হাতিয়ায় অঙ্ক না পারায় এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে নির্মমভাবে প্রহার করে অজ্ঞান করার অভিযোগ উঠেছে এক গণিত শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিত জনতার রোষানল থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে পুলিশ নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়।
ঘটনাটি ঘটেছে হাতিয়া উপজেলার চরচেঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায়। অভিযোগ অনুযায়ী, গণিত ক্লাস চলাকালীন সময় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মুনতাহা আক্তার মীম (১৩) একটি অঙ্ক সঠিকভাবে সমাধান করতে না পারায় শিক্ষক রেজাউল করিম ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বেদম প্রহার করেন। এতে ছাত্রীটি গুরুতর আহত হয়ে ক্লাসরুমেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে সহপাঠীরা ও অন্যান্য শিক্ষকরা তাকে দ্রুত স্থানীয় এক পল্লি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় মুনতাহাকে দ্রুত হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা রহিমা খাতুন বিকেলে হাতিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন আমার মেয়ে অঙ্কে ভুল করায় স্যার প্রচণ্ড রেগে গিয়ে তাকে বেত্রাঘাত করেন। এতে তার পিঠে ও মেরুদণ্ডে আঘাত লাগে। অজ্ঞান হয়ে পড়লে আমরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই।
এ ঘটনার পর শনিবার দুপুরে চরচেঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা অভিযোগ করেন, ওই মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে কিছু শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ওপর প্রাইভেট পড়ানোর চাপ সৃষ্টি করে আসছেন। প্রাইভেট না পড়লে শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়।
বিক্ষোভ ক্রমেই উত্তপ্ত আকার ধারণ করলে, জাহাজমারা তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষক রেজাউল করিমকে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়।
জাহাজমারা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. খোরশেদ আলম বলেন, বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে বাঁচাতে শিক্ষককে নিরাপত্তা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে চরচেঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জুবায়ের আহমদ জানান ঘটনার পরপরই আহত ছাত্রীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তার চিকিৎসা ব্যয়ের পুরো দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ছাত্রীটিকে শনিবার বিকেলেই ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক রেজাউল করিমকে অস্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, ঘটনার পর থেকে মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় অভিভাবকরা এমন নির্মম ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেওয়ার নামে এভাবে শারীরিক নির্যাতন কোনোভাবেই কাম্য নয়। যারা এমন আচরণ করে, তাদের শিক্ষক বলা যায় না।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা গেছে, আহত ছাত্রী মুনতাহা আক্তার মীমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তার পরিবার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।


