সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে আর পি সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগ আয়োজন করেছে এক মানবিক কর্মসূচি। এ কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অসচ্ছল কর্মচারীদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। উদ্যোগটি বাস্তবায়নে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করে রূপালী ব্যাংক পিএলসি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মনীন্দ্রকুমার রায়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক টিভি-এর সহযোগী নির্বাহী প্রযোজক আসিফ রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক তানজিল হাসনাইন মঈন রনীত।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট-এর জিএম রেজাউল করিম, আইকিউএসি-এর পরিচালক, সিআরআইআর-এর পরিচালক, বিজনেস, ইঞ্জিনিয়ারিং ও কলা অনুষদের সম্মানিত ডিনবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।

সভাপতির বক্তব্যে তানজিল হাসনাইন মঈন রনীত বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেবল পাঠদানেই সীমাবদ্ধ নয়; সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা পালনও তার অন্যতম দায়িত্ব। তিনি জানান, ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। শনির আখড়ার জামিয়াতুল শিফা মাদ্রাসায় অন্ধ ও এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য ঘরের চাল প্রদানসহ নানা মানবিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
বিশেষ অতিথি আসিফ রহমান বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়। গণমাধ্যমের দায়িত্ব হলো মানবিক কর্মকাণ্ড গুলোকে তুলে ধরা, যাতে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়। তিনি আরো উল্লেখ করেন, তাঁর প্রতিষ্ঠিত আলা হযরত সুন্নিয়া মাদরাসা এর চ্যারিটির মাধ্যমে নেত্রকোনার বারহাট্টায় দরিদ্র ও এতিম শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা প্রদানে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. মনীন্দ্রকুমার রায় তাঁর বক্তব্যে বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্বের অংশ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখে, তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহমর্মিতা ও সামাজিক সচেতনতা আরও বিকশিত হবে।
অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের দরিদ্র কর্মচারীদের হাতে কম্বল তুলে দেন এবং দরিদ্র মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্যও সহায়তা প্রদান করা হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে মানবিক মূল্যবোধ চর্চা ও সহমর্মিতার সংস্কৃতি আরও বিস্তৃত করবে।
উল্লেখ্য, রূপালী ব্যাংক পিএলসি ফ্যাশন বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে নিয়মিত পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করে আসছেঝ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করে, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে মানবিক মূল্যবোধ ও সহমর্মিতার চর্চা আরও বিস্তৃত করবে এবং অসহায় মানুষের কষ্ট লাঘবে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।


