১০/০২/২০২৬, ১:৪২ পূর্বাহ্ণ
19 C
Dhaka
১০/০২/২০২৬, ১:৪২ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

অনিয়ম-দুর্নীতিতে ভরপুর রংপুরের ঐতিহ্যবাহী একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

একসময়ের রংপুরের ঐতিহ্যবাহী স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ কৈলাশ রঞ্জন উচ্চ বিদ্যালয়টি বর্তমানে প্রধান শিক্ষক ও তার মনোনীত এড হোক কমিটির সীমাহীন দুর্নীতিতে ধ্বংসের মুখে পরেছে।
অতিসম্প্রতি দাতা , অভিভাবক ও শিক্ষক, কর্মচারীবৃন্দ বিদ্যালয়টির নানা অনিয়মের বিষয় প্রমানাদি সহ দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সকল দুর্নীতির তথ্য । এ সকল অনিয়ম-দুর্নীতির নেপথ্যে রয়েছেন বিদ্যালয়টির একের ভিতর ১০ খ্যাত শিক্ষক আশরাফুল আলম,প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুর এবং এড হক কমিটির সভাপতি মাহামুদার রহমান সোনা।

অভিযোগে বলা হয়েছে বিদ্যালয়টির বর্তমান প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুর ইতিপূর্বে অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির দায়ে বহিষ্কৃত এবং স্বেচ্ছায় চাকরি হতে অব্যাহতি নিয়েছিলেন।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে অব্যাহতি নেওয়ার পরেও কিভাবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দুদকের নিকট পাঠানো সেই অভিযোগের বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে ঐ প্রধান শিক্ষক চাকরি হতে অব্যাহতি নেয়ার পর বিদ্যালয়ের এড হক কমিটিতে সভাপতি করবেন মর্মে জনৈক্য মাহমুদার রহমান সোনার নিকট থেকে মুচলেকা দিয়ে উৎকোচ হিসেবে ২০ লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন।এবং পরবর্তীতে সেই চুক্তি মোতাবেক মাহমুদুর রহমান সোনাকে এড হক কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত করেন তিনি।

এরপরে শুরু হয় রমরমা দুর্নীতির বাণিজ্য।

মাহমুদার রহমান সোনা এড হোক কমিটিতে সভাপতি হবার পর টেন্ডার কোটেশন ছাড়া ভুয়া উন্নয়ন প্রকল্প দেখিয়ে প্রায় ১ কোটি টাকা ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন। এছাড়াও
বিদ্যালয়ের শপিং কমপ্লেক্সে দ্বিতীয় তলা থেকে পঞ্চম তলা এবং বিদ্যালয়ের মাঠের প্রায় চার শতাংশ ফাঁকা জমিতে বাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে গ্যারেজ ও গোডাউন নির্মাণ করে নিজ দখলে রেখেছেন এবং ভুয়া ডিড দলিল তৈরি করেছেন। কৌশলে যার কোন প্রমাণাদি প্রতিষ্ঠানে রাখেননি তিনি।

এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির চারজন অতিরিক্ত কর্মচারীদের (আয়া, ঝাড়ুদার, পিয়ন, অতিরিক্ত হিসাব রক্ষক) প্রত্যেকের বেতন ভাতা বাবদ নির্দিষ্ট অংকের টাকার চাইতে বেশি টাকা অর্থাৎ প্রতি মাসে প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয় দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা আত্মসাৎ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আর এই সকল অপকর্মের মূল হচ্ছেন ১ এর ভিতর ১০ খেতাবে ভূষিত সিনিয়র শিক্ষক আশরাফুল আলম। তিনি একাধারে (ধর্মীয় শিক্ষক, বিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক চলতি দায়িত্ব, আবাসিক মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল, বদর আমিন, বিবাহ রেজিস্টার কাজী সহকারি, হোমিও ডাক্তার, মামলাবাজ, মসজিদের ইমাম,)

তিনি বিদ্যালয়ের শপিং কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলার বরাদ্দের আংশিক ১৪ লাখ টাকা এবং একতলা মার্কেটের ছাদের উপর টিন সেট বরাদ্দ দিয়ে ২৮ লাখ টাকা গ্রহণ করে তা বিদ্যালয়ে তহবিলে জমা না করে সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। এছাড়াও বিদ্যালয়ের শপিং কমপ্লেক্স এর দোকান বরাদ্দের আংশিক বকেয়া ৪৬ লক্ষ টাকার অনুকূলে সংরক্ষিত সমুদয় অর্থ বিদ্যালয়ে তহবিলে জমা না করে সরাসরি ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে বিদ্যালয়টির দেনার দায়ে টালমাটাল অবস্থা। এ অবস্থার মূলে রয়েছেন প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুর, এড হক কমিটির সভাপতি মাহমুদার রহমান সোনা ও শিক্ষক আশরাফুল আলম। বিদ্যালয়ের উন্নয়ন করতে গিয়ে এই তিন ব্যক্তি ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে ঋণগ্রস্থ করেছেন। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুর পাওনাদার ৭০ লাখ টাকা ,সভাপতি মাহমুদার রহমান সোনা পাওনাদার ১ কোটি ৭০ লাখ এবং প্রকল্প অফিসার খ্যাত শিক্ষক আশরাফুল আলম পাওনাদার ৩৫ লাখ টাকা।

পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক বর্তমান এড হক কমিটি ফয়সালা দিয়েছেন বিদ্যালয়টি শালবনস্ত খেলার মাঠে স্থানান্তর করে বর্তমান স্থানে মার্কেট করে এই দেনা পাওনা পরিশোধ করা হবে। এড হক কামিটির এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হলে ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বিলিন হয়ে যাবে মনে করেন অভিযোগকারীরা। ফলে প্রতিষ্ঠানটি এখন পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে লেখাপড়া করার পরিবেশ নেই। শিক্ষক কর্মচারী সংখ্যা আর নিয়মিত ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় সমানে সমান ।কোনরকমে ধার করা ছাত্র-ছাত্রী দিয়ে অর্থাৎ ইউসেপ স্কুল থেকে শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করে সরকারি বিধিবালা রক্ষা করা হচ্ছে।

অভিযোগকারীরা বলেন বিদ্যালয় কে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য যে পরিকল্পনা ছক তৈরি করা হচ্ছে তা কোনভাবেই কাম্য নয়। তারা এর সুষ্ঠু তদন্ত করে বিদ্যালয়টির রক্ষার দাবি জানান।

এদিকে এ বিষয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ও এড হক কমিটির সভাপতির নিকট জানতে চাওয়া হলে তার বলেন এসব অভিযোগকারীদের মনগড়া অভিযোগ বাস্তবের সাথে মিল নেই।অপর দিকে অভিযোগকারীরা জানান প্রতিটি অভিযোগের বিপরিতে সকল প্রমাণাদি রয়েছে।

পড়ুন: গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানে সিগারেট খাচ্ছিলেন শ্রমিক, বিস্ফোরণে দগ্ধ ১০

দেখুন: ঝিনাইদহে শিশু ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগে একজন আটক

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন