তিন বছরের মধ্যে ইউক্রেনে সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘সম্পূর্ণ পাগল’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুতিনের কাজে অসোন্তষ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, “তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাজে মোটেও খুশি নন।”
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের তৃতীয় বছরে শুরু হয়েছে নতুন উত্তেজনার ধারা। একদিকে রাশিয়ার সর্ববৃহৎ বিমান হামলা, অন্যদিকে হোয়াইট হাউস ও ট্রাম্পের পাল্টাপাল্টি বার্তা— আন্তর্জাতিক কূটনীতির ময়দানে বাড়িয়েছে জটিলতা।
স্থানীয় সময় রোববার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আমার সবসময়ই খুব ভালো সম্পর্ক ছিল, কিন্তু তার সঙ্গে কিছু একটা ঘটেছে। তিনি একেবারে পাগল হয়ে গেছেন! তিনি অকারণে অনেক মানুষকে হত্যা করছেন এবং আমি কেবল সৈন্যদের কথা বলছি না। কোনো কারণ ছাড়াই ইউক্রেনের শহরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ছোড়া হচ্ছে।’
এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আরও জানান, তিনি রাশিয়ার উপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিতে প্রস্তুত। তিনি আরো বলেন, ‘পুতিন অনেক মানুষকে হত্যা করছে। কী হয়েছে ওর?’ তবে একই সঙ্গে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকেও দায়ী করেন এই ঘটনার জন্য।
এর আগে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছিলেন, সাম্প্রতিক রুশ হামলার ব্যাপারে ওয়াশিংটনের নীরবতাই পুতিনকে ‘আরও হামলায়’ উৎসাহিত করছে। তিনি কঠোর নিষেধাজ্ঞাসহ মস্কোর ওপর চাপ বাড়ানোরও আহ্বান জানান।
একইসঙ্গে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিরও সমালোচনা করেছেন তিনি। বলেছেন, যেভাবে জেলেনস্কি কথা বলছেন, তা তার দেশের উপকারে আসছে না। “তার মুখ থেকে যা-ই বেরিয়ে আসে তা-ই সমস্যা সৃষ্টি করে। আমি মোটেও এটা পছন্দ করছি না, এখনই এটা বন্ধ হওয়া উচিত।”
রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় বিপর্যস্ত ইউক্রেন। শনিবার থেকে রবিবার- মাত্র ২৪ ঘণ্টায় মস্কোর ছোঁড়া ২৯৮টি ড্রোন ও ৬৯টি মিসাইলে ১২ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ছিলো ৩ শিশু।
এর মধ্যে উত্তরপূর্বের খারকিভে রুশ হামলায় এক শিশুসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছে বলে সেখানকার মেয়র ইহর তেরাখোভ জানিয়েছেন। দক্ষিণের জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে আহত হয়েছে দুইজন, বলেছেন আঞ্চলিক প্রধান ইভান ফেদোরোভ। বিবিসির তথ্যমতে, ২০২২ সালে পুতিনের ইউক্রেনে হামলা শুরু পর এক রাতে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা।
এই হামলার মধ্যেও আশ্রয়কেন্দ্র আর মেট্রো স্টেশনে লুকিয়ে থাকা ক্লান্ত মানুষের মাঝে কিয়েভ ডে পালিত হয়েছে। ইউক্রেন বলছে—এই প্রতিটি হামলাই নতুন নিষেধাজ্ঞা দাবি করে। কিন্তু ট্রাম্পের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সাড়া নেই।
প্রচারে বারবার ট্রাম্প দাবি করেছেন, নির্বাচিত হলে শপথ নেওয়ার আগেই ২৪ ঘণ্টায় যুদ্ধ শেষ করবেন। কিন্তু রাশিয়ার এই আগ্রাসী অবস্থান সেই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে— এই প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি না হলে তারা আলোচনা থেকে সরে আসবে।
ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা চাইছে অন্তত ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি। কিন্তু ট্রাম্প নতুন নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ায় কিয়েভ হতাশ। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির প্রধান কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চাপ না দিলে রাশিয়া থামবে না।
বিশ্ব যখন শান্তির পথ খুঁজছে, তখন ট্রাম্প-পুতিন-জেলেনস্কির এই কূটনৈতিক সংঘাত নতুন করে প্রশ্ন তোলে— এই যুদ্ধের শেষ কোথায়?
পড়ুন: ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে ‘গোল্ডেন ডোম’ বানাবেন ট্রাম্প
দেখুন: প্রসঙ্গ ইরান: নিরবতা ভেঙ্গে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ফোনালাপ!
এস


