অবশেষে সমর্থক-আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মাঠে নেমেছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। গত ৭ দিন যাবৎ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে ইশরাকের শপথ গ্রহণের দাবিতে রাজপথে অবস্থান কর্মসূচি চালাচ্ছিলেন তার সমর্থকরা। এখন ইশরাককে সরাসরি মাঠে পেয়ে সমর্থক আন্দোলনকারীরা আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছেন।
বুধবার (২১ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর কাকরাইল মসজিদের সামনে সমর্থক আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা যায় ইশরাক হোসেনকে। সেখানে থাকা সমর্থকরা তাকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হোন। বিভিন্ন স্লোগানে মাতিয়ে তোলেন পুরো এলাকা।
ইশরাক হোসেন বলেন, একটি নতুন দল, যাদের নিয়ে আমি আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু দলগঠন করার পর সরকারের মধ্যে এদের অংশ রয়ে গেল। কাজেই নিরপেক্ষ সরকার আমরা পাইনি। সরকারের মধ্যে অনেকেই আছে যারা বিএনপি যাতে নির্বাচনে ভালো করতে না পারে সে চক্রান্ত করছে।
সরকারের ভেতর থেকে বিচার বিভাগের উপর হস্তক্ষেপ করা হয়েছে অভিযোগ তুলে ইশরাক বলেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে। তাহলে কী আশা করা যায় যে এই সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন হতে পারে?
তিনি আরও বলেন, আমরা কি আরেকটা স্বৈরাচারী সরকার তৈরি হতে দিতে পারি? আমরা হাসিনাকে যেভাবে বিদায় করেছি সেভাবে সকল স্বৈরাচার সরকারকে বিদায় করতে পারবো।
মেয়র হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মেয়র বুঝি না, এই সরকার নিরপেক্ষ নয় তা সবার সামনে উন্মোচিত। আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও মাহফুজ আলমকেকে পদত্যাগ করতে হবে। তারা পদত্যাগ করে নিজেদের রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করুক, কিন্তু সরকারে থেকে এসব করা যাবে না।
তিনি বলেন, পেছনে ফেরার কোনো সুযোগ নাই। যতদিন দাবি মানা হবে না ততদিন আমরা এখান থেকে যাব না।
এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইশরাক তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসে জানান, ‘আন্দোলনকারী জনতার প্রতি সর্বাত্মক সংহতি জানাতে এবং তাদের সঙ্গে যতদিন প্রয়োজন রাজপথে অবস্থান করার জন্য অল্প সময়ের মধ্যেই হাজির হব ইনশাআল্লাহ।’ এ ছাড়া তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘নির্দেশ একটাই, যতক্ষণ দরকার রাজপথ ছেড়ে উঠে আসা যাবে না।’
অন্যদিকে, হাইকোর্ট রিটের আদেশের দিন পিছিয়ে বৃহস্পতিবার নির্ধারণ করেন। বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীসহ হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই দিন রিটের শুনানি পরিচালনা করবেন। শুনানিতে রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন, রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহফুজুর রহমান মিলন এবং ইশরাকের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।


