বিজ্ঞাপন

গাজা শান্তি পরিকল্পনায় রাজি হয়েছে হামাস-ইসরায়েল : ট্রাম্প

গাজায় যুদ্ধ বন্ধে শান্তি পরিকল্পনার ‘প্রথম দফায়’ রাজি হয়েছে ইসরায়েল ও হামাস বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক মাধ্যম ট্রুথে এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েল ও হামাস ‘আমাদের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ে স্বাক্ষর করেছে’।

ট্রুথ সোশ্যালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লেখেন, ‘শান্তি চুক্তির অর্থ হলো খুব শিগগিরই সব জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে। ইসরায়েল গাজা থেকে তাদের সৈন্যদের প্রত্যাহার করবে। এটি শক্তিশালী, টেকসই ও চিরস্থায়ী শান্তির দিকে প্রথম পদক্ষেপ।’

গত মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা নিয়ে ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। ইসরায়েল ও হামাস দুই পক্ষই ট্রাম্পের পরিকল্পনায় ইতিবাচক সাড়া দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার মিসরের পর্যটন শহর শারম আল শেখে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।

আজ বুধবার মিসরে তৃতীয় দিনের মতো আলোচনা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে তারা আলোচনা করেন। এদিন আলোচনায় যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারীরা। তাদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন।

এদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজা যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায়ের চুক্তিতে পৌঁছেছে হামাস ও ইসরায়েল। সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেছেন, ‘মধ্যস্থতাকারীরা ঘোষণা করেছেন যে, গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ের ‘সমস্ত বিধান এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া’ সম্পর্কে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে উভয় পক্ষ। এর ফলে যুদ্ধের অবসান হবে। এই চুক্তির ফলে ইসরায়েলি জিম্মিরা দেশে ফিরে যাবে। ফিলিস্তিনি বন্দীরা মুক্তি পাবে। গাজা উপক্যকায় খাবারও প্রবেশ করবে।’

এদিকে বিবৃতি দিয়েছে হামাস। সংগঠনটি বলছে, ‘চুক্তিটি গাজায় যুদ্ধের অবসান ঘটাবে। দখলদার বাহিনীর সব সৈন্য প্রত্যাহার নিশ্চিত করবে। এই চুক্তির ফলে গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি পাবে। উভয় পক্ষের বন্দিবিনিময় বাস্তবায়ন করবে।’

বিবিসির মার্কিন সংবাদ অংশীদার সিবিএস জানিয়েছে, শান্তিতে মধ্যস্থতা করায় কাতার, মিশর, তুরস্ক ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানায় হামাস। ট্রাম্প ও অন্য পক্ষকে ‘ইসরায়েলি দখলদার সরকার চুক্তির শর্তাবলী পুরোপুরি মেনে চলে তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।

ফিলিস্তিনের পুরোপুরি স্বাধীনতা অর্জন করা পর্যন্ত আমরা লড়াই করে যাবো বলে বিবৃতিতে জানায় হামাস।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের জন্য আজ মহান দিন। এর ফলে জিম্মিরা তাদের বাড়ি ফিরে আসবে।’

চুক্তি হওয়ায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : গাজার পথে এগিয়ে চলছে ফ্রিডম ফ্লোটিলার নতুন ত্রাণবাহী নৌবহর

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন