বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ব্যাংকের খাতে লভ্যাংশ বিতরণের নতুন নীতিমালা জারি করেছে, যা ২০২৫ সালের সমাপ্ত বছরের লভ্যাংশ ঘোষণার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। নতুন নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনা, মূলধন কাঠামো শক্তিশালী করা এবং ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক যদি খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি হয়, তবে সে ব্যাংক আর লভ্যাংশ দিতে পারবে না। এর ফলে, অনেক ব্যাংক আগামীতে লভ্যাংশ বিতরণের ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হতে পারে, কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে ২০.২০ শতাংশে পৌঁছেছে। এতে করে, ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশ প্রদান ক্ষমতা আরও সংকুচিত হতে পারে। ব্যাংকগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে যে, তাদের ঋণ, বিনিয়োগ এবং অন্যান্য সম্পদের বিপরীতে কোনো ধরনের সংস্থান ঘাটতি নেই।
এছাড়া, নতুন নীতিমালায় আরো কিছু শর্ত যোগ করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো যে কোনো ব্যাংক পুঞ্জীভূত মুনাফা থেকে নগদ লভ্যাংশ বিতরণ করতে পারবে না। তারা শুধুমাত্র বিবেচ্য পঞ্জিকাবছরের মুনাফা থেকে লভ্যাংশ দিতে পারবে। এছাড়া, ব্যাংকগুলোকে অবশ্যই সিআরআর (নগদ জমার হার) এবং এসএলআর (সংবিধিবদ্ধ তারল্য অনুপাত) ঘাটতি পূর্ণ করতে হবে, আর যদি কোনো ব্যাংকের এই ঘাটতি থাকে তবে তারা লভ্যাংশ প্রদান করতে পারবে না।

ব্যাংকের লভ্যাংশ প্রদান সীমিত থাকবে,
এবং কোনো ব্যাংক তার পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশ বা নিট মুনাফার ৫০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দিতে পারবে না। তবে, যেসব ব্যাংক প্রভিশন সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর পর ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে আড়াই শতাংশ ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফারসহ ১৫ শতাংশ মূলধন সংরক্ষণ করতে সক্ষম হবে, তারা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী লভ্যাংশ বিতরণ করতে পারবে। তবে, এ লভ্যাংশ ৫০ শতাংশের বেশি হবে না, এবং লভ্যাংশ প্রদানের পরেও মূলধনের পর্যাপ্ততা ১৩.৫ শতাংশের নিচে নামতে পারবে না।
আরও বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশের সীমা পরিপালন করতে হবে এবং যেসব ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ১২.৫ শতাংশের বেশি, তবে ১৫ শতাংশের কম মূলধন রয়েছে, তারা সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে পারবে। তবে, এই ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশ প্রদানের পরেও তাদের মূলধনের পর্যাপ্ততা ১২.৫ শতাংশের নিচে নামতে পারবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নতুন নীতিমালার লক্ষ্য হলো ব্যাংক খাতের স্বাস্থ্য সুরক্ষা করা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা শক্তিশালী করা। বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এই নীতিমালা কার্যকর হলে খেলাপি ঋণ ও অন্যান্য আর্থিক সমস্যা মোকাবিলা করা সহজ হবে এবং ব্যাংক খাতে সুশাসন ও স্বচ্ছতা আসবে।
এটি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে ধরা হচ্ছে, এবং এটি ব্যাংকগুলোর জন্য একটি কঠিন সময় হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে সেই ব্যাংকগুলোর জন্য যারা খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণে এখন লভ্যাংশ প্রদান করতে অক্ষম। আগামী বছরগুলিতে এ ধরনের নীতিমালা আরও কার্যকরভাবে ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পড়ুন: দায়সারা এক্সিট পলিসি: সুযোগ নিবে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি, পাচারকারীরা
দেখুন: সরকারের নীতিছাড়ে বেড়েছে খেলাপি ঋণ, বলছেন এমডিরা |
ইম/


