ইসরায়েলের দাবি, তেহরানের পরমাণু কর্মসূচিকে তারা অন্তত দুই থেকে তিন বছর পেছনে ঠেলে দিয়েছে। ইসরায়েল-ইরান সংঘর্ষে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। উভয় দেশ নতুন করে হামলা চালিয়েছে একে অপরের ওপর।
আজ শনিবার (২১ জুন) ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্যা গার্ডিয়েনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।
দ্যা গার্ডিয়েনের ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল জানায়, তাদের হামলায় অন্তত দুই থেকে তিন বছর পিছিয়ে গেছে তেহরানের পরমাণু অগ্রগতি। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে। তবে কোনো তেজস্ক্রিয় উপাদান লিক হয়নি বলে আশ্বস্ত করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে যতক্ষণ হুমকি থাকবে, ততক্ষণ তারা পরমাণু ইস্যুতে কোনো আলোচনায় বসবে না। ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। শুধু সামরিক নয়, কূটনৈতিক অঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়েছে এই সংকট।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ঘোষণা দিয়েছেন, এই হামলায় কুদস ফোর্সের ফিলিস্তিন ইউনিটের প্রধান, সাঈদ ইজাদিকে তারা হত্যা করেছে। তিনি ছিলেন ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর একজন অভিজ্ঞ কমান্ডার এবং দীর্ঘদিন ধরে গাজায় হামাস ও ইসলামিক জিহাদকে অস্ত্র ও অর্থ জোগানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ইজাদির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য আগেই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। ইসরায়েল বলছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের ইসরায়েল আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ইজাদির। তাই তার হত্যাকে তারা “একটি বড় সাফল্য” হিসেবে উল্লেখ করেছে তারা।
তেহরান বলছে, ইসরায়েল যদি আগ্রাসন বন্ধ না করে, তবে তারা কূটনীতির পথে ফিরবে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এই বার্তা দিয়ে পৌঁছেছেন তুরস্কের ইস্তাম্বুলে। সেখানে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা ওআইসির জরুরি বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন তিনি। আরব লিগভুক্ত অন্তত ৪০টি দেশের কূটনীতিকেরা অংশ নিচ্ছেন এই আলোচনায়।
তুর্কি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে বৈঠক শেষে একটি কঠোর বিবৃতি আসতে পারে। এই বৈঠকের আগে আরাকচি জেনেভায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের তিন প্রধান শক্তি ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। তিনি বলেন, “যদি ইসরায়েল তাদের আগ্রাসন বন্ধ করে, তবে আমরা কূটনীতি বিবেচনায় নিতে পারি। কিন্তু হুমকি চলতে থাকলে, আলোচনা নয়, প্রতিরোধই হবে আমাদের পথ।”
দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহতের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। ইরানি গণমাধ্যম বলছে, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৩৯ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ১,৩২৬ জন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের দাবি, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাদের দেশে কমপক্ষে ২৫ জন নিহত এবং কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছে।
ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ এখন কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক মহলের দুশ্চিন্তার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পরমাণু কর্মসূচি, সামরিক কমান্ডার হত্যা এবং কূটনৈতিক উত্তেজনা- সব মিলিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো কূটনৈতিক চাপ না বাড়ালে এই সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে গোটা অঞ্চলে।
এনএ/


