বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাবেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম তানভীর রহমান। সে প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ৪৮ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তের সাথে তার পরিচয় হয় অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম থেকে। প্রথমে পড়াশোনা বিষয়ক কথা হলেও পরবর্তীতে ছেলে তার সাথে সম্পর্কে জড়ায়৷ পরবর্তীতে অভিযুক্ত মেয়েটির কিছু ছবি ও ভিডিও অনলাইনের বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে এবং মেয়ের পরিবারের কাছে পাঠানোর ভয় দেখিয়ে মেয়েকে একাধিকবার ধর্ষণ করে এবং ভিডিও ধারণ করে। গত বুধবার সন্ধ্যায় ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মেয়েকে টিউশন থেকে নিয়ে এসে টানা তিনদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের গেরুয়া সংলগ্ন এলাকার একটি বাসায় রেখে ধর্ষণ করা হয়।
শুক্রবার দিবাগত রাত ১ টায় পুলিশ ও জাকসুর সদস্যরা গিয়ে গেরুয়ার বাসা থেকে মেয়েসহ ছেলেকে আটক করা হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দাবি তাকে জোর করে এখানে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, সে প্রথম থেকেই আমাকে বার বার ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করেছে। সেই আমাকে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট খুলে দিয়েছে। সে আমার অনুমতি ছাড়াই আমার ছবি তুলেছে এবং আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করেছে। সে আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এখানে নিয়ে আসে এবং টানা তিনদিন শারীরিক নির্যাতন করেছে। আমার সাথে আমার পরিবারের কাউকে যোগাযোগ করতে দেয় নি। আমার মা ফোন দিলেও আমাকে শিখিয়ে দিতো কী বলতে হবে। আজকেও দুপুরে আমি আমার মামীর সাথে কথা বললে সে আমার গায়ে হাত তুলে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বলেন, আমি তাকে ভালোবাসি। তার কিছু ছবি এবং ভিডিও কলে থাকা অবস্থায় আমার ধারণ করা কিছু ভিডিও আমার কাছে ছিলো। আমি এগুলো রেখেছিলাম যদি সে আমাকে চিট করে তাহলে সেগুলো ছেড়ে দিবো। গত পরশু তাকে আমি নিয়ে এসে অনলাইনে বিয়ে করেছি। তবে এতে তার পরিবারের কোনো মত ছিলো না। আমার পরিবারেরও কেউ বিষয়টি জানে না।
ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত হয়ে পুলিশের টহল টিম অভিযুক্তকে আটক করে। আশুলিয়া থানার এস আই আনোয়ার বলেন, আমরা অভিযুক্তকে নিয়ে যাচ্ছি। নারী নির্যাতন আইনে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মেয়ের মেডিকেল টেস্ট করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য যে, অভিযুক্ত ছেলের বিরুদ্ধে এর আগেও নারী কেলেঙ্কারির ১২ টি অভিযোগ রয়েছে।


