আন্তর্জাতিক, ফিচার , ,

কোন পথে হংকং আন্দোলন?

মাহবুব রশিদ

টানা তিন মাস ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীরা। প্রত্যার্পণ আইন নিয়ে তাদের আন্দোলন। একটু একটু করে সহিংস হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ চলছে।

ছবি: রয়টার

ঘটনার শুরু একটি হত্যাকাণ্ড থেকে। হংকংয়ের এক তরুণ তার বান্ধবীকে নিয়ে তাইওয়ানে বেড়াতে যান। সেখানে তিনি তার অন্তঃসত্ত্বা বান্ধবীকে হত্যা করে পালিয়ে আসেন। লোকটি হংকংয়ে অর্থ পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার আছেন। কিন্তু, তাইওয়ানে হত্যাকাণ্ডের জন্য তার বিচার করা যাচ্ছে না। কারণ চীনের সাথে তাইওয়ানের প্রত্যাবর্তন চুক্তি নেই। তাই চীন চাইছে, তার সব অধীনস্ত অঞ্চলের জন্য একটি প্রত্যর্পণ আইন।

প্রত্যর্পণ আইন পাস হলে চীন, তাইওয়ান, হংকং ও ম্যাকাওকে সেটি মানতে হবে। এটাই হংকংয়ের জনগণের মধ্যেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কারণ এতদিন ‘এক দেশ দুই নীতি’ পদ্ধতিতে চলছিল চীন ও হংকং। চীনের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা হংকংয়ে শিথিল। সেখানে জনগণ চীনের চেয়ে বেশি স্বাধীনতা উপভোগ করে। বাকস্বাধীনতা ও মাবনাধিকার পরিস্থিতি সেখানে চীনের চেয়ে ভালো। তাদের আলাদা বিচার বিভাগ ও আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। তাই এই নতুন আইন তাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলে মনে করছে হংকংবাসী। চীন তাদের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চাইছে বলে মনে করছে তারা। তাই মুখোমুখি অবস্থানে চীনা প্রশাসন ও হংকংয়ের জনতা।

বাড়ছে সহিংসতা

২০১৪ সালে হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থিরা ৭৯ দিন বেইজিংবিরোধী বিক্ষোভ করে।  সেই আন্দোলন  ‘শান্তিপূর্ণ কিন্তু ব্যর্থ’ বলে মনে করে নতুন আন্দোলনকারীরা। নতুন আন্দোলনকারীরা  মনে করছে, কিছুমাত্রায় সহিংসতা খুবই কার্যকর। আর পুলিশের আগ্রাসী আচরণ তাদের আরও উস্কে দিচ্ছে। টিয়ারগ্যাস ও জলকামানের বিরুদ্ধে তারা ইট-পাটকেল ও পেট্রোল বোমা ব্যবহার করছে।

ছবি: রয়টার

স্বাধীনতা চায় হংকং?

হংকংয়ে পুলিশের আগ্রাসন এরমধ্যেই সমালোচিত। আন্দোলনের এক পর্যায়ে প্রায় ৩০ মাইলজুড়ে বিস্তৃত মানববন্ধন করেছে হংকংবাসী। ওই মানববন্ধনে অংশ নেয়া বিক্ষোভকারীরা বাল্টিক মানববন্ধনকে অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছিলেন। বাল্টিক মানববন্ধনে লোকেরা সোভিয়েত রাষ্ট্রের কাছ থেকে স্বাধীনতার জন্য তাদের আকাঙ্ক্ষার কথা প্রকাশ করেছিল। এদিকে, হংকংয়ের আন্দোলনকারীরা বেইজিংয়ের হুঁশিয়ারি আর পুলিশের নিষেধাজ্ঞা, হয়রানি ও সাজার ভয় অমান্য করে বিক্ষোভ করে যাচ্ছেন। আন্দোলনের এ পর্যায়ে তারা বলছে, ‘হারানোর কিছু নেই’। অনেকে কাজ ছেড়ে আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন। এর ফলে অর্থনীতি হোঁচট খেতে থাকলেও ‘স্বাধীনতা রক্ষায়’ বিক্ষোভকারীরা একাগ্র।

আগ্রাসী প্রশাসনের গৃহযুদ্ধের ‘উস্কানি’

আন্দোলনকারীদের নেতাদের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ উল্লেখ করেছে চীন। এই আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কালো হাত রয়েছে’ বলে অভিযোগ তুলেছে তারা। হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম বিক্ষোভকারীদের দাবিগুলোকে অগ্রহণযোগ্য অ্যাখ্যা দিয়ে যাচ্ছেন। হংকংয়ে সামরিক বাহিনী পাঠিয়ে আন্দোলন দমানোর হুমকি দিয়েছে তিনি। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বেইজিং হংকং সীমান্তের কাছে আধাসামরিক বাহিনীও মোতায়েন করেছে। এতে যেন আগুনে আরও ঘি পড়ছে। আন্দোলনকারীরা বলছে, চীন সেনা পাঠালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের মতো পরিণতি হবে।

ছবি: এএফপি

 

বহির্বিশ্বের সহানুভূতি

হংকং আন্দোলনে বহির্বিশ্বের সহানুভূতি আন্দোলনকারীদের প্রতি। উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), কানাডা, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনেও হংকং নিয়ে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো। চীনের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে জি-৭-এর নাক গলানোয়ে তীব্র অসন্তোষ জানিয়েছে চীন।

একথা সত্যি যে, হংকংয়ের বাসিন্দারা এখন যতোটা স্বাধীনতা পাচ্ছে, তা চীনের মূল ভূখণ্ডের অনেকের কাছে এখনো স্বপ্ন। হংকংয়ে পশ্চিমাবিশ্বের ইন্ধনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। বেইজিং যদি সত্যিই অভিযান চালায়, তবে সেটি আন্তর্জাতিক সংকটের চেহারা নেবে, বলাই বাহুল্য।

LIVE
Play
ছাত্র সংগঠনগুলোর আয়ের উৎস কী?
হলুদের গুণাগুণ
ভয়ঙ্কর গ্যাস এসএফ-সিক্স
বোকা পাখি ডোডো