ফিচার ,

‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’

তানভীর জনি

ব্রিটেন শিল্প বিপ্লবের মাধ্যমে সাম্রাজ্য গড়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ‘মার্শাল প্ল্যান’ এর মাধ্যমে বিধ্বস্ত ইউরোপকে পুনর্গঠন করে পাশ্চাত্যের নেতা হয়েছে। বিংশ শতাব্দী আমেরিকার, কিন্তু একবিংশ শতাব্দী কার? সে দৌড়ে সবার আগে চীন। বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। ধারণা করা হয়, ২০৫০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে পৃথিবীর শীর্ষ অর্থনীতির দেশ হবে চীন। এই ভবিষ্যৎবাণী নির্ভর করছে সম্ভাবনাময় একটি প্রকল্পের ওপর। যার নাম ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ সংক্ষেপে বিআরআই।

প্রায় দুই হাজার বছর আগের ‘সিল্ক রোডে’র আধুনিক সংস্করণ হলো বিআরআই। প্রেসিডেন্ট শি জিং পিং ২০১৩ সালে এই পরিকল্পনার উদ্যোগ নেন। বিআরআই মূলত কানেকটিভিটি। এর উদ্দেশ্য এশিয়াকে বিশ্ব বাণিজ্যের মূল কেন্দ্রে পরিণত করা। বাণিজ্যপথে এশিয়াকে জল-স্থল-আকাশ ও ডিজিটাল মাধ্যমে ইউরোপ ও আফ্রিকার সাথে যুক্ত করা। প্রকল্প অর্থায়নের মূল দায়িত্ব নিচ্ছে চীনের প্রধান প্রধান রাষ্ট্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো।

এই পরিকল্পনায় ৩টি বৃহৎ একক মিলিত হয়েছে:
সবচেয়ে বেশি রাষ্ট্র,
সবচেয়ে বড় অর্থায়ন,
সবচেয়ে বেশি জনসমষ্টি।

বলা হচ্ছে, বিআরআই হতে যাচ্ছে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রকল্প। ৬৮টি দেশ, ৬০% বিশ্ব জনসংখ্যা এবং ৪০% বিশ্ব উৎপাদন নিয়ে এই মহাপরিকল্পনা একুশ শতাব্দীর বৃহত্তম উন্নয়ন প্রকল্প। বেল্ট অ্যান্ড রোড এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকাকে ধারণ করলেও এর আওতায় আসবে সমস্ত পৃথিবীর বাণিজ্য।

নানা বাধার মুখে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ বেল্ট অ্যান্ড রোড পরিকল্পনার সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে মুক্ত বাজার অর্থনীতি ছাড়া দেশের উন্নয়ন দুরূহ। বাংলাদেশের ২০২১ সালে মধ্যম আয় ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বিশ্বের তালিকায় নাম উঠানোর জন্য বহির্বিশ্বের সাথে ব্যবসায়িক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের বিকল্প নেই। যদিও, চীনের এই মহাপরিকল্পনায় ভারত অংশ না নেয়ায় বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ। আশংকা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ এর যথাযথ সুফল ভোগ করতে পারবে কী না? প্রতিবেশ দেশ ভারত যদি যুক্ত না হয়, তবে ব্যবসা-বাণিজ্যে দেখা দিবে নানা বাধা-বিপত্তি। এ বিষয়ে আ ন ম মুনীরুজ্জামানের বক্তব্য, ভারত এই উদ্যোগে আগ্রহী হয়ে যোগ না দেওয়া পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা দেখা দেবে। ৬টি অর্থনৈতিক করিডরের ২টি হচ্ছে সমুদ্রপথের। যার একটি বিসিআইএম (বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমার)। যা এখন বিআরআইতে নেই। অন্যটি হচ্ছে সিএমইসি (চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর)। যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সমস্যার।

LIVE
Play
ছাত্র সংগঠনগুলোর আয়ের উৎস কী?
হলুদের গুণাগুণ
ভয়ঙ্কর গ্যাস এসএফ-সিক্স
বোকা পাখি ডোডো