বাংলাদেশ

ছাত্র রাজনীতি কি লাইনচ্যুত?

উনিশ শতকের গোড়ার দিকে ছাত্র রাজনীতি বাংলার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে। সেই পথ ধরেই পাকিস্তান আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতা যুদ্ধে ছাত্রসংগঠনগুলোর অবদান সবাই জানে। এমনকি স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাতেও ভূমিকা রেখেছে ছাত্র রাজনীতি।

কিন্তু ১৯৯১ সালের পর থেকে ছাত্র রাজনীতির ভাবমূর্তি ধরে রাখা সম্ভব হয় নি। কিন্তু কেন লাইনচ্যুত ছাত্র রাজনীতি?

স্বকীয়তার অভাব
অবক্ষয়ের প্রধান কারণ ছাত্ররাজনীতিতে স্বকীয়তার অভাব। ছাত্রসংগঠনগুলো পৃষ্ঠপোষক রাজনৈতিক দলের মুখাপেক্ষি হয়ে উঠেছে। গত তিন দশকে ছাত্র রাজনীতির চারিত্রিক ও গুণগত মান ব্যাপক পরিবর্তন হয়। ’৭৫-র পটপরিবর্তন, সামরিক শাসনগুলো ছাত্র রাজনীতিকে স্বার্থকেন্দ্রিক করে তোলে। এই সময়ে ছাত্র রাজনীতি তার গণমুখী ঐতিহ্য ছেড়ে ক্ষমতামুখী দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করতে শুরু করে।

জনগণের অনাস্থা
ইদানিং সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, মত প্রকাশের বাধা, বেকারত্ব, হত্যা, খুন, মাদক, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো ইস্যুগুলো এ দেশের প্রধান সমস্যা। এসব থেকে মুক্তির জন্য আজকের ছাত্র সমাজ কেন ভূমিকা রাখতে পারছে না। তাই জনগণ এখন আর ছাত্র নেতাদের আগের মতো সম্মান করে না। ছাত্র রাজনীতিকেও মানুষ সহজভাবে ও ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে না। বর্তমানে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছাত্রদের সাধারণ মানুষ আদর্শহীন, চরিত্রহীন, অর্থলোভী, মাস্তান, চাঁদাবাজ, অস্ত্রবাজ ও  সমাজের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে মনে করেন।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ না থাকা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন বলেন, ছাত্র রাজনীতিতে আমরা যাদের দেখতে পাই, তারা যদি কোনো না কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন, সেটাও বড় কথা নয়৷ আমার কাছে মনে হয়, এখানে সবার অংশগ্রহণ নেই৷ যারা রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছেন, তাদের যদি কোনো রেজিস্ট্রেশনও থাকে সেটাও বড় কথা নয়৷ বড় কথা হচ্ছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মত প্রতিফলিত হচ্ছে বা তারা কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে কিনা৷

দৃশ্যমান কাজ নেই ডাকসুর
দীর্ঘ ২৯ বছরের অচলাবস্থা ভেঙে গত মার্চে ডাকসু নির্বাচন হয়। তবে শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, এই সংসদ তাঁদের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। প্রত্যাশা-প্রাপ্তির খতিয়ানে অপ্রাপ্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডাকসুর ভিপির সঙ্গে জিএস-এজিএসের সমন্বয়হীনতা, অসহযোগিতা ও বৈরী সম্পর্ক। এক বছর মেয়াদের ছয় মাস চলে গেলেও শিক্ষার্থীদের আবাসন-সংকট নিরসনের কোনোই উদ্যোগ নেই। উল্টো এই সমস্যাকে পুঁজি করে নবীন শিক্ষার্থীদের গণরুমে রাখার বিনিময়ে কর্মসূচিতে ব্যবহার এবং হলের অতিথিকক্ষে দুর্ব্যবহারের মতো সমস্যাগুলো এখনো বহাল আছে। সূত্র, প্রথম আলো।

ছাত্রলীগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ
কেন্দ্রীয় দুই শীর্ষ নেতার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও তাদের বিরুদ্ধে ওঠা নানান অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দিতে বলেছেন সংগঠনের সাংগঠনিক নেতা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উপস্থিত নেতাদের সমালোচনার একপর্যায়ে ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দিতে বলেন শেখ হাসিনা।

কেন প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ সেটি গত কয়েক মাসের খবরের কাগজ দেখলেই বোঝা যাবে।

০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ দৈনিক প্রথম আলোতে খবর আসে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরীকে বিদায় জানাতে উড়োজাহাজের দরজায় চলে আসেন নেতাকর্মীরা।  একপর্যায়ে এই নেতা–কর্মীদের অনেকেই চলে যান টার্মাকে। সেখানে উড়োজাহাজটির দরজায় গিয়েও তারা নেতাকে বিদায় জানান।

১৭ আগস্ট ২০১৯ খবরে বের হয়, নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে কোরবানির জন্য আনা ছাগল ছিনতাই করেন মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মুজাহিদ আজমি এবং সাধারণ সম্পাদক নাইমুল ইসলামের সহযোগীরা। ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা কমিটির শীর্ষ দুই নেতা তারা।

লোড করা আগ্নেয়াস্ত্র প্যান্টের পকেটে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঘুরছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণবিষয়ক উপসম্পাদক মেশকাত হোসেন। সঙ্গে ছিলেন তার কয়েক বন্ধু। অসাবধানতায় ট্রিগারে হঠাৎ চাপ লেগে পায়ে গুলিবিদ্ধ হন মেশকাত। ২১ জুলাই ২০১৯ বের হয় এমন খবর।

তাই প্রশ্ন উঠতেই পারে, ছাত্র রাজনীতি কি লাইনচ্যুত ?

/মাহবুব রশিদ

LIVE
Play
ছাত্র সংগঠনগুলোর আয়ের উৎস কী?
হলুদের গুণাগুণ
ভয়ঙ্কর গ্যাস এসএফ-সিক্স
বোকা পাখি ডোডো