কাড়ছেন। থরগান দাবি করেছেন ইতিমধ্যেই নাকি ছোট ভাই নিজের গোল আর এসিস্টের হিসাব রাখতে শুরু করে দিয়েছে।

 

হ্যাজার্ডদের ফুটবলার হয়ে ওঠার পিছনে যে তাদের বাবা-মার ভূমিকা কতখানি তা বুদ্ধিমান পাঠকদের বলে বোঝাতে হওয়ার কথা নয়। ক্যারিন আর থিয়েরি কখনোই ছেলেদের ফুটবলার খেলার ব্যাপারে জোর করতেন না। তবে তাদের ফুটবল খেলায় উৎসাহ দেওয়ার ব্যাপারে তারা কখনোই পিছপা হননি। ইডেন আর থরগান যখন ইয়ুথ ফুটবল খেলতেন তখন গাড়ি চালিয়ে প্রতি সপ্তাহে তাদের খেলা দেখতে যেতেন তাদের বাবা-মা। অনেক সময় এক ছেলের খেলা দেখে তার সঙ্গে কিছুটা সময় কাটিয়ে গাড়ি হাঁকিয়ে চলে যেতেন অন্য ছেলের ম্যাচ দেখতে।

 

ফুটবলের যে পরিবেশ এই দম্পতি তৈরি করতে পেরেছিলেন তা থেকেই আসলে তৈরি হয়েছে তাদের ছেলেরা। হ্যাজার্ডদের বাড়ির ঠিক পাশেই একটা মাঠ ছিল। প্রত্যেক দিন সেখানে ছুটে চলে যেত হ্যাজার্ডরা। ছেলেদের প্রাণভরে ফুটবল খেলাকে বাধা দেওয়া তো দূরের কথা সারাজীবন সেটাকে উদ্বুদ্ধ করেছেন এই দম্পতি।

 

আর সেই জন্যই তো তাদের বড় ছেলে রীতিমত দম্ভ করে বলতে পারেন, “আমরা একটা দুর্দান্ত ফাইভ-এ-সাইড (পাঁচ জন খেলোয়াড় নিয়ে ফুটসাল দল তৈরি হয়) দল বানাতে পারব। বাবা তো এখনো বেশ ভালোই খেলেন। আর মাকে রাখব দলের ম্যানেজার।

মেব//মাও
- Advertisement -
- Advertisement -

আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বাধিক পঠিত