বিজ্ঞাপন

‎অভাব আর মানুষের অবহেলাকে ভুলে থাকতে ভিডিও বানাই- তাজু ভাই

কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চল নারায়ণপুরের বাসিন্দা মোঃ তাইজুল ইসলাম।পরিবারে ৮ সদস্য নিয়ে তার সংসার।বাবা মা অসুস্থ্য শ্রবণ প্রতিবন্ধী! ঢাকায় নিমার্ণ শ্রমিকদের হেল্পার হিসেবে কাজ করতেন তিনি। পরিবারের দু:খ কষ্ট ভুলতে হাতে নিয়েছেন বুম আর মোবাইল।ভিডিও করেন ফেসবুকে পোস্ট দেন । তাজুর আশা ফেসবুক বদলে দিবে তার ভাগ্য।একমাস না হতেই সেই আশা আর স্বপ্ন বাস্তবে ধরা দেয়।

‎সংসারের অভাবই তাকে বেদনা দেয় নাই,নিজের জন্মস্থান নারায়ণপুরের অবহেলিত পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর জন্য মন তার মন কাঁদে। তাই প্রতিটি ভিডিও সরকারের দৃষ্টি আরোপ করেছেন তিনি।

‎তাজু বলেন,আমি সাংবাদিক না। আপনারা সাংবাদিকরা নারায়ণপুরে আসেন না, আমাদের এলাকার নিউজ করেন না। আপনাদের এখানে আনার জন্য আমি ভিডিও করি। আমি বোকাসোকা মানুষ। আমার ভুল হতেই পারে। আপনারা আমাকে ট্রোল করেন এতে আমার কষ্ট নেই। আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক।
‎ভাইরাল তাইজুল।

‎২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত ওই ভিডিওটি ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে তাকে স্থানীয় একটি দোকানে গিয়ে জিলাপি বিক্রি নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়।

‎ভিডিওতে তিনি বলেন, “অনেক এখানে দোকানপাট, অনেক জিলাপি ভাজতেছে। তার কাছে আমি প্রশ্ন করবো—জিলাপি কত করে বিক্রি করে? সাদাডা কত, লালডা কত?” পরে তিনি দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে? যদি জনগণকে বলতেন তাহলে অনেক খুশি হইতাম।”

‎তাজু ভাইয়ের ফেসবুক পেজ ‘তাজু ভাই ২.০’-এ বর্তমানে প্রায় ৩১ হাজার অনুসারী রয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ লাখ (৫ মিলিয়ন) মানুষ দেখেছেন।

‎ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ ভিডিওটি বিনোদন হিসেবে দেখছেন ও প্রশংসা করছেন, আবার কেউ ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করছেন।
‎তাইজুল ইসলাম ভাইয়ের সাথে কথা বলে জানা যায়, তার পরিবারে বাবা, মা, তিন ভাই ও তিনবোন নিয়ে সংসার। দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। সংসারে তাইজুল সবার বড়। বাকিরা পড়াশোনা করছে। নিজের বাড়িভিটা নেই। অন্যের ভিটায় বসবাস করেন। বাবা-মা শ্রবণ প্রতিবন্ধী। মা রাস্তায় মাটির কাজ করেন। অভাবী সংসারে তাইজুল ঢাকায় নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তিন/চারমাস কাজ করে যখন বাড়িতে আসেন তখন তিনি ভিডিওর কাজ করেন। মূলত: বিনোদন প্রেমি তাইজুল গান বাজনার দলের সাথে থাকতে পছন্দ করেন। সংসারের দু:খ কষ্ট ভুলতে তিনি এধরনের কাজে যুক্ত হন। প্রত্যন্ত এই এলাকায় আসতে চারটি নৌঘাট পাড়ি দিতে হয়। ফলে সাংবাদিকসহ কেউ এখানে আসেন না। নিজে সাংবাদিক নয় পরিচয় দিয়ে তিনি জানান, মনের কষ্ট ভুলতে এবং এলাকার উন্নয়নে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তিনি ভিডিও করেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন:নাটোরে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ করায় ব্যবসায়ীকে লাখ টাকা জরিমানা

দেখুন:আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে জ্বালানি তেলের দাম 

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন