30 C
Dhaka
মঙ্গলবার, আগস্ট ১৬, ২০২২

বিশ্বমঞ্চে যোগ্যতার স্বীকৃতি পেলেন লুকা মড্রিচ

বিশেষ সংবাদ

- Advertisement -

এই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল কে জিতবেন এই প্রশ্ন যদি সমালোচক, সাংবাদিক বা সাধারণ দর্শকদের সামনে এক মাস আগে রাখা হত মনে হয় না খুব বেশি মানুষ তার উত্তরে বলতেন লুকা মড্রিচ। রাশিয়া বিশ্বকাপের অনন্যতা এখানেই যে তা পূর্ববর্তী বহু হিসাব-নিকাশকে ভুল প্রমাণ করে দিয়েছে। বিশ্বকাপে যে বড় দল বলে কোনো কিছু নেই এই সত্যকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে ছেড়েছে রাশিয়া।

 

টুর্নামেন্টের আগে যেই দলগুলোকে নিয়ে যাবতীয় মাতামাতি ছিল তাদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো করেছে ব্রাজিল। অবশ্য কোয়ার্টার ফাইনালে বাদ পড়াটাকে ব্রাজিল দল খুব বড় কোনো সাফল্য হিসেবে দেখবে বলে মনে হয় না। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে গ্রুপ পর্ব পার করার পর স্পেন এবং আর্জেন্টিনা উভয়ই বাদ পড়েছে দ্বিতীয় রাউন্ডে। আর জার্মানি তো নকআউট পর্বেরই মুখ দেখতে পায়নি।

 

উল্টো দিকে যেই ক্রোয়েশিয়াকে কেউ হিসেবেই ধরেনি আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ডের মতো তথাকথিত বড় দলগুলিকে হারিয়ে তারাই পৌঁছে গেছে টুর্নামেন্টের ফাইনালে। বিশ্বকাপ শেষ করেছে রানার্সআপ হওয়ার গর্ব নিয়ে।

 

টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফুটবলটা সন্দেহাতীতভাবে খেলেছে আরেক নবাগত পরাশক্তি বেলজিয়াম। শেষ পর্যন্ত তৃতীয় হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করলেও ফুটবলের ধরনের কারণে তাদের বহু দিন মনে রাখবে এই বিশ্বকাপ দেখা ফুটবলানুরাগীরা।

 

নতুনের কেতন ওড়ার এই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেল বিশ্বকাপের ব্যক্তিগত পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায়ও। ২০১৮ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বলটি জিতেছেন ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠের সেনাপতি ও অধিনায়ক লুকা মড্রিচ। ফিফার টেকনিকাল টিম টুর্নামেন্টের শেষ প্রান্তে এসে টুর্নামেন্টে সবচেয়ে ভালো খেলা খেলোয়াড়দের একটা শর্টলিস্ট দেশ-বিদেশ থেকে আসা প্রথিতযশা সাংবাদিকদের হাতে ধরিয়ে দেন। তারপর সেই সাংবাদিকদের ভোটে যিনি প্রথম  নির্বাচিত হন তাকেই দেওয়া হয় গোল্ডেন বল।

 

এবার প্রথম ক্রোয়েট হিসেবে গোল্ডেন বল জেতার বিরল সম্মান অর্জন করলেন লুকা মড্রিচ। ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের ভোটে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়ে সিলভার বল জিতেছেন বেলজিয়ামের ক্যাপ্টেন ইডেন হ্যাজার্ড। আর বিশ্বজয়ী দলের সদস্য হিসেবে সোনার মেডেল জেতার পাশাপাশি ব্রোঞ্জ বল জুটেছে ফ্রান্সের আন্তোয়ান গ্রিজমানের কপালে।

 

ক্লাব ফুটবল যারা নিয়মিত দেখে থাকেন তাদের কাছে লুকা মড্রিচের এই অর্জনে অবাক হওয়ার কথা নয়। পাঁচ বছরে চার চারটি চ্যাম্পিয়ানস লিগ জেতা রিয়াল মাদ্রিদ দলের নেপথ্যের নায়ক এই লুকাই। রোনালদো, বেল বা ইস্কোর কারণে হয়তো তিনি সাধারণত শিরোনাম হন না, কিন্তু অনেক বিশ্লেষকের কাছেই রিয়াল মাদ্রিদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়টি হলেন আড়ালে থাকা লুকা মড্রিচ।

 

মড্রিচ ভক্তদের কাছে সবচেয়ে তৃপ্তির বিষয় হওয়ার কথা এটাই যে, যেসব গুণের কারণে তিনি ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে এত সমাদৃত তার প্রায় সবগুলোই এই বিশ্বকাপে পূর্ণমাত্রায় প্রদর্শন করতে পেরেছেন লুকা।

 

বল পায়ে অসম্ভব স্থিতধী, চৌকস ও দক্ষ তিনি। লিওনেল মেসিকে হিসাব থেকে বাদ দিলে বলটাকে পায়ে রাখার ব্যাপারে তার সমান দক্ষ ফুটবলার সমসাময়িক ফুটবলে নেই বললেই চলে। ব্যাপারটা অনেকটা এমন যে, তিনি না চাইলে তার পা থেকে ফাউল না করে বল কেড়ে নেওয়া প্রায় অসম্ভব।

 

মড্রিচের আরেকটি বড় সম্পদ হল তার ভিশন। প্রতিপক্ষ ও সতীর্থ খেলোয়াড়রা কে কোথায় আছেন তা যেন ছবির মতন পড়তে পারেন লুকা। ছোট ও বড় পাসে সমান দক্ষ তিনি। চাইলে মাঠের জনাকীর্ণ অঞ্চলে সতীর্থদের সাথে ‘ওয়ান টু’ও খেলতে পারে, আবার চাইলে দিতে পারেন নিখুঁত দূরপাল্লার পাসও।

 

তবে এই বিশ্বকাপ মড্রিচকে সবচেয়ে বেশি মনে রাখবে তার মানসিক দৃঢ়তার জন্য। নকআউট রাউন্ডে তিন তিনটি ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও যে ক্রোয়েশিয়া বার বার ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে এর পিছনে মড্রিচের নেতৃত্বগুণ বড় প্রভাব রেখেছে।

 

নিজের আগে সব সময় দলকে রাখা নিরহংকার মড্রিচ সম্ভবত নির্দ্বিধায় একটি সোনালী মেডেলের সাথে (বিশ্বজয়ী দলের সকল সদস্যকে দেওয়া হয়) এই গোল্ডেন বল অদল-বদল করতে রাজি হয়ে যেতেন। দলীয় অর্জন যে তার কাছে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে অনেক বড়।

 

তবে তার গোল্ডেন বল জেতাটা যে পরোক্ষ অর্থে ক্রোয়েশিয়ারই বিজয় এটা অনুভব করে নিশ্চয়ই খানিকটা শান্তি পাবেন ক্রোয়েশিয়ার এই শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়টি।

মেব//মাও
- Advertisement -
- Advertisement -

আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বাধিক পঠিত