২৫/০২/২০২৬, ২০:৩৬ অপরাহ্ণ
27.6 C
Dhaka
২৫/০২/২০২৬, ২০:৩৬ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

অর্থাভাবে থমকে যাওয়া স্বপ্নের পাশে আবারো ছাত্রদল নেতা বাসিত

আর্থিক সংকট যেন এক মেধাবী স্বপ্নের পথে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। লালমনিরহাটের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী মোঃ মুনায়েম ইসলাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ভর্তির সুযোগ পেলেও অনিশ্চয়তায় পড়েছিল তার উচ্চশিক্ষা। অবশেষে সেই অনিশ্চয়তার মেঘ কাটিয়ে আশার আলো হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত।

বিজ্ঞাপন

​২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) ভর্তি পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রেখে মুনায়েম ইসলাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি’ বিভাগে প্রথম মেধা তালিকায় স্থান পান। কিন্তু শ্রমজীবী পরিবারের সন্তান মুনায়েমের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফি ও আনুষঙ্গিক খরচ জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। ​সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে ছাত্রদল নেতা কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত মানবিক উদ্যোগে মুনায়েমের ভর্তির সম্পূর্ণ আর্থিক ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রনেতা আমিরুল ইসলাম বাবু, মোঃ রাসেল মিয়া, মিনহাজুল আলম, ইয়াসির আরাফাত, সোলাইমান খান সাগর ও ইমরান হোসেনের উপস্থিতিতে মুনায়েমের ভর্তি প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়।

​নতুন জীবনে পা রাখা মুনায়েম ইসলাম তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, “সহযোগিতা না পেলে তার পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া সম্ভব হতো না। ভবিষ্যতে ভালোভাবে পড়াশোনা শেষ করে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে মানবিক সেবার মাধ্যমে এই সহায়তার প্রতিদান দিতে চান বলেও জানান তিনি।”

কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিতের এই মানবিক উদ্যোগ এবারই প্রথম নয়। গত বছরও (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে) তিনি কুড়িগ্রাম জেলার খন্দকার রাসেল ও নীলফামারি জেলার রাকিব খান সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বেশ কয়েকজন অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীর ভর্তির দায়িত্ব নিয়েছিলেন। বিশেষ করে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার দিনগুলোতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য বিনামূল্যে ‘মেডিকেল ক্যাম্প’ ও ‘হেল্পডেস্ক’ পরিচালনা করে দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়েছিলেন তিনি।

​এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত বলেন, “ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা ও মেধার মূল্যায়নে সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মুনায়েমের মতো মেধাবীরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে। আর্থিক সংকট কোনো মেধাবীর স্বপ্নভঙ্গের কারণ হতে পারে না—সেই দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা তার পাশে দাঁড়িয়েছি।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “ছাত্রদলের রাজনীতি কেবল অধিকার আদায়ের নয়, বরং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার। তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় আমরা মেধার মূল্যায়নে বিশ্বাসী। গত বছর যেমন বেশ কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছিলাম, এবারও মুনায়েমের পাশে দাঁড়িয়েছি। অর্থাভাবে কোনো মেধাবীর স্বপ্ন মুখ থুবড়ে পড়বে—এটি আমাদের কাম্য নয়।”

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সচেতন মহলে ছাত্রদলের এই মানবিক উদ্যোগটি বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। মেধার মূল্যায়ন ও আর্তমানবতার সেবায় এমন কর্মকাণ্ড ছাত্ররাজনীতির ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন অনেকে।

​বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ছাত্রদলের এই ধারাবাহিক মানবিক কর্মকাণ্ডকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, ইতিবাচক এমন কর্মকাণ্ড ছাত্ররাজনীতির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও সম্মান আরও বাড়িয়ে তুলবে।

পড়ুন:প্রধান শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় যুবদল নেতা সব পদ থেকে বহিষ্কার

দেখুন:পিরোজপুরে নিজ ঘরে বৃদ্ধা সাথে যা ঘটলো 

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন