সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ১১৪ জন। মৃত ৪২ জনের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী। ♦♦ নতুন ৪২ জনের মৃত্যুর ফলে দেশে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ৯৬৮ জনে। নতুন ৩ হাজার ১১৪ জনসহ মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৯১ জন। ♦♦ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৬০৬ জন। আর মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৬৮ হাজার ৪৮ জন। ♦♦ করোনা উপসর্গ দেখা দিলে অথবা করোনা বিষয়ক জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পেতে ৩৩৩ অথবা ১৬২৬৩ নম্বরে কল করুন এবং তথ্য পেতে www.corona.gov.bd ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।। এ ছাড়া আইইডিসিআরের ইমেইল বা ১৬২৬৩ নম্বরে ফোন করা যাবে। ♦♦ www.livecoronatest.com এ আপনি ঘরে বসেই কোভিড-১৯ বা নভেল করোনা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কি'না, তা নিজেই মূল্যায়ন করতে পারবেন। এমনকি আপনার ঝুঁকির মাত্রা ও করনীয় সম্পর্কেও জানতে পারবেন।

বাংলাদেশ

কে এই ডা. ফেরদৌস খন্দকার?

করোনাভাইরাসের কালো থাবায় দিশেহারা যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিদিন বাড়ছে মৃত্যুর ও আক্রান্তের মিছিল। এমন সময় বিশ্বখ্যাত নায়ক নায়িকারা ঘরবন্দি। এসময় হলিউডের নায়কদের এড়িয়ে সামনে চলে আসেন আরেক নায়ক।

তবে তিনি অভিনেতা নন, প্রাণ বাঁচাচ্ছেন মানুষের। নিউ ইয়র্কে করোনাযুদ্ধের অসামান্য এক নায়ক। মানুষের প্রাণ বাঁচানোর নায়ক ডা. ফেরদৌস খন্দকার।

যুক্তরাষ্ট্রের এবিসি টেলিভিশনে ডা. ফেদোউসকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন

রোববার বিকেলে দেশের মানুষের সেবায় সুদূর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে এসেছেন নিউইয়র্ক প্রবাসী ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকার।

বাংলাদেশে আসার আগেই তার নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অন্যান্য মাধ্যমে নানা গুজব ছড়ানো হয়েছে। বলা হচ্ছে, তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মোশতাকের ভাগনে। সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা তারেক রহমানের ব্যবসায়িক অংশিদার। বলা হচ্ছে, ডা. ফেরদৌস খন্দকার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পড়াশুনা করার সময় বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এসব বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক মিডিয়াতেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এমন নানা কথা।

জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া ডা. ফেরদৌসের বীরোচিত ভূমিকার কথা এখন আমেরিকার বাংলাদেশি প্রবাসীদের মুখে মুখে। প্রবাসীদের কাছে ভরসার প্রতীক মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের এই মেডিসিন বিশেষজ্ঞ।

কিন্তু ডা. ফেরদৌস খন্দকারের অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি জানার পর থেকে তার ওপর নজর রাখতে শুরু করেছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন ডা. ফেরদৌস খন্দকার কি খুনি মোশতাকের ভাগ্নে?

কিন্তু তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায় ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকারের ছয় মামা।

১. ফার্মাসিস্ট ও মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আনোয়ার

২. মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম

৩. মনজুর মোর্শেদ টেক্সাসে থাকেন

৪. ফার্মাসিস্ট আবেদ মনসুর। তিনি থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে।  

এছাড়া যে মামাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা সমালোচনা ঝড় বইছে তিনি হলেন, ইঞ্জিনিয়ার মোস্তাক আহমেদ। কিন্তু তিনি খন্দকার মোশতাক নন। তিনি পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার। আর থাকেন বস্টনে।

ডা. ফেরদৌস খন্দকার আরেক মামা সাখাওয়াত হোসেন। তিনি ব্যবসায়ী নিউইয়র্কে থাকেন।

ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকারের বাবা ফয়েজ আহমেদ খন্দকার। তিনি বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা। মা আনোয়ারা বেগম খন্দকার। একজন গৃহিনী। ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকারের দুই বোন। একজন ফারাহ জেবা খন্দকার, ফ্লোরিডা প্রবাসী ফার্মাসিস্ট। তার স্বামী ডা. তানজীম। ডা. ফেরদৌসের অপর বোন চাঁদনী একজন ফ্যাশন ডিজাইনার।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা বলছেন, ডা. ফেরদৌস ছাত্রলীগই করতেন। দুঃসময়ের কর্মী ছিলেন। খুনিদের আত্মীয় নন। চমেকের ৩২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ডা. সাইফুল ভূইঁয়া বলেছেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে আমার রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ৩২ তম ব্যাচের ডা. ফেরদৌস খন্দকার রাজপথে অনেক মিছিল মিটিংয়ের কণ্ঠস্বর। তখন ছাত্রলীগের কঠিন সময়ে আমরা ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত হয়ে নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন অলিতে গলিতে মেস ভাড়া করে থাকতে শুরু করলাম। আমরা দামপাড়ায় ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী কয়েকটি বাড়িভাড়া করে থেকেছি। তখন আমাদের সাথে এই ডা. ফেরদৌস খন্দকারও ছিলো। সে ছিলো আমার রুমমেট।

তবে এসব বিষয়ে ডা. ফেরদৌসের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশি চিকিৎসক ডা. ফেরদৌস খন্দকার। কভিড-১৯ রোগীদের বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দিয়েছেন তিনি। যার ফলে তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ সবাই। তাই এবার দেশের মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিতে চিকিৎসক দল নিয়ে ঢাকায় এসেছেন তিনি।

কিন্তু সেবা দিতে এসে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আটকা পড়েছেন হজ ক্যাম্পে। করোনামুক্ত সনদ থাকার পরও ছাড় পাচ্ছেন না তিনি। একই বিমানের অন্য যাত্রীরা নিজ নিজ বাড়ি চলে গেলেও তার জন্য অন্য নিয়ম!

আজ সকালে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি জানান, নিউইয়র্কে অবস্থানকালেই আমার রক্ত পরীক্ষায় এন্টিবডি পজিটিভ এসেছে, তাই কোয়ারেন্টাইনে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। তারপরও আমাকে জোর করে কোয়ারেন্টাইনের নামে আটকে রাখা হয়েছে।

দেশ সেবা:: আমি আছি যতো কষ্টই দিক সবাই।

Posted by Dr Ferdous on Sunday, June 7, 2020

তিনি আরো বলেন, আগেও বলেছি, এখনও বলছি। আমার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের কোনো দূরতম কোনো সম্পর্কও নেই। কেন আমাকে এমন ভয়ংকর দোষারোপ করা হচ্ছে, বুঝতে পারছি না। আমি তো দেশে রাজনীতি করতে আসিনি যে, আমি আটকে রাখতে হবে। এই যে ১৪ দিন আমাকে আটকে রাখা হবে, এটার জন্য কে দায়ী? আমি তো শুধু মানুষের সেবাই করতে এসেছিলাম।

One response to “কে এই ডা. ফেরদৌস খন্দকার?”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LIVE

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশ

আক্রান্ত
১৫৬৩৯১
সুস্থ
৬৮০৪৮
মৃত্যু
১৯৬৮
সূত্র:আইইডিসিআর

বিশ্ব

আক্রান্ত
১১০০৫৬৯৪
সুস্থ
৬১৬৬২৮৮
মৃত্যু
৫২৪৪৭৯
সূত্র: ওয়ার্ল্ড মিটার
চোখে মুখে মৌমাছি নিয়ে চার ঘণ্টা!
বলিউড, মানসিক চাপ, আত্নহনন
দ্রুত ভ্যাকসিন পৌঁছে দিতে চায় বিল গেটস ফাউন্ডেশন
ভিডিয়ো কনফারেন্স অ্যাপ মিট এখন জিমেলের সাথে যুক্ত